বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় করণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় শিক্ষক সমাজ

৪৮ বার পঠিত

মোঃ আজিজুর রহমান আযম: শিক্ষকতা একটি মহান পেশা । দুনিয়াতে এমন আর একটি পেশা নেই যা সম্মান ও ইজ্জতের দিক থেকে শিক্ষকতা পেশার সমান । কিন্তু বাংলাদেশ ব্যতীত দুনিয়ার সব উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের সরকার এবং জনগণ শিক্ষকদের খুবই সম্মানের চোখে দেখে থাকে। লোক মুখে শুনেছি বৃটেনে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির আগে শিক্ষকের গাড়িকে যেতে সাইড দেওয়া হয় । সব উন্নত দেশে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা পেশাগতভাবে সবার উপরে । তাদের বেতন কাঠামো , বাসস্থান , উন্নত যানবাহন , গবেষণার জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় । যা আমাদের মত অনুন্নত দেশের শিক্ষকদের জন্য সোনার হরিণ মাত্র । এমনকি পাশর্^বর্তী সার্কভূক্ত দেশ গুলোর শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ- সুবিধা অনেক বেশী।
শিক্ষকদেরকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু চরম দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশ ব্যাতিত পৃথিবীর এমন খুব কম দেশেই আছে যেখানে শিক্ষকদের চরম বঞ্চনার শিকার হতে হয় । তার জ্বলন্ত প্রমাণ গত ২৭ নভেম্বর ২০১৬ সালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে সে কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের কর্মরত একজন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে(৫৫) পুলিশের লাঠি পেটায় প্রাণ হারাতে হয়। (ইন্না লিল্লহহি ……. রাজিউন)। ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ দাবি আদায় কমিটির আহবায়ক উক্ত কলেজের শিক্ষক এস, এম আবুল হাশেম গণমাধ্যমকে এ তথ্য দেন। এ ছাড়া উক্ত ঘটনায় ফুলবাড়িয়া কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াও আহত হন শতাধিক ছাত্র- শিক্ষক-পথচারী। জনাব আবুল কালাম আমাদের ৫ লাখ এমপিও ভূক্ত শিক্ষদের মধ্যে একজন হতভাগ্য শিক্ষক । আমরা সারাদেশের বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারি , অভিবাবক, শিক্ষার্থী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই । গতকাল দুপুর থেকে সমগ্র ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসী এ পৈশাচিক ও ন্যাক্কার জনক ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে যায়। আমরা সারদেশের বেসরকারি শিক্ষক সমাজ , অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে এর দ্রুত বিচার দাবি করছি। অন্যথায় সাদেশের ৯৮ শতাংশ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন সহ এর প্রতিবাদে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা যুলিয়ে দিয়ে তাঁদের ন্যায্য দাবীর ব্যাপারে মাঠে নেমে পড়বে এবং এতে বর্তমান সরকারের ভাব মূর্তি দারুণভাবে ক্ষুন্ন হবে। সরকারের বড় বড় অর্জনগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। বর্তমান শিক্ষাবান্দব সরকারের মানণীয় প্রধান মন্ত্রী, দেশ রতন , ডটার অব পিস বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনার নিকট সমগ্র বেসরকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবী দেশের এমপিও ভূক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়কণের ঘোষণার দিন । প্রাক্তণ শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান মহোদয় বেসরকারী শিক্ষক জাতীয় করণের কথা বলে শিক্ষকদের আলোর মুখ দেখিয়ে বিদায় নিলেন। তাঁর বিদায়ের পর বিষয়টি আর এগোয়নি। তিনি শিক্ষক সমাজে তাঁরা হয়ে বেঁচে থাকবেন বা আছেন। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ দেশের সমগ্র বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দিক নির্দেশনা ছিল। বঙ্গবন্ধু কণ্যা তিন তিনবারের সফল মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাক্তন শিক্ষা সচিব এন আই খানের নিকট দেশের সমগ্র বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে কত টাকা লাগবে তার হিসাব চেয়ে ছিলেন। প্রাক্তন শিক্ষা সচিব নেত্রীকে সেই হিসাবও দিয়ে ছিলেন। জনপ্রিয় ”দৈনিক শিক্ষার ”মারফত সমগ্র শিক্ষক সমাজ তা অবলোকন করেছেন এবং আশার প্রহর গুণেছিল । কবে মাননীয় সুযোগ্য প্রধান মন্ত্রীর নিকট থেকে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে । কিন্তু সেটা আর আলোর মুখ দেখেনি । বাংলাদেশ এখন নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশ। ভিশন-– ২০২১ বাস্তবায়নে দেশ ক্রমাগতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাবে।বর্তমানের দেশের মাথা পিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার । দেশের পদ্মা সেতুর মত অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে । বিশ ব্যাংকে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে সেটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু বর্তমানে দৃশ্য মান। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বৎসর পরও  হতাশার বিষয় বেসরকারী শিক্ষকদের জীবন মানের কোনো উন্নতি হয়নি ।২০১৫ এর ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় বেতন গেজেটে বেসরকারী শিক্ষকদের হল বেসরকারী শিক্ষক সমাজ কিন্তু ব্যত্যয় ঘটল অন্যান্য ন্যায্য সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে। পুরানো ধাচের উৎসব ভাতা এখনও চালু আছে বেসরকারী শিক্ষকদের । বেসরকারী শিক্ষক সমাজ অধ্যক্ষ থেকে পিয়ন পর্যন্ত বাড়ী ভাড়া পান থোক বরাদ্দ ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা পান ৫০০ টাকা। বেসরকারী শিক্ষকরা মানণীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নববর্ষ ভাতা থেকে বঞ্চিত হলো। প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী জুলাই ২০১৬ হতে নতুন ভাবে ইনক্রিমেন্ট প্রথায় অন্তর্ভূক্ত হলো বাদ পড়ল সমাজের সে সব মর্যদাকর ব্যক্তিরা । আজও তাঁরা ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পাবে কিনা তাও পরিষ্কার নয়। আরও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় কলেজ পর্যায়ের একজন শিক্ষক অনার্স মাষ্টার্সে এ ভালো ফলাফল করা সত্ত্বেও এবং সাথে অনেকেই এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও কোটা প্রথার কারণে সারা জীবনেই প্রভাষক হিসেবে চাকুরি কাল শেষ করতে হয়। বেসরকারী শিক্ষকদের বেলায় সবচেয়ে নির্মম ব্যাপার হল বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, নববর্ষ ভাতা, টিফিন ভাতা, শিক্ষা ভাতা, পাহাড়িয়া ভাতা, বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কোনটাই সর্বশেষ ঘোষিত পে-স্কেলের মূল বেতনের সাথে সমন্বয় করা হয়নি। আমরা বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার কে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইযে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষা খাতে জাতীয় আয়ের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ প্রতি বছর জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা অত্যন্ত যৌক্তিক। কিন্তু  চরম দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ আছে বর্তমানে ২.২৭ শতাংশ, যা আমাদের সার্কভ’ক্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় নঘন্য। তাই দেশে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে হলে এবং উন্নত দেশের কাতারে পৌছতে হলে দেশের ৯৮ ভাগ শিক্ষা কার্যক্রম অর্থাৎ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় করণ করা এখন সময়ের দাবী। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার যদি সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারেন তাহলে শিক্ষার ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

লেখক: মোঃ আজিজুর রহমান আযম
সহকারী অধ্যাপক, যুক্তিবিদ্যা বিভাগ, দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ সদর, লক্ষ্মীপুর

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com