রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প : সুন্দরবনের ক্ষতি না করেই বাস্তবায়ন

৭২ বার পঠিত

রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট দুর্নীতির জোর প্রচারণা চালিয়েছিলো আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার আনুকূল্যে সেই সময়ে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও দুর্নীতির কাহিনী অগ্রাধিকার পেয়েছিলো। সরকারের কোনো যুক্তি না মেনেই, সরকারকে কোনো সুপারিশ না দিয়েই একতরফা দোষারোপ আর অভিযোগ দায়ের চলেছিলো ধারাবাহিকভাবে। সরকারের লুণ্ঠন, দুর্নীতি আর জনগণের ক্ষতির মনগড়া অভিযোগে সরকার পতনের ডাক প্রচার পেয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সরকার শুধু সফলই হয়নি, লোডশেডিং দূর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। একইভাবে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের আগেই আওয়ামী লীগ সরকার সংশ্লিষ্টদের কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগ করে বিশ্বব্যাংকের সুরে তাল মিলিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট এবং কিছু বামদলসহ বিরোধী পক্ষ প্রবল প্রচারণায় মেতে উঠেছিলো সুন্দরবনের বিরুদ্ধে। বারবার সভা করেও, সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ব্যাখ্যা দিয়েও বিরোধী পক্ষের সমর্থন পাননি। জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছিলো সরকারের ‘দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত মিথ্যা অপবাদে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে বিদায় নিতে হয়েছে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তা। তাতেও বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট হয়নি। ঝুলিয়ে রাখা সমস্যা নিয়ে অপরাজনীতির সুযোগ না দিয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে যাবতীয় অপপ্রচার ও অপব্যাখ্যার সঠিক জবাব দেন ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে। তিনি স্বাধীন দেশ ও সংগ্রামী জনগণের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে নিজ অর্থে পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সুদৃঢ় ঘোষণা দিলেন। স্বস্তি পেলো জনগণ, সাহস ফিরে পেলো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হলো স্বউদ্যোগে পদ্মাসেতুর বাস্তবায়ন। এগিয়ে এলো জাপান-চীনসহ বিভিন্ন দেশ। বর্তমানে সরকারের শত্রুপক্ষ ও বিএনপি-জামায়াত জোটের অপপ্রচারের বিপরীতে পদ্মাসেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে পুরোদমে। ২০১৯ সালে এ সেতুর উপর দিয়ে চলবে গাড়ি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য স্থিতিশীল রাজনীতি ও যাবতীয় ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থাকা প্রয়োজন হলেও দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসসহ নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারণামূলক তৎপরতা লেগেই আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস, ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে জনমত গঠন করেছেন এবং জঙ্গিদের আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও পরাজয়ের আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। আইএস-এর অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্কের প্রচেষ্টাও প্রতিহত করেছেন। তাতে জনগণের আস্থা বেড়েছে। এরপরও সুন্দরবন হতে ১৮ কিলোমিটার দূরে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে হঠাৎ করে সোচ্চার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। চিহ্নিত বামদল ও কতিপয় বাম বুদ্ধিজীবী পরিবেশ সুরক্ষার নামে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিতে নিবেদিত হয়েছেন। তারা হয়তো জানেন, আওয়ামী লীগ সরকার পরিবেশবান্ধব হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ ও প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করেই জনগণের অব্যাহত বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বেশ উদ্যোগী। এ সরকার ওসমানী উদ্যানও ধ্বংস করেনি। সুন্দরবনও ধ্বংস করবে না। এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুন্দরবন বাংলাদেশে বিশ্বপ্রাকৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন। সরকার তা জানে। সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে ঢুকে তা ধ্বংস না করার চুক্তি হয়েছে জাতিসংঘস্থ ইউনেস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশের। পরিবেশবাদীরা ইতোপূর্বে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে বিমানবন্দর নির্মাণের সরকারি প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করে মামলা খেয়েছেন। কিন্তু থেমে নেই সরকারের উন্নয়নপ্রচেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন, নন ইস্যুকে ইস্যু করে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাহলে কঠোর হাতে দমন করতে তিনি পিছপা হবেন না। দেশ ও জনগণের ক্ষতি করে তিনি কোনো কাজ করবেন না। সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি না করেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হবে। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়ারা এখন পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংসের বিভ্রান্তিকর ইস্যু নিয়ে রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে তৎপর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে কোনো সুপারিশ থাকলে, সুপরামর্শ থাকলে সাদরে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিক্ষুব্ধ করলে তা সহ্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্য ‘উদ্ভট, বানোয়াট ও অসত্য’। তার বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের চাকাকে পেছনে ঘোরাতেই পুরোনো ধারার বক্তব্য দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালেই আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে ইউনেস্কো কর্তৃক সুন্দরবন বিশ্বঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করেছিলো। সুতরাং শেখ হাসিনার পরিবেশ ও প্রকৃতি সচেতনতা প্রশংসনীয়। মায়ের চেয়ে মাসির বেশি দরদের মতো খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে সুন্দরবন ধ্বংসের কল্পিত অভিযোগে বিক্ষুব্ধ করার পাঁয়তারা করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে শতাধিক লোক হত্যা করেছে এবং পরিকল্পিতভাবে অসংখ্য মানুষের ক্ষতি সাধন করেছে। সেই সময় মানুষ রক্ষায় প্রতিবাদী না হয়ে চিহ্নিত পরিবেশবাদীরা চুপ থেকেছেন। বায়তুল মোকাররমে অগ্নিসংযোগে কোরান শরিফ পোড়ানো আর বৃক্ষকর্তনের পরও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আর পরিবেশবাদী বামপন্থীরা চুপ ছিলেন। এখন সাম্রাজ্যবাদীদের অর্থায়নে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছেন চিহ্নিত বামবুদ্ধিজীবী ও বামদল। সেই সূত্র ধরে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া দল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অপপ্রচার তুঙ্গে উঠেছে। মানুষের কল্যাণে, দেশোন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নিলেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার তুঙ্গে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন এবং এ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিয়েছেন। বিশ্বের উন্নত দেশ আমেরিকা, ফ্রান্স, চীন, জাপানও মানুষের কল্যাণে যে সব দেশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছিলো, এ সংক্রান্ত ছবিও তিনি প্রদর্শন করেছেন সংবাদ সম্মেলনে। সুন্দরবনে যাতে দূষণ না হয় সে জন্য আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার যা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত ও বিশ্লেষকের অভিমতনির্ভর। এ ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে। উন্নয়নবিরোধী মহল অভিযোগ ও মনগড়া বক্তব্য দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারবে না। মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণার মূলোৎপাটনে প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলন সহায়ক হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়নে রোডমার্চ করা, জনসমাবেশ করা সম্পর্কে সরকার সতর্ক ও সচেতন রয়েছে। কয়লা নির্ভরযোগ্য জ্বালানি। ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চীন, জাপান ও ভারত তাদের মোট বিদ্যুতের ৪০ থেকে ৯৮ শতাংশ কয়লার মাধ্যমে উৎপাদন করেছে। বাস্তবে বাংলাদেশে মাত্র ১ শতাংশের (০১.৩৩) সামান্য বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই রামপালে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত সাত বছরে সরকার বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রধান জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাস। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এবং মূল্য ও প্রাপ্তির বিষয় বিবেচনায় রাখলে কয়লা সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য জ্বালানি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে বাংলাদেশের অর্জন ও উন্নয়ন আরো শীর্ষ পর্যায় লাভ করবে। ভবিষ্যতে গ্যাসের মজুদ দ্রুত কমে আসবে। সে জন্য সরকার দেশে কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। রামপালে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্যতম। এ বিষয়ে দেশের স্বার্থে যেখানে সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার কথা সেখানে মহল বিশেষের বিভ্রান্তি ছড়ানোর তৎপরতা অবশ্যই ষড়যন্ত্রমূলক ও দুরভিসন্ধিমূলক।

বিএনপি অতীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দু’বার সরকার পরিচালনা করেও বিদ্যুৎ বিষয়ে জনহিতকর উদ্যোগ নেয়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পিত প্রয়াস না নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি আমদানি করেছিলো কেবল। বিদ্যুতের হাহাকার ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং জনগণ ভোলেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে ক্রমাগত। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুতের জন্য আন্দোলনকারী জনগণের উপর হামলা চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিলো। সেই খালেদা জিয়া এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানের কয়লাভিত্তিক সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে মায়াকান্না করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার। জনগণের লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা করে ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেই সরকার এগিয়ে চলেছে জনচাহিদা পূরণে। জনচাহিদা পূরণেই আওয়ামী লীগ কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে সফল হয়েছিলো। এবারও সফল হবে সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে। একেকটি বড় ধরনের প্লান্ট করতে প্রায় এক দশক সময় লেগে যায়। সেই সময়ে বিরোধিতাকারীরা এখনো পরিবেশ সুরক্ষার নামে নতুনভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জনগণের বিরুদ্ধে। বিগত সাড়ে সাত বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। ১০৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সরকার ৭৮ শতাংশ মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করেছে এবং এক কোটি বারো লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছে। এ সব উন্নয়নে তুষ্ট নয় আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী পক্ষ। সরকার কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে রামপাল, মাতারবাড়ি, পায়রা, আনোয়ারা, বাঁশখালী, খুলনা ও মুন্সিগঞ্জে। এ সব স্থানে বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও সিঙ্গাপুর। রামপালে হবে অত্যাধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সুন্দরবনের দূষণ রোধ হবে। সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা পোড়ানোর চেয়ে দ্বিগুণ দক্ষতাসম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট হলো আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট। উন্নত প্রযুক্তি অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপালের ক্ষেত্রেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তবের পর ‘তেল-গ্যাস জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটি’র পক্ষে আনু মুহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী হয়েছেন। পরিবেশবাদী আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন। দূষণ প্রতিরোধে সর্বাধিক প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার। তাহলে ভ্রান্ত ধারণা দূর হবে। সুন্দরবন ধ্বংসের অভিযোগ সম্পর্কেও বিভ্রান্তি দূর হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের এক দশমাংশ ভারতে চলে যাবে এবং মসজিদ হতে উলুধ্বনি শোনা যাবে বলে যে অপপ্রচার চালিয়েছিলেন অতীতে খালেদা জিয়া সেই অপপ্রচারের ধারায় কুইক রেন্টাল ও পদ্মা সেতুর অপপ্রচারের পর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়েও নতুন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। জনগণ এ সব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবে না শেষ পর্যন্ত। এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোর দায়বদ্ধতা রয়েছে তথ্যপ্রমাণসহ প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে। দেশের উন্নয়ন, জনগণের প্রয়োজন গুরুত্ব দিয়েই গণমাধ্যমকর্মীদের এবং সমাজের সচেতন অংশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে গৃহীত সরকারি উদ্যোগকে প্রতিহত না করে সমর্থন ও সহায়তা করা প্রয়োজন। বর্তমানে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য প্রয়োগ করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। অতীতে নদীর তীরে, শহরের নিকটে, বনভূমির নিকটে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলো জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ উন্নত দেশগুলো। এখন তারা অগ্রসর, উন্নত ও আধুনিক। বাংলাদেশও চায় আরো অগ্রসর হতে, উন্নত ও আধুনিক হতে। অপপ্রচারের ফলে বিদ্যুৎ প্রকল্পে এক্সিম ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করলে সরকার পদ্মাসেতুর মতো নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নেওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি হাউজিং কোম্পানিগুলোকে জলাধার, বাগান ও মাঠের ব্যবস্থা রেখে বিল্ডিং তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে-সেখানে শিল্পকারখানা করার বিরোধী, চাষের জমি ও জলাধার সংরক্ষণেও বদ্ধপরিকর। তার পরিবেশবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়। মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ছাদের ওপর সবজি চাষ করলে ব্যাংক ঋণ দিয়ে সহায়তা করা হবে। সুন্দরবনের আয়তন আরো বাড়বে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে। গাছের ঘনত্ব ও সবুজ বেষ্টনী বাড়াতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। ভূমিক্ষয় রোধ আর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগী। শহরের সৌন্দর্যায়ন ও সবুজায়নে রাস্তার পাশে, ডিভাইডারের উপরে বনভূমি বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত প্রশংসনীয়।

গার্মেন্টস শিল্পকারখানা নদীর ওপারে নিয়ে যাওয়া, নদীতীর হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ আর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও প্রশংসনীয়। নদী দখল করে নাব্যতা সৃষ্টি এবং রাসায়নিক শিল্পবর্জ্য হতে নদীকে রক্ষার উদ্যোগ অবশ্যই পরিবেশবান্ধব সরকারের দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পগুলোর বিরোধিতার রাজনীতি ন্যক্কারজনক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়নের দৃষ্টান্ত তিনি তুলে ধরে সচেতন করেছেন জনগণকে। সচেতন জনগণকে বিভ্রান্তির রাজনৈতিক উদ্যোগ তিনি নস্যাত করেছেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করে তিনি পরিবেশ রক্ষা এবং সুন্দরবন ধ্বংস না করেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ইতিবাচক ও দূরদর্শী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সফল হবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন উন্নত দেশের কাতারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। তার অঙ্গীকার অনুযায়ী সুন্দরবনের ক্ষতি না করেই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শত্রুপক্ষের অপপ্রচারের বিপরীতে আস্থা ও সুনাম আরো বাড়বে এবং জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতায় সরকার আরো টেকসই হবে।

লেখক :: কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক
ratantanukc@yahoo.com

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com