কলেজ শিক্ষার্থীরা রাজপথে কেন ? ।। এম নজরুল ইসলাম নয়ন

৭২ বার পঠিত

বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা ও গণতন্ত্রের মানষকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা ও সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ১৯৯টি কলেজ জাতীয়করনের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন উপজেলার জাতীয়করণ বঞ্চিত কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে। দফায় দফায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বিক্ষিপ্ত অন্দোলনে রাজপথে নামলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে শঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এজন্য দ্রুত সংকট নিরসন দরকার।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করার পর বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের শরীরের তাজা রক্ত দিয়ে অন্য রকম এক প্রতিবাদ করেছে। গত ২৪জুলাই কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষ কার্যালয়ের সামনে এঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় তাদের শরীর থেকে নেয়া তাজা রক্ত নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে “হাটহাজারী কলেজ সরকারি চাই” লিখে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন, সর্বদলীয় ছাত্র-ছাত্রী ঐক্য পরিষদ এর সভাপতি মিজানুর রহমান, সাকেরিয়া চৌধুরী সাগর, ইব্রাহিম মনির তাসিফ, আমিরুল ইসলাম, আবু সাঈদ, আলি হায়দার দিসান, হেলাল উদ্দীন, ইফতেখার গালিব প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাটহাজারী কলেজে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও অধিক ছাত্র-ছাত্রী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেবও কলেজটিকে জাতীয়করণ করা না হলে ছাত্ররা রাজপথ থেকে ঘরে ফিরবে না। কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা নানা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছে। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির ছবি দিয়ে ফেসবুক ও টুইটের পাতা ভরে গেছে। কমেন্টের ফাইলে একটাই বাণী‘‘ জাতীয়করণ চাই-জাতীয়করণ চাই”। একই ভাবে কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদশ ডিগ্রি অনার্স কলেজ জাতীয়করণ দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। নানা মহলের পাশাপাশি সরকারি দলের ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের সকল নেতাকমীরা তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর দরজায়।

সৌভাগ্যবানদের স্বস্তির দেখা মিলতে পারে। গত ১লা আগষ্ট দৈনিক শিক্ষা পত্রিকার জাতীয়করণ পাতায় দেখলাম, বিক্ষিপ্ত মনে স্বস্তি ফেরানোরমত একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে উল্লেখ করেছে, জাতীয়করণের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরোও কয়েকটি স্কুল ও কলেজ। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আরোও কয়েকটি স্কুল-কলেজ প্রাথমিক সম্মতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরিই পরিদর্শনের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে বলা হবে এবং নিয়োগ ও সম্পত্তি’র ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হবে বলেও সংবাদে উল্লেখ রয়েছে। জাতীয়করণ তালিকায় নাম না থাকায় প্রতিদিনই স্কুল কলেজের প্রধান শিক্ষক বা সহকারি শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করছেন। যারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দালাল বা কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিলেন কিন্তু তালিকায় নাম ওঠেনি তারা খুবই দুশ্চিচিন্তায় রয়েছেন।

বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার প্রাণকেন্দ্র শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ড ঘেঁষা সবচেয়ে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজটি প্রথম পর্যায়ে জাতীয়করণে তালিকাভূক্ত না করায় এলাকার জনসাধারনের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় শুধু শিক্ষার্থীরা নয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিরাও ক্ষুব্ধ। তারা আশা করেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা কলেজটি জাতীয়করণ করবেন। কিন্তু তাদের সেই আশা নাকি ভেস্তে যেতে বসেছে।

প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে ১৯৯টি কলেজ জাতীয়করনের একটি তালিকা প্রকাশিত হলে মনসুর হোসের ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশাল একটি মানববন্ধন নিয়ে রাজপথে নামে। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, অর্ধশত শিক্ষক ও এলাকার পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, ব্যবসায়ীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মানববন্ধনে অংশ নেয়। তাদের দাবি ছিলো, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপে নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজটি জাতীয়করণ করবেন। কলেজটি ৫দশমিক ৪১একর জমির উপর অবস্থিত। বিশাল খেলার মাঠ, তিন তলা বিশিষ্ট ভবনসহ জাতীয়করণ করারমত সকল কিছুই থাকা সত্ত্বেও কলেজটি জাতীয়করণ হয়নি। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন কলেজটি জাতীয়করণ হবে কিনা-তা জানতে চান শিক্ষানূরাগী মহল।

গত ২৭জুলাই মানববন্ধনের আগের দিন ২৬জুলাই মনসুর হোসেন ডিগ্রি জাতীয়করণের দাবিতে বগুড়া জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কলেজটি জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন উপজেলা ছাত্রলেিগর সভাপতি আবু সাঈদ। এসময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সবুজ, সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সাহেদ, আব্দুল বারী বাবু, সমাজ সেবা সম্পাদক মশিউর রহমানসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয়করনের তালিকায় নাম না থাকায় সারাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাদশা।

নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক জুলফিকার আলী ভূট্রো বলেন, জাতীয়করণ করারমত সকল কিছুই থাকা সত্ত্বেও কলেজটি জাতীয়করণ তালিকায় নেই। উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন কলেজটি জাতীয়করণের তালিকায় না থাকায় শিক্ষানূরাগী ব্যক্তিসহ কলেজের শিক্ষক/শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ প্রত্যেক বছর ফলাফলের শীর্ষে থাকে। শিক্ষার সুপ্রসার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ আবশ্যক।

জাতীয়করণের দাবিতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম অনার্স কলেজের শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করেছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজে এইচএসসি, ডিগ্রি ও ৮টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়নি। জাতীয়করণের তালিকায় নাম না আসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা লাগাতার বিক্ষোভ, মিছিল, মানববন্ধন, র্যালি প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছে।

সচেতন মহলের অভিমত, সারাদেশে বেসরকারি কলেজসমূহকে সরকারীকরণের যে উদ্যোগ বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে একটি ভাল ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগ সরকারকে এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকার ১৯৯টি কলেজকে সরকারীকরণের ঘোষণা এসেছে। কিন্তু অত্যন্ত কষ্টের সাথে লক্ষ্য করলাম জাতীয়করণ তালিকায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন কলেজগুলোর নাম নেই। জাতীয়করণের তালিকাভূক্ত না হওয়ায় সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সচেতন মহল ও শিক্ষকমন্ডলীদের সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আর তাতে দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়নে যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন তার ব্যত্যয় ঘটার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা আত্মীকরণ-আত্মীয়করণে পরিণত হয়েছে। তাই জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর নিকট শিক্ষানূরাগী মহলের আকুল আবেদন, জাতীয়করণের চলমান পক্রিয়ায় তালিকায় পাদ পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করে এলাকাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা গ্রহণে যথাযথ ব্যবস্থা করিবেন।

দেশবাসীর পক্ষে দাবি রইলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিক্ষিপ্ত শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা ও চলমান সংকট নিরসনে যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি। নন্দীগ্রাম উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, গণতন্ত্রের মানষকন্যা ও দেশবাসীর আস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সেইসাথে জাতীয়করণ তালিকায় বাদ পড়া দেশের বিভিন্ন উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন ও সুশিক্ষায় এগিয়ে চলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকাভূক্ত করার অনুরোধ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আপনি নিশ্চয় জনগনের দাবি পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশাবাদী।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট
০১৭৭৪৬১৪৭১৯

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com