রুপি বাতিলের প্রভাব ঢাকাতেও

৫২ বার পঠিত
ভারতের ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট নিয়ে দেশের ক্ষুদ্র মুদ্রা ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগতভাবে কাছে রাখা মানুষগুলো বিপাকে পরেছেন। অনেকেই কম দামে বাধ্য হয়ে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বিক্রি করছেন। ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোটের লেনদেন নিষিদ্ধ করায় দেশে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি এসব ভুক্তভোগীদের। এই নোট নিয়ে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকার কারণে একটা ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে। বুধবার (৯ নভেম্বর) সরেজমিনে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

এদিকে, ভারতীয় এই রুপির নোট নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের বাজারে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পরবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পর্যটকরাও বিষয়টি নিয়ে বেশ ঝামেলায় রয়েছেন। দেখা যায়, ভারতের ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট ৭০ থেকে ৯০ শতাংশে বিক্রি করছেন অনেকেই। কেউ কেউ কোনো দিক-নির্দেশনা বা কিছু বুঝে উঠতে না পেরে মুখ মলিন করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই দাবি করছেন, আর্থিক ক্ষতিতে পরতে হচ্ছে তাদের। টঙ্গী থেকে আসা আরিফুল হাসান বলেন, আমার কাছে ৫০০ ও ১০০০ রুপির মোট ১০ হাজার নোট আছে। সমান দামেও কেউ কিনছেন না। তাদের এই রুপির নোট বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে।

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত দুই দিন আগেও ১২০ শতাংশ হারে ৫০০ ও ১০০০ হাজার রুপির নোট বিক্রি করেছি। অথচ ভারতের ওই ঘোষণার পরই সব চিত্র বদলে গেছে। অনেকে তো ভয় করে অর্ধেক দামে বিক্রি করে যাচ্ছে। রুপির নোট বিক্রেতা সেজে অনেক মুদ্রা ব্যবসায়ীর কাছে এই প্রতিবেদক গেলে অনেকেই অর্ধেক দাম বলে। কেউ কেউ ভয়ও দেখান। কেউ আবার বেশি টাকার লোভ দেখানোর পর নিজেকে আড়াল করে চলে যান। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, ভারতের এটা অভ্যান্তরীণ বিষয়। তবে এ নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় কোনো প্রভাব পরবে না।

এ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, দেশের ক্ষুদ্র মুদ্রা ব্যবসায়ী ও যাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে রুপির নোট আছে তাদের বিষয়ে সরকারের একটা নিজস্ব বক্তব্য থাকা উচিত। এসব বিষয়ে ব্যাংকগুলো কী ভূমিকা রাখবে এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা যমুনা নিউজকে জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তবে শিগগিরই তা জানা যাবে। একাধিক পর্যটন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদককে জানানো হয়, ভারত থেকে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক কী করবেন সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কিছুই বলতে পারছে না।

গতকাল মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) ভারত সরকার দেশটিতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোটের লেনদেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল ওইদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এ ঘোষণা দেন। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) এর পরিবর্তে নতুন করে ৫০০ ও ২০০০ রুপির নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com