আঙুলগুলো নাড়াতে পারলেও ভাঁজ করতে পারছেন না

সেই আবুল বাজনদারের হাতে-পায়ে আর শিকড়ের মতো মাংসপিণ্ড নেই। শনিবার দুপুরে চিকিৎসকরা তার দুই হাতের ব্যান্ডেজ খুলেছেন। হাতে মলম লাগিয়ে দিয়েছেন। তার ওপরে একটি সাদা কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। কাপড় সরালে তার আঙুলগুলো স্বাভাবিক দেখা যায়। নখেরও অস্তিত্ব রয়েছে। রয়েছে শিকড়ের মতো মাংসপিণ্ড কেটে ফেলার চিহ্ন। তিনি আঙুলগুলো নাড়াতে পারলেও ভাঁজ করতে পারছেন না।

13938614_10154557437767590_1149605761460069033_n

শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট। একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোন রিসিভ করতেই অপরপ্রান্ত থেকে একজন বলছিলেন, ‘ভাই, আমি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে আবুল বাজনদার। চিনতি পারছেন? আজ আমার হাতের ব্যান্ডেজ খুলেছে।’ খুবই উৎফুল্ল আর পুলকিতভাবে কথাগুলো বলছিলেন ‘ট্রি-ম্যান’ খ্যাত আবুল বাজনদার।

 

এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় আবুল বাজনদারের সঙ্গে। তিনি জানান, দুপুর ২টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ব্যান্ডেজ খুলে মলম লাগাতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে। এরপর আবার তাকে বেডে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তার শুভাকাঙ্ক্ষী কাজী বাহারও ছিলেন। হাসপাতালে আসার পর থেকেই কাজী বাহার তার দেখভাল করছেন। নিজের আঙুল দেখতে পেরে আবুল খুবই খুশি হয়েছেন। তাকে বারবার তার হাতের আঙুলগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

 

তিনি আরো জানান, চিকিৎসকরা যে মলম লাগিয়ে দিয়েছেন, ওই মলম কিছুদিন লাগাতে হবে। তাহলে হাতের অবস্থা আরো ভালো হবে। এখন যে কালো কালো দেখা যাচ্ছে, এগুলোও থাকবে না।

 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, তার বাঁ হাতে আরো একবার অস্ত্রোপচার করতে হবে। ডান হাতটা ভালো আছে। দুই মাসের মধ্যে আবুলের হাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদী ডা. সামন্ত লাল সেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৩৭ বার পঠিত

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com