অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন দম্পতি

৫৭ বার পঠিত

বগুড়ায় পারিবারিক শত্র“তার জের ধরে ভাই ও ভাতিজাদেরকে ফাঁসাতে অপহরন নাটক সাজাতে গিয়ে ছেলে সহ নিজেই ফেঁসে গেলেন এক দম্পতি। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপকটে স্বীকার করেছেন যে ২য় স্বামী ও ছেলের সহযোগিতায় সাড়ে ৩ বছরের শিশু কণ্যা সন্তানকে লুকিয়ে রেখে নিজেরাই অপহরন নাটক সাজিয়েছিলেন ।

রবিবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে  অনুষ্ঠিত এক প্রেসব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের এতথ্য জানান পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান(বিপিএম)।
প্রেস ব্রিফিং-এ আরো জানানো হয়, গত শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের ফুলদীঘি এলাকার নিলুফা শারমিন  রিতা (৩৫) নামের এক নারী শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ করেন যে, তার সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যা মেঘলা মানতাসা ওরফে নকসীকে কে বা কারা অপহরন করে নিয়ে গেছে।
তিনি পুলিশকে জানান, শনিবার বেলা ১১ টায় তিনি মেয়েকে আনতে  ফুলদীঘি মডেল কিন্টারগার্ডেন স্কুলে যান তিনি । মেয়েকে স্কুলের মাঠে রেখে পরিচালকের কক্ষে কিছু সময় কাটানোর পর বাইরে এসে দেখতে পান তার মেয়ে স্কুল মাঠে নেই। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করতে তৎপর হয়ে ওঠে। পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের  কঠোর নির্দেশনায় জেলা পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে।
এদিকে পুলিশী তৎপরতায় শনিবার রাত ১১ টার দিকে  শিশুটিকে কে বা কারা ফুলদীঘি এলাকায় রিতার বাবার বাড়ির সামনে রেখে যায়। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে অপহরনের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় অভিযোগকারী নিলুফা শরমিন রিতা ও তার ছেলে ফাহিম নুরে আলমকে দূর্জয়(১৪)কে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ । সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রিতা পুলিশকে তাদের সাজানো অপহরন নাটকের ব্যপারে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বিকারে করে পুরো ঘটনা বর্ননা করেন।
তার বর্ননা অনুযায়ি জানাযায়,  সাত বছর আগে ২য় বিয়ের পর রিতা তার ১ম পক্ষের ছেলে ফাহিম নুরে আলমকে নিয়ে বাবার বাড়ি বগুড়া শহরের ফুলদিঘিতে বসবাস শুর করেন। তার  ২য় স্বামী মিঠু আহম্মেদ ঢাকায় একটি কোম্পানীতে চাকুরি করেন। বাবার বাড়িতে বসবাস করতে গিয়ে ভাই ও ভাতিজাদের সাথে তার পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। একারনে তাদেরকে ফাঁসাতে তিনি স্বামীর সাথে পরামর্শ করে  নিজের শিশুকে দিয়ে অপহরন নাটক সাজান। সেই অনুযায়ি তার স্বামী মিঠু আহম্মেদ শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বগুড়ায় এসে বাসায় না গিয়ে শহরের একটি পার্কে বসে থাকেন। রিতা  তার মেয়েকে  স্কুল থেকে নিয়ে তার ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া ছেলে নক্ষত্রের মাধ্যমে শহরের পৌর পার্কে পাঠিয়ে দেয়।
এরপর শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা দুপচাঁচিয়া উপজেলার বেড়াগ্রামের শিশুটির খালা ছবি বেগমের বাড়িতে রেখে আসেন।

পরে ব্যপক পুলিশী তৎপরতায় শনিবার রাত ১১ টার দিকে খালা ও খালু গোপনে শিশুটিকে বগুড়ায় এনে বাসার সামনে রেখে পালিয়ে যায়। রিতার স্বীকারোক্তির পর পুলিশ তার স্বামী মিঠু আহম্মেদ ও ছেলে  ফাহিম নুরে আলম ওরফে দূর্জয়কে গ্রেফতার করে। এঘটনায় শহরের কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই আজিজ মন্ডল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com