গুলশান হামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী হাসনাত করিম আটক

৫৪ বার পঠিত

গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টের হামলার ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মধ্যে ছিলেন নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক প্রকৌশলী হাসনাত করিম এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। ফেসবুকে প্রকাশ হওয়া জিম্মি সঙ্কট এবং যৌথ অভিযানের কয়েকটি ফুটেজে তার আচরণ ছিল সন্দেহজনক। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দারা তাকে আটক করেছে বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গুলশানে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। তবে ঘটনার তথ্য জানতে এবং যাচাই-বাছাই করতে কয়েকজনকে গোয়েন্দা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক থাকতে পারেন। হাসানত করিমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবার থেকে জানানো হয়, তিনি সেদিন ছেলে রাইয়ানের জন্মদিন উদযাপনে সপরিবারের হলি আর্টিসান বেকারিতে গিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গুলশানে শনিবার সকালে যৌথ বাহিনীর ‘অপরেশন থান্ডারবোল্ট’-এর সময় যে ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয় তাদের মধ্যে ছিলেন স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ হাসনাত করিম। অভিযানের আগে-পরে হলি আর্টিসন ও আশপাশের এলাকা থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের প্রায় সবাইকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হলেও নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হাসনাত করিম এখনও গোয়েন্দা হেফাজতে রয়ে গেছেন।

অপারেশন থান্ডারবোল্টের আগে গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টের পাশের একটি ভবন থেকে কোরীয় নাগরিক ডি কে হোয়াং হলি আর্টিসনের কিছু ফুটেজ ধারণ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এসব ভিডিও ফুটেজে, ন্যাড়া মাথার চেক গেঞ্জি ও ‍জিন্স পরা এক ব্যক্তিকে একাধিক স্থানে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতার করার মতো সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখা যায়। হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টের কাচের তৈরি মূল ফটকটিতে তাকে বেশ কয়েকবার এসে ঘুরে যেতে দেখা যায়। জিম্মি থাকা অবস্থায়  তাকে ছাদের উপর ধূমপান করতেও দেখা গেছে, ওই সময় তার পেছনে দুইজন অস্ত্রধারী জঙ্গীও ছিল।

88929bcfded28f61160c59b01b1জিম্মিদের সবাই যখন এই হামলায় আতংকিত তখন এই ব্যক্তির এতো নিশ্চিন্ত আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহের সৃষ্টি করে। অনেকেই বলছেন, এই লোকটির সঙ্গে হাসনাত করিমের চেহারার অনেক মিল পাওয়া যাচ্ছে।

হাসনাত করিম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টি এই তথ্য জানার পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে আরো অনেক। কারণ হামলাকারীদের মধ্যে একজন নিব্রাস ইসলামও নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিল। সেক্ষেত্রে এই হামলার পরিকল্পনার পেছনে হাসনাত করিমের কোন হাত আছে কিনা, কিংবা জীবিত ফিরে আসার পেছনে তিনি যে কারণ দেখিয়েছেন তা আদৌ সত্য কিনা তা যাচাইয়ের অপেক্ষা রাখে বলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের মতো। তাছাড়া এতো বড় দুর্ঘটনা থেকে ফিরে আসার পর তিনি নিজে কেন গণমাধ্যমের সামনে আসলেন না সেটাও সন্দেহের মাত্রাকে ঘনীভূত করছে।

হাসনাত করিমের বাবা রেজাউল করিম জানান, ২০ বছর দেশের বাইরে ছিলেন  হাসনাত করিম। ইংল্যান্ডে প্রকৌশল পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমবিএ করেন। দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আসেন তিনি। হাসনাত করিম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টি বলেও জানা যায়।

হাসনাত করিমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে রোববার রাতে রেজাউল করিম বলেন,  ‘এখনও সে (হাসনাত করিম) বাসায় ফেরেনি। স্ত্রী, ছেলেমেয়েও রয়েছে ডিবি অফিসে।’হাসানাত করিম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন কি না জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, এখন নয়, অনেক আগে সেখানে শিক্ষকতা করতো।

গত শুক্রবার রাতে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ৭ জঙ্গি অস্ত্রের মুখে দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে।জঙ্গিদের প্রবেশের ১১ ঘন্টা পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব সম্মিলিতভাবে কমান্ডো অভিযান ‘অপরেশন থান্ডারবোল্ট’ পরিচালনা করে। অভিযান শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে ৬ জঙ্গি নিহত হয় এবং রেস্টুরেন্টে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অভিযানে একজন জাপানি ও দুইজন শ্রীলঙ্কান নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে তল্লাশিকালে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ২০ জনের মধ্যে ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপানী ৩ জন বাংলাদেশী এবং একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। নিহতদের সবার পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আইএস মানুষকে জিম্মি করলেও বাংলাদেশে এটাই প্রথম। জিম্মির এই ঘটনায় ২০ বিদেশি, ছয় সন্ত্রাসী ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন নিহত হন।

—সংবাদমাধ্যম

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com