বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর ৪ খুনি গোয়েন্দা জালে আটক!

২৮ বার পঠিত

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে শুরু করেছে। গোয়েন্দা জালে আটকা পড়েছে ৪ খুনি। এর মধ্যে রয়েছে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালকও। ওই চালকই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। মিতু হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে চাক্তাই রাজাখালি থেকে বাকলিয়া থানার তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁন্দগাও ও বাকলিয়া থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া থানার একটি গ্যারেজ থেকে আটক হয়েছে আরো দুইজন। তারা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা চোরাই মোটরসাইকেলটি বিক্রি করেছিল। ওই সূত্রে পুলিশ মিতু হত্যাকাণ্ডের আলো দেখতে পেয়েছে বলে জানায় গোয়ান্দা পুলিশ সূত্র। তবে পুলিশ সদর দফতর থেকে এখনই গণমাধ্যমকে না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় সূত্রটি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করে যাচ্ছে সিএমপি সদর দফতর।

অতি স্পর্শকাতর এ হত্যাকাণ্ডে সম্প্রতি জড়িত সন্দেহে আটকদের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেছেন, অনেক অপেক্ষা করেছে। আর দু’একদিন অপেক্ষা করুণ। আগে আমারা নিশ্চিত হই, তারপর আপনাদের জানাব। আগামী দু’একদিনের মধ্যে ভাল খবর দেয়ার কথা জানান কমিশানার।

পুলিশ ধারণা করছে পেশাদার খুনিরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনায় সাতজনের অধিক একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম অংশ নিয়েছে। তবে মিতুকে তারা কেন খুন করেছে তা এখনো পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়নি। টানা এক সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে  সন্দেহভাজন ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ছাড়া মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি ছুড়া ব্যক্তিও রয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া ও একজনের বাড়ি হাটহাজারীতে।

এরমধ্যে দুইজন ২০১২ সালে রাঙ্গুনিয়া সংঘটিত দুটি হত্যা মামলার আসামি। তারা এ হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন দীর্ঘদিন। মিতু হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বোয়ালখালী থেকে চুরি করে লালু নামে একজন পেশাদার মোটরসাইকেল চোর। দুই হাত ঘুরে গাড়িটি চলে যায় রাঙ্গুনিয়া রাণীরহাটের একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে। দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন উক্ত গ্যারেজ থেকে গাড়িটি কিনেন স্থানীয় একজন ব্যক্তি।

তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী ছিলেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে ভাইয়ের কাছ থেকে গাড়িটি নগরীতে নিয়ে আসেন হেলমেট পরা সেই মোটরসাইকেল আরোহী। আটকদের অতি গোপনীয়তার মাধ্যমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্রে প্রকাশ। মিতু হত্যাকাণ্ডের পর হাটহাজারী থানার ফরহাদাবাদ এলাকার মুছাবিয়া দরবার শরীফ থেকে আবু নসর গুন্নু ও বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকা থেকে শাহ জামান রবিন নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছিলো নগর পুলিশ।

পুলিশ দাবি করেছিলো মিতু হত্যায় সম্পৃক্ত রয়েছে তারা এ সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে আনার পরও তাদের কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায়  পরিবর্তন করা হয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার সকল কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোকতার হোসেনকে।

মিতু হত্যাকাণ্ড নিয়ে গত ২০ দিনও তেমন অগ্রগতি না পারায় পুলিশ সদর দফতর নাখোশ সিএমপি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর। সেকারণে এবার সিএমপি পুলিশ কমিশনার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানায়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com