সাত খুন মামলা: আপিলের রায় পিছিয়ে ২২ আগস্ট

২৬ বার পঠিত

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে আগামী ২২ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার এ রায় ঘোষণার কথা ছিল। রায়ের কপি প্রস্তুত না হওয়ায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নতুন এ দিন ধার্য করেন বেঞ্চ। আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী জানান, রায় এখনও প্রস্তুত হয়নি। তাই আগামী ২২ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেন বেঞ্চ।

এর আগে এ বছরের ১৬ জানুয়ারি সাত খুন মামলায় রায় দেন নিম্ন আদালত। রায়ে র‌্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তা ও সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার ৯ সহযোগীসহ ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে র‌্যাবের সাবেক ৯ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা নূর হোসেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক। তারা হলেন- সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, নূর হোসেনের সহকারী সানাউল্লাহ ওশাহজাহান। বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, হাবিলদার নাসির উদ্দিন, করপোরাল মোখলেছুর রহমান ও এএসআই কামাল হোসেন। এদের মধ্যে শেষের দু’জন পলাতক। এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত জেলে থাকা ২৮ আসামি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে এলে গত ২২ মে শুনানি শুরু হয়। এরপর ২৬ জুলাই হাইকোর্টের শুনানি শেষ হলে ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয় জনের লাশ ভেসে ওঠে এবং পরদিন আরেকটি লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন। গত ২২ জানুয়ারি বিচারিক আদালতের রায় ও নথি হাইকোর্টে পৌঁছালে তা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা। পরে বেঞ্চ নির্ধারণের পর শুনানি শুরু হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com