রাজন হত্যায় ৪ জনের ফাঁসি বহাল

৮০ বার পঠিত

চুরির অভিযোগে সিলেটের সবজি বিক্রেতা শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের করা আপিলের রায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ডসহ বাকি আসামিদের দেওয়া বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। তবে এ মামলার আরেক আসামি নুর মিয়ার যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় বহাল রাখেন।

এর আগে বিচারিক আদালতে আসামিদের মধ্যে কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদের ফাঁসির আদেশ হয়। কামরুলের সহযোগী নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে (পলাতক) সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক বছর করে দণ্ড হয় দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীর।

গত ৩০ জানুয়ারি পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার আপিল শুনানি শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও বিলকিস ফাতেমা। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম আবুল হোসেন, বেলায়েত হোসেন, শাহরিয়ায় ও শহিদ উদ্দিন চৌধুরী। পলাতক এক আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত হিসেবে ছিলেন আইনজীবী হাসনা বেগম।

রাজন হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে ১০ আসামির মধ্যে চারজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, তিনজনের সাত বছর করে এবং অপর দুজনের এক বছর করে কারাদণ্ড হয়। পলাতক পাভেল আহমেদ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি আপিল ও জেল আপিল করেছেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নূর মিয়ার আপিলের ওপরও শুনানি হয়।

সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরাই সেই নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষ করে ওই বছরের ১৬ আগস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১৭ কার্যদিবস বিচারিক কার্যক্রম শেষে ওই বছরের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় দেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com