ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে সঠিক বয়ান দিন : হাইকোর্ট

৮৭ বার পঠিত

ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে নিরবে মানুষ হত্যা ও আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়ায় ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে সঠিক বয়ান দিতে সারাদেশের ইমামদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন হাইকোর্ট। আলোচিত ব্লগার রাজিব হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স রায় প্রদানকালে আদালত ইমামদের প্রতি এ অনুরোধ জানান।  এ সময় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এ মামলায় রাহমানি ছাড়া বাকি আসামিরা সবাই মেরিটোরিয়াস (মেধাবী)। তারা কেন বিপথে গেলেন? আমরা তার কারণ খুঁজে পাইনি।’ 

পরে ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দ্বীপের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং বিচারিক আদালত যে রায় দিয়েছিলেন তা হুবহু বহাল রাখেন হাইকোর্ট। রবিবার (০২ এপ্রিল) রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘মসজিদের ইমামদের কাজ হচ্ছে মুসল্লিদের নামাজ পড়ানো। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া। তিনি এমন কোনো বয়ান দিবেন না যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। যদি কেউ ইসলাম এবং মুহাম্মদ (সা.) অথবা যে কোনো ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারো নেই। শরীয়াহ্ আইন আমাদের দেশে প্রচলিত কিনা সেবিষয়ে সর্বোচচ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে।’  আদালত আরও বলেন, ‘এ মামলার আসামি মুফতি জসিমউদ্দিন ছাড়া বাকী সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা কেন এই পথে এসেছে এই মামলায় তা বোধগম্য নয়। এই ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়ার জন্য অভিভাবকরাই দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। আদালতও তাই মনে করে।’
 
‘এই মামলার আসামিদের সকলের পিতা-মাতা উচ্চশিক্ষিত। আমরা নিজেদের লাইফ স্টাইল কিভাবে উন্নত করা যায় সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের বাচ্চাদের মানসিক অবস্থার কথা, তারা কি করতে চায়, কোন বিষয়ে পড়তে চায়, তা না জেনে তার মনের বিরুদ্ধে অনেক কিছু চাপিয়ে দেই। এই কাজের জন্য প্রাইমারি শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিবেশ, রাজনীতি, ধর্মীয় আচার ব্যবহার, স্বাধীনতার ইতিহাস যথাযথভাবে শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে। এ নিয়ে সবার এবং সরকারেরও ভাবতে হবে।’ বলেন আদালত।
 
আদালত বলেন, ‘মামলা তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ বিষয়ে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, মুফতি যেখানে খুতবা দিতেন সেখানকার মুসল্লিদের প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হয়নি। আইজিপিকে আহবান জানাচ্ছি, সব ধরনের মামলায় এমন সব কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করতে হবে। যারা শুধু নিজের না দেশের জন্য কাজ করবে।’  ‘এই হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত, একদল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। অন্যরা তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিচারিক আদালতের রায় পরিবর্তনের কারণ খুঁজে পাইনি। সেই জন্য বিচারিক আদালতের রায়ই বহাল।’ এই মামলার বাদী রাজীব হায়দারের বাবার এক রিভিশন আবেদন করার বিষয়ে আদালত বলেন, ‘এই মামলায় আসামিদের সাজা বৃদ্ধির জন্য বাদীর পক্ষ থেকে একটি রিভিশন আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আবেদনের শুনানির জন্য কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।’

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে ব্লগার রাজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ রায় প্রদান করেন। রায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পলাতক রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসি ও মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হয়। এছাড়া নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছর ও নর্থ-সাউথ আরেক  শিক্ষার্থী সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। গত ০৯ জানুয়ারি হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষে আজ রবিবার (০২ এপ্রিল)  নিম্ন আদালতের দেয়া ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাজা বহাল রাখল হাইকোর্ট।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com