আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ বিকাল ৫:৪৪ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

মীর কাসেমের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

মানবতাবিরোধী অপরাধে আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আপিল বিভাগ। সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বেঞ্চ এ রায়ে স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৩ মাস পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করলো আপিল বিভাগ। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন মীর কাসেম। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী ১৪টি অপরাধের মধ্যে চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতন, হত্যাসহ ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এর মধ্যে দুই অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগ একটিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। ৬ অপরাধে তাকে দেয়া বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে যে কজন এদেশিয় দোসর সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে তাদের অন্যতম হলেন মীর কাসেম আলী। তিনি শুধু পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তাই করেননি নিজ হাতেও চালিয়েছেন নির্যাতন, করেছেন হত্যা। সেই সময় চট্টগ্রামে আলবদর বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ডালিম হোটেলে তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষদের ধরে এনে নির্যাতন এবং অনেককে হত্যা করা হয়।

২০১২ সালের ১৭ জুন, মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ১৬ মে মীর কাসেমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগ এনে অভিযোগপত্র দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ২৬ মে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়, এর মধ্যে দুটি অভিযোগে ৮ জনকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৮টি অভিযোগে আরও ৭২ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসি বহাল রেখে ৮ মার্চ সংক্ষিপ্ত রায় দেয় আপিল বিভাগ। তবে, মীর কাসেমের নির্দেশে চট্টগ্রামে রঞ্জিত দাস ও টুন্টু সেনকে অপহরণের পর হত্যার অপরাধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের বদলে খালাস দেয় আপিল বিভাগ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য

১৯৭১ সালের ৮ নভেম্বর মীর কাসেমের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী ওমরুল ইসলাম চৌধুরীকে অপহরণ করে, পরে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেল, পাঁচলাইশ থানার সালমা মঞ্জিল এবং চামড়ার গুদামে নিয়ে নির্যাতন। ১৯ নভেম্বর চাকতাই থেকে লুৎফর রহমান ফারুককে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নির্যাতন। মীর কাসেমের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদসহ ছয়জনকে অপহরণের অপর হত্যা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com