আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ রাত ১২:২০ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

রাবির দুই শিক্ষকের গবেষণায় জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি #  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭২ তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালার শর্ত শিথিলের জন্য উপ-উপাচার্যকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গবেষণা জালিয়াতিতে অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ও আইন বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান।

সিন্ডিকেট সদস্য আখতার ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে এই দুই শিক্ষকের গবেষণা জালিয়াতির বিষয়টি পত্রিকার সংবাদে উঠে আসে। তারই ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং বিষয়টি সঠিক কিনা তা বের করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুই ঘটনার তদন্তের জন্য চিকিৎসা মনোবজ্ঞিানের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, ফলিত পদার্থ ও ইলেকট্রেনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর আবু বকর মো. ইসমাঈল ও সিন্ডিকেট সদস্য রুস্তম আলী।’

বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. আখতার ফারুক বলেন, ‘গনযোগাযোগ বিভাগের সাবেক ১৬ শিক্ষার্থী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগ এনে ভিসি বরাবর অভিযোগ পত্র দিয়েছে। একইভাবে আইন বিভাগের শিক্ষক আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে একটা ইংরেজি গবেষণা থেকে অনুবাদ তার গবেষণা উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আখতার ফারুক আরো বলেন, ‘ইউজিসির সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে নিয়োগের ক্ষেত্রে চারটিতেই প্রথম শ্রেণী থাকার সিদ্ধান্ত আছে। কিন্তু চারটিতেই প্রথম শ্রেণী রাখতে যেয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে না। আর ইউজিসির এই নীতিকে বিরোধীতা করে শিক্ষক সমিতি এই নিয়ম পরবির্তনের দবী করে আসছিল। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে শিক্ষক নিয়োগে নূন্যতম শর্ত শিথিল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর আনান্দ কুমার সাহাকে আহ্বায়ক করে কয়েকটি অনুষদের ডীনদের সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

জালিয়াতের অভিযোগের ব্যাপারে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটা স্থানীয় পত্রিকা পিএইচডি গবেষণা জালিয়াতি করেছি বলে নিউজ হয়েছে। তাই নিজেই আমি উপাচার্য স্যারের কাছে যেয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য অনুরোধ করি। কারণ দুর্নাম নিয়ে আমি পিএইচডি অর্জন করতে চাই না। মূলত আমার বিভাগ বা অন্য কোথাও থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এ অভিযোগ করা হয়েছে।’

একইভাবে নিজের অভিযোগ অস্বীকার করে আইন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এম আনিছুর রহমান বলেন, ‘কে বা কারা আমারা বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে আমার জানা নেই। আমি মৌলিক গবেষণা করেছি। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি হওয়ার মত কোন কাজ আমি করেনি। এটা সম্পূন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।’ এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘সিন্ডিকেট মিটিংয়ে অনেকগুলো এজেন্ডা ছিল। সেখানে শিক্ষক নিয়োগে শর্ত কেমন হবে এবিষয়ের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com