জাবিতে গোপনে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সমালোচনার ঝড়

মমতাজুল আরিফ, জাবি প্রতিনিধি# জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের কোন প্রয়োজন না থাকলেও গোপনে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মহলে চলছে সমালোচনার ঝড়। বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপক পদে একজন, স্থায়ী প্রভাষক পদে দুইজন এবং অস্থায়ী প্রভাষক পদে তিনজনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।   
 
গত ২৬ বছর ধরে ওই বিভাগে কোন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন হলে বিভাগীয় একাডেমিক মিটিংয়ে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে বিভাগের চাহিদা নিরূপণ করে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বর্তমান বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন এই নিয়ম ভঙ্গ করে কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই গোপনে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।  
 
এ নিয়ে ২১ মার্চ বিভাগের একাডেমিক কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় (বর্তমান সভাপতি দেশের বাইরে থাকায়) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ৯ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দুপুরে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সাথে দেখা করে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করার অনুরোধ জানান।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ওই বিভাগে ২৫জন শিক্ষক রয়েছে তার মধ্যে ৭জন শিক্ষক দেশের বাইরে রয়েছে। তবে এক মাসের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক দেশে ফিরবেন বলে জানা যায়। দেশের বাইরে থাকা শিক্ষকরা দেশে ফিরলে শিক্ষক রুমের সংকট তৈরি হবে বলে বিভাগীয় শিক্ষকরা জানান।   
 
বর্তমান সভাপতি মেয়াদ মাত্র দুই মাস আছে। এমতাবস্থায়, তড়িঘড়ি করে এই শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগকে দেশের জনগণের টাকা অপচয় ও বিশেষ ব্যক্তির অসাধু উদ্দেশ্য চরিতার্থ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শিক্ষকরা।  এ বিষয়ে বিভাগীয় শিক্ষক অধ্যাপক মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। কিন্তু আমরা এক প্রকার নিরাশ হয়ে ফিরে এসেছি। আমাদের সঙ্গে বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি একমত প্রকাশ করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছে।
 
বিশ^বিদ্যালয়ের যে সব বিভাগের শিক্ষক সংকট রয়েছে সেখানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের বিভাগের শিক্ষক সংকট না থাকা সত্বেও কেন যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।  বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিশ^বিদ্যালয় উপাচার্য ভাল বলতে পারবেন। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৮২ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com