শ্রদ্ধাভরে রাবিতে জোহা দিবস পালিত

৯৭ বার পঠিত

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা দিবস পালিত হয়েছে। সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ভবন, আবাসিক হল ও অন্যান্য ভবনে কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি। পরে ৭টায় ড. জোহার মাজার ও স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর সকাল ১০টায় সিনেট ভবনে রসায়ন বিভাগের আয়োজনে জোহা স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মারক বক্তৃতায় রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মারক বক্তা ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা ও পৃষ্টপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। এছাড়াও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা বলেন, ‘ড. জোহার তার মৃত্যুতে গোটা বিশ্বে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তা প্রমাণ করে- ড. জোহা জীবন বৃথা যায়নি। ড. জোহা হত্যার পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও চারজন শিক্ষক খুন হয়েছেন। এই হত্যাকা-গুলোর মধ্যে একটা যোগ আছে। যারা জোহাকে হত্যা করেছিল, তাদের অনুসারী চেলারাই পরবর্তীতে এই চার শিক্ষককে হত্যা করেছিলেন।

তিনি  বলেন, ‘উচ্চশিক্ষিতের কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত না হলে অধিক শিক্ষিতের বেকার হয়ে পড়ে থাকার আশংকা। উপযুক্ত সক্ষম মানব-সম্পদ তৈরি না হলে কাজের ক্ষেত্রও আশানুরূপ বাড়েনা। আত্মবিরোধের দুই প্রান্তকে মাথায় রেখে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ভাবতে হয়।

তিনি আরো বলেন, যা-চাই, তা পাইনা। তেমনটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু পাবার ইচ্ছাটাও মরে যাচ্ছে। এটা দুর্ভাবনা জাগায়। যদিও জানি উচ্চশিক্ষার হার দ্রুত বাড়ছে, বতু তার কার্যকারিতা কী দাঁড়াবে, অতি-অতি-অতি প্রজ এই দেশে কার কী কাজ জুটবে, সেখানে হাত-সাফাই-এর কারসাজিতে কত যোগ্যতর প্রার্থী ছিটকে যাবে, এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুতেই কাটেনা। কী করলে সার্বিক মঙ্গল, এমন কিছু আমার মাথায় আসেনা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারেন। অবশ্যই চলমান বাস্তবতার ও ভবিষ্যতের আকাঙ্খার প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও এগিয়ে আসা বাঞ্ছনীয়। সফলতার সঙ্গে বিফলতার কথাটাও যেন তাঁরা অকপটে বলেন। এসব জানার অধিকার জনগণের আছে।’

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ড. জোহা তাঁর জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে একটি ঐক্যের বন্ধন রচনা করে গেছেন। আমরা দীর্ঘকাল ধরে তাঁকে স্মরণ করে আসছি। তবে দুঃখ করে বলতে হয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আর কোথাও তাঁকে স্মরণ করা হয় না। তিনি যে শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লড়েছেন তা নয়, তাঁর এই ত্যাগের দৃষ্টান্ত সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য। তিনি ১৮ ফেব্রুয়ারিকে শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবি জানান।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিকেল ৪টায় শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালনের আয়োজন করা হয়েছে। আজ শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।#

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি #

গাউছুল আজম মিল্টন শহীদ হবিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী - ৬২০৫ ০১৭৬৩-২৩৭৭৭৬

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com