‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে

রুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত, শিক্ষক অবরুদ্ধের অভিযোগ

৫৮৭ বার পঠিত

জি.এ.মিল্টন,রাবি প্রতিনিধি: পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণের জন্য বাধ্যতামূলক ‘৩৩ ক্রেডিট’ নিয়ম বাতিলের দাবিতে তৃতীয় দিনেও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তিন সিরিজের শিক্ষর্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরতœ শেখ হাসিনা হলে কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করার অভিযোগও রয়েছে।

রুয়েট সূত্রে যায়, সোমবার শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক দেশরতœ শেখ হাসিনা হলের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য বের হয়। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষক তাদেরকে আন্দোলনে আসতে বাধা দেয়। তাদেরকে হলের ভেতর আটকে রাখে। পরে অবরুদ্ধ থাকা ছাত্রীরা বাইরের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এসে ওই শিক্ষকদেরও হলের ভিতর অবরুদ্ধ করে রাখে। সেখানে ১০-১২ জন শিক্ষক ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ ৪০-৫০জন শিক্ষক অবরুদ্ধদের মুক্ত করতে ওই হলের সামনে যান। কিন্তু দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষকদের মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালানোর সময় শিক্ষকবৃন্দ তাদেরকে জোরপূর্বক ক্লাসে আনার চেষ্টা করে। এছাড়া যে সব ছাত্রীরা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য হল থেকে বের হচ্ছিলো তাদের নাম লিখে নেওয়া হয়েছে। তাদের হুমকি ও নানা ভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষর্থীরা।

পরে বিকেল ৩টায় রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গিয়ে শিক্ষকদের মুক্ত করে আনে। এসময় রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুর রহমান নিবিড় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা স্যারদের ছেড়ে দাও। আর তোমাদের প্রতিনিধি দলের সাথে তোমাদের দাবি নিয়ে পরে যোগাযোগ করা হবে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সংকট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সাথে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে। এছাড়া কোনও শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনও সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। প্রশাসন কোনও পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা সবদিক বিবেচনা করে করা উচিত বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

রুয়েট সূত্রে জানা যায়, রুয়েট শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হবার ক্ষেত্রে দুই সেমিস্টারে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যথায় তাকে পুনরায় সেই বর্ষেই থাকতে হবে। এর আগে নিয়ম ছিলো, কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্তিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন না করলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারতো। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে পরীক্ষা দিয়ে উক্ত ক্রেডিট অর্জন করতে হতো। তবে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম পরিবর্তন করে।

রুয়েটের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জালালউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে তা মিথ্যা। কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর কাধে হাত রেখে বলে ক্লাসে যাও, আর সেটাকে যদি মারা বলা হয় তা দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে জানতে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘আজ ছাত্র-শিক্ষক সবার সাথে মিটিং-এ বসে এ ব্যপারে সিদ্ধান নেয়া হবে।’#

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি #

গাউছুল আজম মিল্টন শহীদ হবিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী - ৬২০৫ ০১৭৬৩-২৩৭৭৭৬

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com