ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ায় এমন বই প্রকাশ হলেই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

এই সংবাদ ৭৫ বার পঠিত

পহেলা ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বাংলা একাডেমি আয়োজিত বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘিরে গত বছরের মতো এবারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশ এলাকা সিসি ক্যামেরা দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে খোলা হচ্ছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম।

বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি নিয়ে গতকাল ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যেসব লেখক-প্রকাশকের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, পুলিশের কাছে তারা নিরাপত্তা চাইলে সহায়তা করা হবে। অন্যদিকে কোনো ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ায় এমন কোনো বই মেলায় প্রকাশ হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখবে পুলিশ। কোনো স্টলে এ ধরনের বই এলে সংশ্লিষ্ট লেখক-প্রকাশকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সভায় বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অগ্নিকান্ডের হাত থেকে মেলা প্রাঙ্গণ রক্ষায় সব স্টলে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটতে না পারে এ জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে পরামর্শ দেওয়া হয় মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাৎক্ষণিক জেনারেটর দিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা যায় এ বিষয়টিও নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাঙালির প্রাণের মেলা বইমেলার সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। নিরাপত্তার নানা দিক পর্যালোচনা করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে গতকাল ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে।

অমর একুশে বইমেলায় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ জঙ্গিদের হাতে প্রাণ হারান। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর টিএসসির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়কে। এরপর অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশকদের ওপরও হামলা করে জঙ্গিরা। এর মধ্যে জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে আজিজ সুপার মার্কেটে তার প্রকাশনা অফিসেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন প্রকাশককে টেলিফোনে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে এবার বইমেলার নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। এরই অংশ হিসেবে বইমেলায় ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ায় এমন কোনো বই প্রকাশ হচ্ছে কিনা তা মেলার প্রথম দিন থেকেই নজর রাখবে পুলিশ।

যে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলা থেকে বইমেলা প্রাঙ্গণ রক্ষায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকেও পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন থাকবে। পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, মেলায় আগত দেশি-বিদেশিদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সবাইকে আর্চওয়ে দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে হবে। মেলার চারদিকে স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ার দিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি মনিটর করা হবে। দোয়েল চত্বর, শাহবাগসহ মেলার আশপাশে সব এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com