মাগফেরা খাতুন রুমার কাব্যগ্রন্থ ‘বিলাসী স্তবক’ ।। আবুল কাইয়ুম

এই সংবাদ ৭৪ বার পঠিত

অমর একুশে বইমেলা, ২০১৬ উপলক্ষে কবি মাগফেরা খাতুন রুমার কাব্যগ্রন্থ ‘বিলাসী স্তবক’ প্রকাশ করেছে ঢাকার বিশিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নন্দিতা প্রকাশ। এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলেও বিগত কয়েক বছর ধরেই তিনি সাহিত্যাঙ্গনে সরব। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন, সঙ্কলন ও অনলাইন পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী এই কবি কানাডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে সেখানে সপরিবারে বসবাস করছেন।

শিল্পী রাজীব রায়ের আঁকা নান্দনিক প্রচ্ছদ ও সুন্দর কাগজে ঝকঝকে ছাপা নিয়ে ‘বিলাসী স্তবক’ আশি পৃষ্ঠার একটি কাব্যগ্রন্থ, যাতে কবির সত্তুরটি কবিতা স্থান পেয়েছে। এ কাব্যে তিনি প্রেম, নিসর্গ ও সমাজবাস্তবতার কবি। তাঁর প্রেমের কবিতাগুলো প্রায়শ দয়িতের সাথে মিলনের বাসনা নিয়ে নারী হৃদয়ের আর্তি ছড়ায়। সেখানে দেখি, হৃদয়ের সকল সুরভি, সেৌন্দর্য, শুদ্ধতা ও বিশ্বাস নিয়ে দয়িতা ধরা দিতে চায় দয়িতের কাছে। ভালোবাসার কাঙালিনী প্রেমিকাদের প্রতিনিধি যেন এই কবি। তাই তো তাঁর ভাষায় উঠে আসে এই প্রতিধ্বনি-

চাঁদের ঝালর মাখা
দূর পথের দীপশিখা রক্তিম মরীচিকা ভালোবাসা দোলা দেয় মনে
ওগো প্রিয়তম এমনি মাতাল জোছনার রাতে যদি বল ভালোবাসি
হেসে হেসে কাটিয়ে দেব একটা জীবন আবেগমাখা ধারায়।

কবির প্রেমের কবিতা সহ সব ধরনের কবিতাতে নিসর্গাশ্রয়ী পেলবতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি নিসর্গ ও গ্রামীণ জীবনকে এককভাবে বিষয় হিসেবেও নিয়ে এসেছেন কিছু কবিতায়। বাংলার সুষমামণ্ডিত গ্রামীণ নিসর্গ যেন এই প্রবাসী কবির প্রাণের পৃথিবী, তাঁর ইচ্ছেগুলো গ্রামবাংলার সেৌন্দর্যের মহিমা ঘিরে ঘুরপাক খায়-

ইচ্ছে করে শরৎ কালের সাত সকালের আকাশ হই,
হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ে যাওয়া সাদা মেঘের ভেলা হই,
ইচ্ছে করে শিউলি তলার ঝরে পড়া শিউলি হই,
ইচ্ছে করে গন্ধে ভরা খোঁপার বকুল মালা হই।

এই সময়ে স্বদেশ, সমাজ ও জীবনের গায়ে যে সব ক্লেদ জমে বাংলার জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে কবির লেখনীতে সেগুলোরও চিত্র উঠে এসেছে। সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নিবর্তন, দুর্নীতি, রাজনীতির নামে ভণ্ডামি, মেকি দেশপ্রেম সহ নানা অন্যায় ও অপঘাতের চালচিত্র এঁকে তিনি এ সবের বিরুদ্ধে তাঁর অন্তরের দ্রোহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিয়ে কবিতা লিখে বিপন্ন মানবতার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধায় আনত এই কবি সুন্দর ও অপরাধমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর থেকেছেন। তাই সমকালীন দুর্দশাগুলো নিরীক্ষণ করে তাঁর মাঝে আক্ষেপের অন্ত নেই-

শহীদের আত্মারা লজ্জায় লাল থেকে নীল আরো নীলে চুবে যায়
হায়! স্বাধীনতার মাত্র বিয়াল্লিশ বছর না যেতেই
হারামি আর হায়নারা দেশটাকে লুটেপুটে খায়।

এ কাব্যে কবি মাগফেরা খাতুন রুমার ভাষা প্রবহমান। তাঁর কবিতায় সরল ও দৃশ্যমান চিত্রকল্পের ব্যবহার ছাড়া কোন নিরীক্ষাধর্মী কারুকাজ দিয়ে ভাষাকে প্রদীপ্ত করার লক্ষণ দৃষ্ট হয়নি। পংক্তিগুলো কখনো নিরেট গদ্যে, কখনো বা গদ্যছন্দে অথবা এ দু’য়ের মিশেলে গড়া। শব্দ-বিশেষণও সাধারণ গদ্যের মতো। শব্দের শক্তি ও ব্যঞ্জনা সৃষ্টির পরিবর্তে প্রায়শ বাক্যে আবেগের দীপ্রতা ছড়িয়ে তিনি বাণীবন্ধে কাব্যিকতা এনেছেন। তার উপর রয়েছে লোকপ্রিয় বক্তব্যের দ্যোতনা। সহজেই বোঝা যায়, সরল মনের কথাগুলো সরলভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর উদ্দিষ্ট। এর ফলে অবশ্য তাঁর কবিতায় উপস্থাপিত বিষয়গুলো সব শ্রেণীর পাঠকের বোধগম্যতার জন্য সহায়ক হয়েছে।

[গ্রন্থ পরিচিতি : ‘বিলাসী স্তবক’ (কাব্য)। লেখক : মাগফেরা খাতুন রুমা। প্রকাশক : নন্দিতা প্রকাশ, বিচিত্রা বই মার্কেট (৩য় তলা), ৩৬, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০, মোবাইল -০১৭১৬-৩১৭৯৪২। প্রচ্ছদ শিল্পী- রাজীব রায়। মূল্য : ১৮০ টাকা।]

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com