,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

রুমকি আনোয়ার-এর একগুচ্ছ কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

ফিরে এলাম

জীবনের সাঁকো ভাঙা স্মৃতি নিয়ে ফিরে এলাম
খুব কি দেরী হয়েছে ? সময় কি ছুঁয়েছে আকাশ ?
সোনা গুড়ো রোদ চেলাই কাঠের নীচে বড় উজ্জ্বল
মেঘেরা বিছায় আলো পড়ে থাকা শূন্য বিছানায় ।
সকালের রৌদ্দুর অস্ফুষ্ট উষ্ণতায় চুমু খেয়ে যায় কপালে
আলো-ছায়া ,মেঘরৌদ্দুর ,ঘাসের গন্ধ সবই যে আগের মতই আছে ,
নিজেকে নিহিত রেখেছিলাম বর্ষার কাদাজলে –
বাতাস শুষেছে যার অবলা চোখের অলসতা ।
আমি আছি ,আমি থাকব শুধু কবিতার পাতা হয়ে আছে সাদা
আমি ছাড়া দেবতার হাত থেকে কে খুলে পড়বে চিঠি
আবার মেহেগ্নি আলো বিকেলের জানালা ছোঁবে ,
পেজঁকোলা নরম চাঁদের বল জোৎস্নার নরম আলো
বিরহী বাতাস সাঁতার দিবে সবুজ ঘাসের মত ঢেউয়ে ,
শব্দ প্রেমের চুম্বন নিয়ে আবার আঁকবো নির্বাক ছবি ।
অনন্তের পথে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছি কেবল
আজও জানা হলো না জল আর দুধের পার্থক্য ।

দুই জগত

জীবনের মাঝে মৃত্যুকে ধারণ করা কঠিন কিছু নয়
এই যেমন কবর থেকে উঠে এলাম –
সাদা কাফনে কিছু হারগোড়
চোখের কোটরে আরশোলার অনায়েস প্রবেশ ,
নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করছে
কিছু অচেনা বাতাস ।
ভাদ্রের রৌদ্দুর বাদামি খুলিতে
উনুনে রান্না চড়িয়েছে যেন ।
পরিচিত মানুষ গুলোরে খুঁজে ফিরি
অপরিচিত মানুষগুলোর নিঃশ্বাস
আমার ক্ষয়ে যাওয়া পাঁজরে
কিছু উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে গেলো ।
এই তো সেই বটবৃক্ষ
আমার আশৈশব কেটেছে সেখানে
পাশে উদ্যাম নদী আজ ক্ষীণ ধারায় প্রবাহমান
শৈশবের ঘ্রান নিতে মড়মড়ে কড়গুলো জল ছুলো –
কোন স্মৃতি ফিরে এলো না
মৃতের স্মৃতি থাকতে নেই ।
খসে পড়া কিছু পাতা –
পায়ের অস্থিসন্ধি মাড়িয়ে যেতে পারলো না
জলের বুকে আমার কোন ছায়া নেই
ছায়াহীন মানবী ।
কিছু আউলা বাতাস আমাকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেলো
গীর্জার ঘন্টা ধ্বনি ডং ডং ডং
এ যে কবিতা লেখার সময়
ফের জীবিত হয়ে ফিরে আসলাম ।।

এই আমি

কখনও যদি চলে যাই , ফের দূর অজানায়
নীল বিহঙ্গের ডানা মেলে সমুদ্র সৈকতে ,
মধ্যাহ্ন খুঁজে ফিরে চেনা অলি গলি
শঙ্খের মাঝে কেবল মুক্ত খুঁজে ফিরি ।
অন্তরে বাহিরে নির্বাসিত আমি –
আপন পথ রুদ্ধ করে আপনারে খুঁজি
কে আমি ?
নিজেকে রাঙ্গিয়েছিলাম ভিন্ন এক গোধূলি আলোয়
পরানের ভিতর আজ ঠিকানাবিহীণ অন্ধকার ,
আমিত্বের আনি যেন চিতায় পুড়ানো কাঠ কয়লা ।
দু ‘চোখে নায়েগ্রার জল প্রপাত –
এ পথ আমার নয় , এ পথ আমার নয়
আমি ফিরে আসবো ,
নারীর চোখে , নদীর চোখে , সর্বহারার চোখে
আদিগন্ত বিস্তৃত বিষণ্ণতা গুলো , ফানুশ হয়ে উড়িয়ে দিব
লুপ্ত বিবেক চেতনায় আঘাত হেনে বলবে
এই আমি———–

চরাচর

সংসারের ছেড়া পাতায় হঠাৎ ই খুঁজে পেলাম তোমার ছবি
মনে কি পড়ে আমরা দুজনে একদিন নদী, কাশফুল ছুঁয়ে ছিলাম ,
বাবলা গাছের তলে ,পার্কে সঙ্গীতে বুনে গেছি স্বপ্নের নক্সিগাঁথা
অন্তরে বাহিরে , রাত্রির ছায়াতে দোদুল্যমানতা কেবল আঁচর কেটে যায় ।
রাত্রির প্রগাঢ় আলিঙ্গনে ব্যবহৃত চাদর , তেল চিটচিটে হয়ে আছে
এখনও রজনী ,দ্বিজেন্দ্রর গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি
প্রীতিলতা , ক্ষুদিরাম আজও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে উত্তরীয় পড়িয়ে যায়
তারপরও কেন জানি অযাচিত অনাচারটুকু সন্তর্পণে এড়িয়ে চলি ।
ঘাসের ডগায় যখন রোদের উত্তাপ ছোঁয় রাতের শিশির
আমি ঝরা শিউলি কুড়িয়ে মালা গেঁথে চলি চিতাভস্মের স্মরণে
তোমার অন্তর্ধান আমার হৃদয়ে সমুদ্রসিম্ফনি বাজিয়ে গেছে
বেগম আক্তারি ,রোশনি বাঈ রাত জাগে প্রহরায় ।
কুয়াশার ঠোঁট থেকে কি অনায়াসে শব্দ বেরিয়ে আসে
আজ আমি কবিতা লিখতে শিখেছি লাল অক্ষরের বিন্যাসে
তুমি ভালো নেই বুঝি কাল সারাবেলা কেঁদেছ আমি শুনতে পেয়েছি
অপেক্ষায় থাক এই এলাম বুঝি আটপৌঢ়ে শাড়ি পড়ে ।
বাতিঘর ক্ষয়ে গেছে সময়ের আঘাতে
নোনাস্রোত যতটুকু নিয়েছে তারচেয়ে বেশি উত্তর পুরুষেরা
হাভাতের দল হামলে পড়েছে হায়রে ! ক্ষুধাক্লিষ্ট যৌবন তোদের অভিশাপ
কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করতে ভালো লাগে না আমার ।
শুধু জানি কিছু দিয়ে যেতে হবে ,মরার পর ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকবার ইচ্ছে নেই আমার
ঘাড়ের ব্যাথাটা বেড়েছে হাত দু’ টুও অবশপ্রায় , চোখের দীপ্তি নিঃশেষিত
ফুরিয়ে যাওয়ার আগে দু’ফোঁটা রক্তে কালজয়ী কবিতা লিখব আমি
জানালা খুলে দাও আলো আসুক , আলোরা খুব কম বাঁচে ।।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ