,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ফরিদ কবির’র একগুচ্ছ কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

শরীর

বন্দি নয়, তোর হাত নিজে এসে আশ্রয় নিয়েছে
এই করতলে
তোর কাছে নিরাপদ নয় কোনো কিছু
তোর হাত, হাতের আঙুল

সামান্য যে গাছ, সেও অরক্ষিত রাখে না পাতাকে
তুলে ধরে যতটা সম্ভব শূন্যে, স্পর্শের বাইরে
যে কারণে পাতা থাকে নিতান্ত সবুজ

স্পর্শাতীত কিছু নেই তোর
যে রকম হাতের ইশারা বুঝে তোর হাত
ঢুকে পড়ে আমার মুঠোয়
কথা হয় আঙুলে আঙুলে

শরীরও যথেষ্ট জ্ঞানী তোর
ভাষা বোঝে আরেক দেহের…

পাখি

উড়লেই পতনের ডাক, তবু উড়ে যাও
তুমি পাখি ভাবছো নিজেকে
মাটি দখলের পর রক্তচিহ্ন এখনো ডানায়
আজকে নেমেছো তুমি আকাশ দখলে
শিরোস্ত্রাণে হেসে উঠছে নক্ষত্রমণ্ডলী

আকাশকে পাখিমুক্ত রেখে তুমি কেবল ঘুমোবে
আর, জেগে উঠে প্লাস্টিকের স্বপ্ন সাজাবে টেবিলে
প্রকৃত তোমার স্বপ্ন এতকাল পাখিরাই বহন করেছে

নিজেকে যতই ভাবো দীর্ঘ, আজ বলি—
পাখিদের চোখে তুমি সর্বদাই ছোট
নিজেকে জানার জন্য মাঝে-মধ্যে তোমার বাড়িতে
তাদেরকে নিমন্ত্রণ কোরো

ট্রেন

ট্রেন আমাদের নামিয়ে দিয়ে গেল

মাঝপথে, অচেনা স্টেশনে

মানুষ যেখানে যেতে চায় সেটাই কি গন্তব্য?
নাকি, তারা যেখানে নামে?
নাকি, গন্তব্যই খুঁজে নেয় তার নিজস্ব মানুষ!

বিহ্বল স্টেশনে নেমে আমরাও ভাবি—
এখানেই কি নামতে চেয়েছি
নাকি, ট্রেনই নামিয়ে দিয়ে গেছে আমাদের
….             ….   এই ঘন কুয়াশারাত্রিতে!

যেখানে নেমেছি, কিংবা যেখানে যাওয়ার কথা ছিল
কিছুই আসলে সত্য নয়

আমাদের চোখের সামনে শুধু ছবি হয়ে থাকে
…..           ….            ….            ….         …ট্রেনের জানালা
আর, খুব দ্রুত ছুটে চলা যমুনা ব্রিজ…

চিহ্ন

আপেলের অর্ধেক খেয়েছো
বাকি অংশ ছুড়ে দিয়ে কর্দমাক্ত রাস্তার ওপর
দেখলে, আপেল-দেহে আঙুলের দাগ

যে-কোনো মানুষ চায়, অতিক্রান্ত ভ্রমণের জমি
ঘাস নয়, পদচ্ছাপে আকীর্ণ থাকুক

আপেলে স্পর্শের দাগ থাকে না কখনো
এই ভেবে তুমি তাতে
দাঁতের গভীর চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছো
………………………………

সূর্যকে রেখেছি

পয়শা ছিলো না ভেবে দু’ পকেটে রেখেছি সূর্যকে
সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার সমস্ত পৃথিবী
সূর্যাস্তের লোভে যারা জমা হয়েছিলো শহরের ছাদে
মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে গেলো তাদের কয়েকজন
দু’পকেটে হাত রেখে আমি এগোলাম

হঠাৎ পাখির মতো দেখতে একটি কালো পাখি
অন্ধকারে ধাক্কা খেলো বাড়ির কার্নিশে
কাজেই সমস্ত লোক পাখি হয়ে গেলো
তাদের পয়শা আছে, এখন দরকার শুধু সূর্য

কিন্তু সূর্য আমার পকেটে

যে-মুহূর্তে লোকজন আকাশ খুঁড়তে শুরু করলো
তখনই আমার খিদে পেলো

পয়শা ছিলো না বলে দু’ পকেটে সূর্যকে রেখেছি।
……………………………………………

ঘুণপোকা

খেতে পারে ঘুণপোকা- তার দাঁতে গুঁড়ো হয়ে যায় সকল রহস্য
দেখো- গর্ভ থেকে তার জন্ম নিচ্ছে মৃত চাঁদ
আর, তার ডানা থেকে ঝরছে অবিরাম রাতবৃষ্টি
যেন সবকিছু আজ ভেসে যাবে ঘুণের দাপটে

যদিও তুমিই আজ পেয়ে গেছো ঘুণের স্বভাব
তোমার জিভের নিচে চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে ভাসমান নৌকাগুলি
ঘুণের সকল খাদ্য তোমার দখলে

বলি আজ শোনো- ঘুণপোকারাই অধিক মানুষ
তাঁদের দাঁতের নিচে নিরাপদে নিদ্রা যায় অপর ঘুণেরা


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ