,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

পান্ডুলিপিঃ কবি ও নন্দিনী ।। লুত্ফুর রহমান পাশা

লাইক এবং শেয়ার করুন

আত্ম পরিচয়

ওইযে পালক ছড়ানো শালিক, ওটা আমি। বিষন্ন বাতাসে
উড়াতেছে রঙ্গিন ঘুড়ি অলস বিকেলে হেমন্তের আকাশে।
আসে ঝিরিঝিরি শীতল সমিরণ। বেলা শেষে অস্ত রাগে
জুড়াইতেছে ক্লান্ত শরীর, তাল পাখায়, রাত্রি আসার আগে।

যে কিশোর দুরন্তপনার দায়ে মায়ের হাতে খেয়েছে মার
সে আর কেউ নয়। হারিয়ে যাওয়ার পর প্রতিচ্ছবি আমার।
এক পায়ে নুপুর পরে বাড়ী ফিরে সোনা রং মেঠো পথ ধরে
যে বধুর যার নাকের নোলক নাচে, কাখে কলসিতে জল ভরে।

আমি নিত্য থাকি তার জলের তলে। নড়ে উঠে হাতের বালা
রিনিঝিনি শব্দে। নামে পরীর দল মধ্য রাত্তিরে গাথে মালা।
বাড়ীর কাছে বিরিক্ষের ছায়া, কাঁঠাল চাপা, বকুল, হান্সাহেনা
যাদের কাছে রয়ে গেছে আমার চৌদ্দ পুরুষের অনাদায়ী দেনা।

বন ডাহুকের সখ্যতা গড়ে কাটিয়েছি জীবনের কতটা দিন
বার বার ফিরে আসি বুনোলতায় জড়িয়ে, কিছুটা ফুরায় ঋণ।
দেখো যদি এক ফোটা কুয়াশা ঝরতে গিয়েও জমে আছে
ধানের ছড়ায়। ওটা আমি, ঝরিনা ভয়ে ঋণ বেড়ে যায় পাছে।

শীতের রাতে যে কিশোর ধরা পড়েছে খেজুর রস চুরি করে
যে মানুষটা বারে বারে মুক্তি পেতে অনটনের দায় থেকে মরে।
সবুজ ধানের খেতে কাকতাড়ুয়ার হবার অসীম হাতছানি
ধোপা বাড়ীর ঘাট থেকে, বাড়ীর বৈঠক খানার যত কানাকানি।

আমি সব খানে থাকি নিজেকে লুকিয়ে রাখি, হারাবার ভয়
নেই এতটুকুও। তোমাদের মাঝে মিশে থাকার শত পরাজয়।
এ বাধন শত লজ্জার, কাগজের বউ রঙ্গিন আচলে গিট তুলে
আমি তার শাড়ির পাড়ে চোর কাটা হই, লজ্জার আবরণ ভুলে।

আমি তাতে নিবেদিত হয়ে পরাজিত হই এ বলে সান্ত্বনা জানি
সে পথ চলবে বাংলার মেঠো পথ ধরে, এইতো সার্থক মানি।
তাও যদি ওষ্ঠাগত হয়ে প্রাণ তৃষ্ণার্ত চাতকের মনে তৃষা জাগে
আমি জানি মিটিবে জলের তৃষা, বউটির কলসি আছে কাখে।

যে মেয়েটি আজ বিকালে ছুটেছিল দুরন্ত শালিকের আগে
আমি তার চুলে রঙ্গিন ফিতা হয়ে, বেনী হয়ে দুলি অস্তরাগে।
আমি শাসন হই, কান্না হই চোখে, মায়ের হাতে গরম খুন্তি
কেঁদে কেঁদে বুক ভাসালো যে শিশু তার নাম হোক কুন্তি।

যে শিশুটি কাদা মেখে বাড়ি ফিরেছে ডোলা ভরা মাছ হাতে
আমি ফিরি তার সমানে সমান পাছে কখনো বা তার সাথে।
মায়ের হাতে বকুনি খেয়ে আবার ফের মায়ের আচল খুঁজি
আমিও তার সাথে সুখের ভাগ নেবার তরে নিত্য যেন যুজি।

কবিতা ও নন্দিনী

শব্দের ধর্মঘটে নিশ্চুপ সবই, আমি সময়ের এক ক্রীতদাস
একদা আমিও মেতেছিলাম ভালবাসায়, এই হলো ইতিহাস।
যে জন কেড়ে নিয়েছে জীবনের সব সাধ, মনে রাখি তারে।
সাধ্য থেকেও কবিতা শোনেনি যে জন সে রইল অন্ধকারে।

শূন্যের সাথে ভাগ গুণনে কখনো অসীম আর কখনো শূন্য,
একই দোকানে এক নোটে  নিত্য বেচা কেনা হয় পাপ পুন্য।

শব্দ দিয়ে নিত্য মালা গাথি, কখনো শব্দের দামে শব্দ কিনি
কখনোবা দু-হাত ভরে শুধু কবিতা কিনি। কখনোবা নন্দিনী
কেউ কেউ আমারে শুধায়। তবে কি নন্দিনী কবিতা নয়?
আমিও শুধাই নন্দিনী যদি কবিতাই হবে? দুঃখ কারে কয়?

হৃদয় খেলা

অত সহজ নয় প্রিয়
পুড়ে, পুড়ায়,
কিছু কিছু ছাই কখনো রেখে যায়
কিছু দায় থেকে যায়, আলো জ্বালাবার।
আর কখনো, সব বিলীন করে দিয়ে যায়,
হাওয়ায়।

হৃদয় নিয়ে খেলা,
অত সহজ নয় প্রিয়। 

তৃষ্ণা

আমি বহুদিন, নিশিদিন
উথালি পাথালি, মেঘ রোদ বৃস্টি হীন
পুবেঁল হাওয়া হীন বিরহ নিশী, বড় অমলিন
কিংবা কখনো মলিন

নন্দিনি আমার ..
সকালের কাঁচা সোনা রোদ
এক চিলতে চৈতালী মেঘ, খরায় এক পশলা বৃষ্টি,
এক মুঠো পুবেল হাওয়া
ব্যথাতুর হৃদয়ের জীবন সঞ্জীবনী,
যেন প্রান ফিরে পাওয়া।

সান্ত্বনা

বহুদিন বহুপথ ঘুরে সুর্যের ঘ্রান মেখেছি গায়
বহুদিন বহুজলে বেয়েছি দু হাতে ডিঙ্গি নায়।
উজানে দেখেছি হিজলের গন্ধ ভরা তল
ঢোল কলমির বনে ঘাসফড়িং প্রাণ চঞ্চল
আমরা এখনো পায়ে পায়ে পথ চলি নিরব হয়ে
দুঃখ যত পাষানে বাধি বুক, এক নদী যাতনা লয়ে।
আমরা আজও চন্দ্রের টানে জলের ছবি আঁকি।
সান্ত্বনা এই টুকুই,এখনো এক আকাশের নিচে থাকি।

দলিল

নিলাম হবার আগে
জমির মালিকানা বুঝে নাও নারী
বেহাত হবার আগে বুঝে নাও তোমার সাড়ে বাচ বিঘা জমি।

লোলুপ শ্যন দৃষ্টি চারিপাশে
আগাছার বীজ জমে আছে মৃত্তিকায়
এখনই কর্ষন করো নারী,
                        জল দাও
                        ভেঙ্গে দাও
জড়তার ঢেলা
আবাদ করে দাও সুমিষ্ট চেতনায়।

তৃষ্ণার্ত কিষানী হও নারী
ছায়া ঘন বীথি তলে জিকির তুলো
তুমি কৌমুদিনী হও, হয়ে উঠো দুরন্ত কিশোরী
ছুয়ে দাও, অতি যতনে বীজ বুনে দাও।
ডনজের মালিকানা বুঝে নাও নারী
কেউ দখল করার আগে
বেহাত হবার আগে উর্বশী চাষের জমি।।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ