,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বিধান চন্দ্র বর্মণ-এর একগুচ্ছ কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

কৃষ্ণচূড়ায় রক্তিম নক্ষত্রেরা

সেদিন-
সমস্ত রক্তকণিকারা প্রচন্ড বিদ্রোহ করছিল!
দামামা বাজছিল দেহের প্রতিটি কোষে,
হৃদপিন্ডে এমনকি শিহরিত মগজে।
কালো পিচঢালা রাস্তায় তখন শকুনের তিক্ষ্ণ পাহারা!
সচকিতে ওরা থাবা দেয়
থাবা দেয় তাজা তাজা তরুণের প্রাণে!
রফিক, শফিকের রক্তস্রোতে জেগে উঠে কৃষ্ণচূড়া –
শিমুল -রক্তজবার এ শহীদ মিনার!
সেদিন-
বরকতের তাজা নিথর দেহে প্রষ্ফুটিত হয় এ বাংলাদেশ।
বর্ণমালারা নক্ষত্রের মতন জ্বলজ্বল করে –
অসীম রাতের আকাশে;
শহীদের খুনে লাল হয়ে শোভিত হয় আজ কৃষ্ণচূড়া!
শিমুলের ডালে গান ধরে হাজারও পাখি-
অবুজ শিশু “মা””মা” বলে ডাকে মধুর স্বরে!
পৃথিবী তাকিয়ে রয় বিস্ময়ে! আর আমরা বীরে-
উন্নত শিরে।।

জন্মভূমি

ওগো জননী জন্মভূমি
প্রগাঢ় শ্যাম সবুজে দাড়ায়ে আছ তুমি!
শ্যামল ছোয়ায় তুমি যে মধুর নিসর্গরূপনী
জন্মভূমি ওগো জননী।

তোমার ঐ কোমল বাংলার মাটি
এ যে আমার জীবন পরিপাটি;
কি কারণে ভুলিব আমি এ সজল লাবনী?
তুমি যে আমার জীবন প্রদীপ
সায়াহ্নে তুমি কর যে  সজীব;
তুমি স্বর্গ হতেও মনোহারিণী
ওগো জন্মভূমি, ওগো পল্লীজননী।

তুমি যে আমার মায়ের আচল
কত যে তোমায় করি চঞ্চল!
ওগো মা, ওগো পাগলিনী-
তোমারই বুকের মাটি এযে স্বর্গের ধরনী।

ওগো রূপসী মাতৃভূমি
কি অপরূপ রূপে সাজিয়েছে তোমায় অন্তর্যামী!
ওগো জননী জন্মভূমি।
আমারে ভুলিও –
তবু কোনদিন তোমায় ভুলিব না আমি।

তুমি যে আমার কাদা মাটি জলে
আমারে তুমি দেখ যে আকুল আঁখি তুলে!
তুমি যে কত শোভাশালিনী
ভরিয়ে দিয়েছ এ অবনী-
ওগো জন্মভূমি ওগো জননী।।

রচনাকাল: ১৮/০৩/২০১১ ইং

জানি, আমি কবি নই

কোন দিন কবি হব না আমি
জানি, আমি কবি নই
তবু লিখি আমি তোমাকে অদৃশ্য হাতে!
কল্প রাজ্যে রাজা আমি তোমার কল্পনাতে।
জানি,আমি কবি নই
তবু নয়ন পানে ভাসে অপ্সরীর মন্দাক্রান্তা নৃত্য!
স্বপ্নিল ভেলা ভাসে শূন্য নীলাকাশে –
লাল নীল রকমারি রঙ্গিন রঙ্গে!
হয়ত আমি কবি নই –
তবুও লিখি আমি তোমাকে,
আদিগন্ত থেকে সীমাহীন রেখার অগ্নুৎপাতে।
.
তিলোত্তমা নগরীর গাঁ ঘেষে চেয়ে থাকি
অন্তত দৃষ্টিহীন পেচকের রিক্ত পানে,
জেগে থাকি অনন্তকাল অমাবস্যার গহীন কালো আঁধারে!
রাত্রির গুহায় পাহারা দেই মুক থুবরে থাকা কুকুরের মতন
এক চরম ভালবাসার বিশ্বস্ততায় ।
.
তবু আমি কবি নই
জানি আমি কবি হতে পারব না কোনদিন!
বেদনার বালুচর জাহান্নমের আগুনে পুড়ে ক্লেদাক্ত ব্যঞ্জনায়!
তুমি অন্তঃপুরিকা হয়ে মগ্নগিরির চূড়ায় বসে নিমগ্ন হও,
হৃদস্পন্দনে কম্পিরকর ডঙ্কার সুরে –
যক্ষিণীর মতন চেয়ে থাকা শিকারে!
আমি সরলার রাগিনীতে পাঠাব এক খন্ড মেঘ –
আপন মহিমায়, আকুতির বিরহানল জ্বেলে
আদিগন্ত জ্বলুক এ নির্বাসন।
তবু তোমার অাগমনী টংকার ধ্বনি
আমার হৃদয়ে টান তুলে – আরও তুলুক।
কেননা আমি কোনদিন কবি হতে পারব না!
জানি আমি কবি নই।

রচনাকাল :১২/০৮/২০১৬

আজ বিজয়ের দিনে

আজ বিজয়ের দিনে মোরা
পেয়েছি মুক্তির স্বাদ,
শত বছরের সমর রঙ্গে
ভেঙ্গেছে শিকল -বাঁধ।

রক্ত ঝরে দিয়েছি পথে
বাংলার মাটি ভিজে,
গেরুয়া মাটি( রং) আজ রঙ্গিন হল
উদিত রক্তিম সূর্যে!

বুকের ভিতর ফুটন্ত আশা
ফুটিল কমল সভাতে,
রক্ত ভীষন ফোয়ারা অশ্রু
চকচক করে প্রভাতে।

আজ বিজয়ের দিনে বাঙ্গালী
পেল স্বাধীনতা,
তোপ ধ্বর্নি আকাশে বাতাসে
মুক্তির বারতা।

লক্ষ কোটি মায়ের মুখে
ফুটল হাসি হেথায়,
শিশ দিয়ে যায় দোয়েল পক্ষী
এখন আপন ইচ্ছায়।

নদীর বুকে পাল তুলে যায়
রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
দেশের তরেতে বাংলার ছেলে
জীবন রাখল যে বাজি!

আজ বিজয়ের দিনে রাখাল
বাজাইতেছে বাঁশি,
গগন চুম্বী বিপ্লবী সুর
যাচ্ছে ভাসি ভাসি।

হাল জোড়ানো কৃষক-চাষী
শুনছে কান পেতে,
দেখছে আবার সেই সুরের জাদু
সোনালী ধানের ক্ষেতে।

আজ বিজয়ের দিনে পাখি
গাইছে পথে গান,
হতভাগা সেই শিশুটির মুখেও
জেগেছে খুশির বান।

শত বোনের কান্না আজি
থেমেছে জয়োল্লাসে,
তবুও চোখে সেই স্মৃতির মহলে
রক্ত ধারা ভাসে।

মুক্তিযোদ্ধার অমর ত্যাগে
অবাক সূর্যদয়,
আজ বিজয়ের দিনে মোদের
নেইকো কোন ভয়।

বাংলার মানুষ এই দিনে হায়
পেল পরম সুখ,
ধন্য ধন্য ধন্য বাঙ্গালি
ধন্য আমার বুক।।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ