,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

একুশের কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

মাতৃভাষা–আবুল হাসান

আমি জানিনা দুঃখের কী মাতৃভাষা
ভালোবাসার কী মাতৃভাষা
বেদনার কী মাতৃভাষা
যুদ্ধের কী মাতৃভাষা।

আমি জানিনা নদীর কী মাতৃভাষা
নগ্নতার কী মাতৃভাষা
একটা নিবিড় বৃক্ষ কোন ভাষায় কথা বলে এখনো জানিনা।

শুধু আমি কোথাও ঘরের দরোজায় দাঁড়ালেই আজো
সভ্যতার শেষ মানুষের পদশব্দ শুনি আর
কোথাও করুণ জল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে,
আর সেই জলপতনের শব্দে সিক্ত হতে থাকে
সর্বাঙ্গে সবুজ হতে থাকে আমার শরীর।

সর্বাঙ্গে সবুজ আমি কোথাও ঘরের দরোজায় দাঁড়ালেই আজো
পোষা পাখিদের কিচিরমিচির শুনি
শিশুদের কলরব শুনি
সুবর্ণ কঙ্কন পরা কামনার হাস্যধ্বনি শুনি !

ঐযে নষ্ট গলি, নিশ্চুপ দরোজা
ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওরা, গণিকারা-
মধ্যরাতে উলঙ্গ শয্যায় ওরা কীসের ভাষায় কথা বলে ?

ঐযে কমলা রং কিশোরীরা যাচ্ছে ইশকুলে
আজো ঐ কিশোরীর প্রথম কম্পনে দুটি হাত রাখলে
রক্তে স্রোত গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে, শব্দ হয়, শুনি

কিন্তু আমি রক্তের কী মাতৃভাষা এখনও জানিনা !

বেদনার কী মাতৃভাষা এখনো জানিনা !

শুধু আমি জানি আমি একটি মানুষ,
আর পৃথিবীতে এখনও আমার মাতৃভাষা, ক্ষুধা !

মাতৃভাষা–রকিব লিখন

হাজার বছর সাক্ষী আমার মাতৃহীন মাতৃভাষার
সনাতন-পুরাতন, আধুনিক সব যুগেই আমার
কথামালার অমৃত নিয়ে সাজিয়েছে কত ইতিহাস
শব্দের পর শব্দের জরায়ু ভেদ করে জন্ম দিয়েছে শব্দ
আমার মনগহীনে অরণ্যের কথামালার দোলনি
সেও কত রূপে ঝর্ণার মত বৃষ্টির মত ফসল ফলায়
আমার স্বপন আমার ভুবন কত বিস্তৃত শব্দ বুনন
আসে আমার হৃদয়ে আমার মনগহ্বরে বৃষ্টির মতন
ভোরের ঊষার সোনালি আলোর মত হয়ে আসে দীপ্তি
আমিও পথ হতে পথে লোক হতে লোকান্তরে কাব্যবুনি
অজস্র ঝিকিমিকি তারার গাঁথুনির বন্ধ আস্তরণে
ভালোবাসার মত অগ্নিবীণার অজস্র নিঝুম কাব্য বনে
আমি হাঁটি তোমারই পথে তোমারই সাথে তোমার হয়ে
হৃদয়ে পোস্টার করে রাখি তোমার রূপ-যৌবনা বর্ণমালা

একুশের কবিতা – আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

একুশের গল্প — মহসীন চৌধুরী জয়

আত্মার কুহরে ছিল বাঙলা বর্ণ
নদীর সাথে ঢেউ
লাঙলের কর্ষণে জমির কথা বলা সাদৃশ্য
প্রাঞ্জল, স্বতঃস্ফূর্ত…
.
একদিন—
পূর্ব আকাশের পাখিদের চোখে মেঘ
শাসকশ্রেণির দমননীতিতে কেঁপে ওঠে ভাষামঞ্জিল।
শিথানে উঠে ঝঙ্কার, আত্মবোধের।
.
অতঃপর—
অধিকারের ডানা আকাশের ঠিকানা পেল
.
ময়ূরের পেখমমেলা যেমন প্রাণোচ্ছ্বাসের চিত্র…

একুশের কবিতা – মহাদেব সাহা

ভিতরমহলে খুব চুনকাম, কৃষ্ণচূড়া
এই তো ফোটার আয়োজন
বাড়িঘর কী রকম যেন তাকে হলুদ অভ্যাসবশে চিনি,
হাওয়া একে তোলপাড় করে বলে, একুশের ঋতু!
ধীরে ধীরে সন্ধ্যার সময় সমস্ত রঙ মনে পড়ে, সূর্যাস্তের
লীন সরলতা
হঠাৎ আমারই জামা সূর্যাস্তের রঙে ছেয়ে যায়,
আর আমার অজ্ঞাতে কারা আর্তনাদ করে ওঠে রক্তাক্ত রক্তিম
বলে তাকে!

আমি পুনরায় আকাশখানিরে চেয়ে দেখি
নক্ষত্রপুঞ্জের মৌনমেলা,
মনে হয় এঁকেবেঁকে উঠে যাবে আমাদের
ছিন্নভিন্ন পরাস্ত জীবন,
অবশেষে বহুদূরে দিগন্তের দিকচিহ্ন মুছে দিয়ে
ডাক দেবে আমরাই জয়ী!

একুশের চেতনা –রুদ্র আমিন

আজকের এই দিন যদি প্রতিটি দিনের মত হতো, তবে
তুমি আমি যতটুকু ভুল করি তার একটু হলেও
স্মরণ করে গতদিনের স্মৃতি মুঁছে দিতো ভুল ভ্রান্তি।
আমি বাঙালি বাঙলায় কথা বলি
এ যে মুখের বুলি অন্তরে কাঁদা মাটি,
মায়ের ভাষায় জন্মেছি বঙ্গেতে বলে বাঙলায় কথা বলি
একটি দিনে হতো যদি বঙ্গেতে জন্ম সকল বাঙালি;
একটি দিন নয় প্রতিটি দিনই হতো স্মরণ
মা, মাতৃভূমি, মাতৃভাষাকে জড়িয়ে প্রাণের আকুতি,

মা আমি তোমায় ভালবাসি তোমার কথায় বলি কথা
যত ভাই-বোন হারিয়েছি মা তোমার ভাষা সম্মানে
নয়নের জল রক্ত স্রোত হয়ে বয়ে চলে আজও।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
মা তোমার সন্তানদের আজও ভুলিনি
রফিক, শফিক, সালাম, বরকত আরও নাম না জানা
একুশ এলেই শ্রদ্ধা জানাই স্মৃতির চরণে ভরি।

আজও মা শত্রু এলে তোমার ভাষার জন্য
বিলিয়ে দিতে পারি প্রাণ, মা তোমার বঙ্গেতে জন্মেছে যত সন্তান
তোমার ভাষা অটুট রাখতে তারাও দিবে প্রাণ।

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। রাত-১১:১০, ২০.০২.২০১৪ ইং


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ