,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কালের লিখন-এর কবিতা “ভাতার পুরাণ”

লাইক এবং শেয়ার করুন

ভাতার আমার পিঠে দিইতে আসে, প্যাটে কিচ্ছু নাই। দুইবেলা খাবার জন্যেই তো দিনরাইত খাটুনি খাইটা যাই। ভাতার আমারে খাতার অংক ভাবে, এক আর একে মিলায় সে এগারো। একেএকে যে দুই হওয়া লাগে, এই সইত্য সে ভুইলা যায় আবারও। ভাতার আমারে সাঁতার শিখায় নাই, কোনোদিন দেহায় নাই ভাদ্দুর মাইস্যা বাদলার লাহান টলটইলা মন। বছর-বছর প্যাট ভরাইছে খালি, করছে বাচ্চা বিয়ানোর আয়োজন।

আন্ধার রাইতে, এ কাইতে ও কাইতে, রইদ-বাদলা ভরা শীতে। নিজের রক্ত খাওয়াইয়া জন্ম দিছি একেকটা নতুন মুখ। ভাতারের সাঁতারে মন, বীর্য দিয়াই সূর্য হইয়ে গ্যাছে। জানে না সে কিরাম হাহাকারে ফুল থাইকা ফল হয় গাছে। ভাতার জানেনা মনের তালাশ, জানেনা সে বেড়ার সীমানা, আসমানের বুকে কীসের জইন্যে হাহাকার। জানে শুধু সে ভাতের পরিমাপ। ভাতার কোনোদিন ঠাহর পায়না কোনকালে কোহানদিয়া হইলো সে বাপ!

আমি নারী, বুকের মইধ্যে পাহাড় ধরি, মেঘের মতোন অবাধ্য সব শিশু পাইলা মানুষ করি। ভাতার আমারে উঠতে-বইতে এজইন্যেও গাইল দেয়। কেন প্যাট থেইক্কা শুধু মুখ বাইর হয়? ক্যান মুখগুলানের লাগে খাবার? প্যাটে কিছু নাই, এখুন সুমায় হইছে যাবার।

যাওনের আগে একবার শুধু চিক্কুর মাইরা কইতে চাই- এই দুনিয়ার কোনো নারীই বেবাক দিয়া সুখে নাই। বস্তিতে থাক, শহরে থাক, দালান কিম্বা গাছের তলায়। সবখানেই সে যুদ্দু করে, সকাল সইন্ধা খাইট্টা মরে, ধুঁইকেধুঁইকে ভীষণ ক্লান্ত হয়- চাওয়া ইট্টু খাওয়া-পরা আর মাথার উপরে ছায়া। নিজের মনে চলে নারীর বেদনার আবাদ। যদি ভাতার সাঁতরাইতো একবারও মনের জলে! তাইলে- প্রকৃতি তুল্য নারীর চক্ষের জল যাইতো না বিফলে!

ভাতার পুরাণ [] কালের লিখন
কাব্যগ্রন্থঃ দীর্ঘস্থায়ী দীর্ঘশ্বাস (অপ্রকাশিত)


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ