,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বাবা দিবসের কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

বাবা

—মুহম্মদ নূরুল হুদা

যেদিক যাবা, যাবা
মনে রাখবা বাবা
আমার বাবা আসল বাবা
মুখজোড়া যার কাবা।

কাবার দিকে মুখ ফেরালে
বাবা পাওয়া যায়,
বাবার দিকে মুখ ফেরালে
কাবা পাওয়া যায়।

যেদিক যাবা, যাবা
মনে রাখবা বাবা
দিনদুনিয়ায় আল্লাহ্-রসুল
তারপরেই বাবা।

[২০০৮ সালে বাবাকে নিয়ে লিখেছিলাম
ছোট্ট ছড়াটি। তখনো বাবা বেঁচে আছেন।
এখন তিনি শুয়ে আছেন অনন্ত অম্বরে;
আর বেঁচে আছেন সন্তানের অনঙ্গ অন্তরে।
আজো আমি সশরীরে পথ চলি,
চলতে চলতে বলি :
বাবাই শুরু, বাবাই গুরু, বাবাই সর্ব-শুচি;
বাবা, তোমাকে আমার সশ্রদ্ধ কদমবুচি।
১৯.০৬.২০১৬]

বাবা

—রুদ্র আমিন

বুকের মাঝে জমাট বাঁধা দীর্ঘশ্বাস
সম্মুখ দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে একবারও বলতে পারিনি
বাবা, তুমি কেমন আছ, তুমি ভালো আছো তো ?

আমার কথা নয়, পাড়াপ্রতিবেশীদের মুখে অনেক শুনেছি
প্রশ্ন করতে করতে তোমাকে এতোটাই বিরক্ত করেছি যে
আমার সম্মুখ এলে তুমি ভয়ে পালিয়ে যেতে,
দেরি করে বাসায় ফিরলেও প্রশ্ন, সময়ের আগে ফিরলেও প্রশ্ন
খেতে প্রশ্ন, উঠতে প্রশ্ন, বসতে প্রশ্ন; প্রশ্ন আর প্রশ্ন
বাবা, এটা কেনো, কি, কেন হয় না; কখনো কখনো বিরক্তির মাত্রা বেড়ে গেলো
বজ্রকণ্ঠের মতো হুংকার দিতে, চোখ মুঁছতে মুঁছতে মায়ের কোলে কখন যে
ঘুমিয়ে পড়তাম বুঝতেও পারিনি। যখন ঘুম ভেঙে দেখি তুমি নেই
আবারও হাজারও প্রশ্ন মায়ে দরবারে,
মা বেঁচে যেতেন শুধু একটি কথা বলে, তোর বাবা বাড়ি ফিরলে জিজ্ঞেস করিস বাবা।

বসন্তের পর বসন্ত পেরিয়ে তোমার ছায়াতলে আজ আমিও বাবা
আজ আমাকেও হাজারও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, তুমি তা দেখে মৃদ হাসো
আর মায়ের নিকট বলো; দেখো আমার প্রশ্নের জবাব গুলো আজ তোমার ছেলেও
দিতে পারছে না।

আজ হৃদয়ে আঁচড় কেটে যায়, বড্ড যন্ত্রণা অনুভব করি বাবা
কেন সেদিনগুলোর মতো আজও তোমাকে প্রশ্ন করে জর্জরিত করতে পারি না
কেন হুংকারের পরেও তোমায় জড়িয়ে ধরে বলতে পারি না, বাবা, আমি তোমার
আমি কাঁদলে মা বলে তুমিও নাকি গভীর রাতে ঘুমন্ত ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে
নিশ্চুপ অশ্রুজলের বান নিয়ে আসতে।

মাঝ পথে তোমার বর্তমান অনুভব করতে পারিনি, হয়তো এটা আমার ব্যর্থতা
পৃথিবী এবং পরকালের জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল
তোমার অকুণ্ঠ ভালোবাসায়. অযাচিত স্বপ্ন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো, কিন্তু আজ
সাগরে জোয়ার আছে, ভেলা আছে, বটবৃক্ষের ছায়া আছে, কেনো সেই বাবা নেই
এতোটা বছর পর সেই তোমার শূন্যতা কুরেকুরে খাচ্ছে. আজ খুব মনে পড়ে
প্রতিদিনই তোমার কথা মনে পড়ে, বাবার বাবা মনে করিয়ে দেয় বাবার কথা

বাবা, তোমার মনে পড়ে কি সেদিনের কথা, যেদিন খাগড়াছড়িতে
টিপু সুলতান খেলতে গিয়ে সেগুণ গাছের ঢাল ভেঙে পরে হাতটি ভেঙে গিয়েছিলো
কতটা ছটফট করতে দেখেছি তোমায়, খরব পেয়ে দ্রুত ছেলের নিকট আসতে
কখন যে তোমার পা কেটে রক্ত ঝরছে তুমি কিছুই বলতে পারোনি, তবুও
জড়িয়ে আমায় বুকে চেপে ধরলে, কীভাবে তুমি আমায় নিয়ে হাসপাতালে গেলে বুঝতেই পারিনি

এতোটা বছর পর আজ সেই উষ্ণতা তোমার স্মৃতির মাঝে খুঁজে পাই,
তোমাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইতে ইচ্ছে করে, প্রতিটি মুহূর্ত খুঁজে পাই তোমার স্পন্দন
তুমিই আমার জীবন তুমিই আমার মরণ, ক্ষমা করো বাবা, আমাকে ক্ষমা করো
আজ তুমি পাশে আছো, আগামীকাল কিংবা এই মুহূর্তে হতে পারি গত আমি কিংবা তুমি
যদি ক্ষমা চাইতে না পারি, ভুলগুলো শুধরে নিতে না পারি, বড্ড পাপী; আগামীর দিনগুলি
আজ তুমি বাবা আমিও বাবা, যেমন তুমি পেলে তেমনি হয়তো একদিন হবে আমার পালা
ক্ষমা করো বাবা, ক্ষমা করো।

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০, রাত: ১২:০০, ১৯০৬২০১৬।

আমার বাবা

—সফিউল্লাহ আনসারী

বাবা আমার হাতটি ধরে
সামনে চলার ইচ্ছে জাগায় প্রাণে
বাবা থাকেন ছন্দ এবং
নিয়মসুচির বাস্তবতার ঘ্রাণে।

শিশু কিশোর দিনগুলিতে
বাবা থাকেন ভরসা হয়ে সাথে
হাতটি থাকে শক্ত বাঁধন অটুট
চলার পথে সদাই দিনে রাতে।

সাহস জোগান সুদৃঢ় বিশ্বাসে
জীবন ভরান ছন্দ এবং সুরে
শতেক দুখেও আমার বাবা কভু
আমার থেকে যাননি সরে দুরে।

বয়েস হল ভরসা বাবাই তবু
বাবাই আমার স্বপ্নকে দেন গড়ে
সকল কাজেই বাবার মায়ের ছোঁয়া
বিলিয়ে দেন আদর অকাতরে।

নাম দুখানি নিখাদ স্নেহে ঘেরা
অমূল্য ধন তাঁরাই সবার সেরা।

বাবা-ছেলের গল্প

—আতিক হেলাল

বাবাই প্রথম শিক্ষক আমার
বাবাই আমার গুরু
চক, পেন্সিল, কলম ধরা
বাবার কাছেই শুরু।

হাত ধরে তার হাটতে শিখি
জীবন চলার বাঁকে
বন্ধুর-পথে বন্ধুর মতো
কাছে পাই শুধু তাঁকে।

ছেলেকে ‘মানুষ’ বানাবেন বলে
শত কষ্টকে ভুলে
দিন-রাত খেটে মুখে ভাত, হাতে
বই দিয়েছেন তুলে।

সেই ছেলে নাকি ‘শিক্ষিত’ আজ
‘বড়’ হয়ে গেছে কতো !
বাবার কথাকে মনে হয় যেন
উটকো ঝামেলা যতো !

কতো রিচ ফুড, মিষ্টি ও ফল
অঢেল, স্বেচ্ছাচার !
বাবা আজ বুড়ো, খাওয়া দুরে থাক
পথ্য জোটে না তাঁর।

ছেলে বড় হলে সব হবে ভেবে
দিয়েছেন শুধু যিনি
সেই বাবাকেই প্রকৃত অর্থে
আমরা ক’জনে চিনি ?

পিতার কাছে এই পুত্রেরও
বহু অপরাধ জমা
তারপরও এই পিতা পুত্রকে
করবেন জানি ক্ষমা।

বাবা ডাকতে চাই

—এ বি এম সোহেল রশিদ
.
আচ্ছা বলবে আমায়
বাবা ডাকতে কেমন লাগে
যখন চিৎকার করে ডাকি
বুকটা আমার কেমন করে কাঁদে
পৃথিবীর সব তানপুরা এক সাথে বাজে
এমন ঝড়ো সুর কখনো শুনিনি আগে।
.
কেমন করে ডাকতে হয় শিখিয়ে দিবে
সেই যে কবে একাত্তরের আগে
ডেকেছিলাম মনে কি আছে ?
.
বয়স আমার চার কি পাঁচ
রাজারবাগের উল্টোদিকে
শান্তিবাগের বাসা থেকে
স্বাধীনতা আনবে বলে
বাবা আমার গেলো চলে।
.
মনে পড়ে
২৫ মার্চের কালো রাতে
বৃষ্টির মত গুলি
ক্ষতবিক্ষত হাজার হাজার খুলি
একটা লাল সবুজ হলুদ রঙা পতাকা
নির্জন রাতে উড়ছিল একা
শুধু এই অপরাধে
শুধু এই অপরাধে
আম গাছটা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে
কত মানুষ হয়েছে শহীদ
পুলিশ ব্যারাকে কতজন হয়েছে হত্যা
তা কি আমার মনে আছে?
কচি আমগুলো মিশে গেছে পতাকার সবুজে।
.
ভোরে সূর্য ফোঁটার আগে
শহর ছেড়ে দলবেঁধে অজানার পথে
আমার বাবা স্বাধীনতা আনতে গেছে।
.
একেক করে নয়টি মাস গেল
মাঝে একটা সরকারী চিঠি এলো
জানালো পাকিস্তানের সেনাবাহিনী
: রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে হয়েছেন গ্রেফতার
আছেন তিনি তেজগাঁও ছত্রীসেনা বন্দী শিবিরে
বাবা ডাকবো বলে সেখানেও গেলাম বার বার
কিন্তু ওরা বাবা ডাকতে দিল না আর।
.
বাবা ডাকার তারিখ পড়ল ষোলই ডিসেম্বর’৭১
সারাদিন জানালার শিক ধরে দাড়িয়ে থাকলাম
কি যে উল্লাস
অপেক্ষার উচ্ছ্বাস
একেক করে মানুষ আসছে
প্রজাপতির ডানায় সুখ নাচছে
এই প্রথম শুনলাম ভয়হীন গুলির শব্দ
ঠা ঠা ঠা শব্দে মৃত্তিকা জুড়ে ভাসছে আনন্দ
.
বিজয়ের পতাকা হাতে সবাই এলো
পাশের বাড়ির চাচা এলো
খালাত ভাই আবু সাইদ এলো
যাদের ডাকে যুদ্ধ তারাও ফিরে এলো
কিন্তু না
বাবা এলো না!
.
সেই থেকে শুরু
এখনো দাড়াই অপেক্ষা জানালায়
বাবা আসবে চুপি চুপি
মার্চ এলে খুঁজি
ডিসেম্বর এলে খুঁজি
স্মারক ডাক টিকিটে, স্মৃতি সৌধে, বধ্যভূমিতে খুঁজে পাই
বাংলা একাডেমির ‘‘স্মৃতি ‘৭১” বইটির পাতা উল্টাই
আর বাবার রক্তে বানানো লাল সবুজের পতাকা উড়াই
.
আমি একবার
আমি শুধু একবার
বাবা ডাকতে চাই
আমাকে শিখিয়ে দাও
আমি চিৎকার করে ডাকবো
বাবা
বা…. বা
বাবা।

আমার প্রিয় বাবা

—আনিস আরমান

সাতচল্লিশের একটি দিনে ভারত মাতার বুকে
বাবা আমার জন্মেছিলো থাকতে চরম সুখে।
সুখের ছোঁয়া হয়নি পাওয়া আগুন লাগে দেশে
আগুন থেকে বাঁচতে দাদায় ফিরলো বাংলাদেশে।
হিন্দু মুসলিম ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে,
রক্তের সাগর বহে সেদিন ভারতমাতার কোলে।
বাংলাদেশেও আগুন সেদিন জ্বলছে ঘরে ঘরে
বীর বাঙালি যেথায় সেথায় মরছে ভাষার তরে।
সকল বাধা সহে সেদিন বাবার বেড়ে ওঠা
সেই হতে আজ চলছে বাবার জীবন পথে ছোটা।
এখন বাবার সারাক্ষণই দিন কেটে যায় ক্ষেতে
পাশের বাড়ির কাকার সাথে গল্প কথায় মেতে।
মাঝে মাঝে দ্বীনের কাজে যায় বাহিরে চলে
দ্বারে দ্বারে বারে বারে খোদার কথা বলে।
আমার বাবার বক্ষ মাঝে ছিলো সবি ভরা
বিনা চর্চায় এখন বুঝি লাগছে একটু খরা।
সত্তর বছর পার করেছে আমার প্রিয় বাবা
দুই দুটিবার দেখছে খোদার ওই যে মহৎ কাবা।
বাবার মুখে মিশে আছে সদা মিষ্টি হাসি
যদিও বাবা ভারতীয় তবুও বাংলাভাষী।
আমার বাবার জিদ যে ভীষণ রাগটা খুবই কড়া
রেগে গেলে নেই তো উপায় চোখটা ছানাবড়া।
বাবা আমার ভীষণ তেজি অল্পতে যায় রেগে
ঘরের চালে বৃষ্টি নামে হঠাৎ বিনা মেঘে।
বাবার যখন রাগটা বাড়ে ভাই বোনেরা কাঁপে
আমি তখন পথটা খুঁজি পালিয়ে এক লাফে।
বাবা আমার কড়া গণ্ডায় হিসেব নিকেশ লেখে
ধীরে ধীরে যাচ্ছে বাবার গোঁপ দাড়ি সব পেকে।
লেখাপড়া হাঁটাচলা চশমা ছাড়াই চলে
সবখানেতেই বাবা আমার উচিৎ কথাই বলে।
বাবা আমার একটি সময় লিখতো কাব্য ছড়া
সংসার নামের ঝুট-ঝামেলায় হয়নি তা আর গড়া।
পুরনো দিনের সে সব খাতা করছি অনেক সাবাড়
বকাবকি খুব শুনেছি আমার প্রিয় বাবার।
আলমারির অই বইয়ের সারি করছি নাড়াচাড়া
হঠাৎ এসে বাবার ধমক, ‘শালার বেটা দাঁড়া’।
বাবার শখের কাব্য-কথায় মুগ্ধ হবে তুমি
আহা কি যে ভাষার মিলন দেবে তোমায় চুমি।
আজও বাবার সৃষ্টিরা সব কাঠের ফ্রেমে ভাসে
নিপুণ হাতের ফুলগুলো সব ঠোঁট রাঙিয়ে হাসে।
বাবার মুখে একটিই কথা ‘করবে লেখাপড়া’
‘খেলাধুলা নয়তো কোন আগে জীবন গড়া’।
‘পড়বে যেটা লিখবে সেটা মনোযোগের সাথে
নামাজ কালাম পড়বে তুমি সকাল সন্ধ্যা রাতে’।
“ঝগড়া বিবাদ করবে নাকো কারো সাথে কভু
দীনের ওপর থাকবে অটল জীবন যাবে তবু”।
জগৎ জুড়ে যাক ছড়িয়ে আমার বাবার কথা
‘বিশ্ববাসী পায় যেন ফের আপন স্বাধীনতা’।
দোয়া করবেন সবাই মিলে আমার বাবার তরে
প্রভু যেন আমার বাবার নেয় গো আপন করে।
আমিন।

পিত্রাশ্রম

—সোহেল আহমদ

যুদ্ধের তুমুল প্রহরে
জননীর উদরে যখন এসেছি-
আমি দুর্বল ছিলাম, অচেনা প্রান্তরে
নিরস্ত্র, নির্বাক, নির্বোধ।

তুমি শিখালে রণ-কৌশল মন্ত্র,
তুমি দেখালে পৃথিবীর পথ যত;
হাতে দিলে শত্রুহননের অস্ত্র,
শেখালে বুলি- ডাক হাঁকিবার;
রপ্ত করালে দিগ্বিদিক জ্ঞান!

আমার বিকলাঙ্গে পুষ্টি যোগালে,
বৈরী বাতাসের আঁচ লাগতে দাওনি,
আমাকে পাকাপোক্ত করতে
কতইনা ভোগান্তি সয়েছো!
কাঁধে উঠিয়ে টাল সামলানোর
দীক্ষা দিয়েছো,
খাইয়েছো- নিজে না খেয়ে!
তারপর কত রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে
ছাতা হয়ে রয়েছো মাথার উপর!

এখনো মনে পড়ে বাবা!
সেইসব দুর্যোগের কথা-
যেখানে তুমি নিরবচ্ছিন্ন কত যুদ্ধে
আমার আত্মরক্ষার ‘ঢাল’ হয়ে
আমাকে বাঁচিয়েছিলে-
কত বিপদের কবল থেকে!
বটবৃক্ষের মত নিজের ডালপালা মেলে
আগলে রেখেছিলে কত প্রাণনাশী ঝড়ে!

আজকে তোমার স্থান
কোন বৃদ্ধাশ্রমে নয়;
আমার বুকের ভেতরে একটা ছোট্ট
ঘর আছে। এসো বাবা, এসো-
আজীবন তুমি থাকবে এ বক্ষকুঠিরে!
বাবা তোমাকে ভীষণ মনে পড়ে
মোহাম্মদ ইব্রাহীম মুন্সী

ইচ্ছে করে তোমার হাত ধরে জেতে
নদীর তীরে,সারি সারি ঢেউর মাঝে
ঝাপটে পড়ে স্রোতে বেসে জেতে
তুমি টেনে তুলে বকা দিতে ।

ইচ্ছে করে তোমার হাত ধরে গঞ্জে জেতে
হাজার লোকের ভিড়ে করি ছুটা ছুটি
তুমি আমার নাম ধরে ডেকে,ধরে
বকা দিয়ে,বলতে যাবিরে বাবা হারিয়ে ।

ইচ্ছে করে তোমার হাত ধরে জেতে
শাল বনে,ডালে পাখির বাসা দেখে
বুক ছিঁড়ে উঠি,তুমি দেখে দাও বুকে
নেমে আয় নীচে,জাবিরে বাবা পড়ে ।

ইচ্ছে করে তোমার হাত ধরে জেতে
কাচা ধানের ক্ষেতে এলো মেলো করে
ছুটা ছুটি করি দাও তুমি বকে,
ধান মাড়ালে বাবা তুই খাবি কি-রে ।

ইচ্ছে করে তোমার হাত ধরে জেতে
যেখানে রয়েছো বাবা তুমি লুকে
আমিহীন সেথায় তুমি না আছ সুখে
বাবা ইচ্ছে করে শুধু তোমার বকা খেতে ।

বাবার কথা

—লাবণ্য কান্তা

বাবার কথা কিংবা মায়ের কথা লিখতে গেলে শব্দেরা শেষ হবে হয়তো; কিন্তু তাদের কথা লিখে শেষ হবে না। বাবাদিবস কিংবা মা দিবসেই লিখতে হবে , বলতে হবে এমন নয় __ তারা থাকে সবকিছুতে মিশে। একটুখানি হাতটা কেটে গেলে চিৎকার দিয়ে বলি, ‘বাবাগো!’। হাতটিতে গরম তেলের ছিটে পড়লে বলি, ‘ও মা!’। তারা তো থাকে এমনভাবেই ছায়াসঙ্গী হয়ে। নতুন করে দিবসের ঝাঁকুনিতে পড়ে কিছু লিখতে হলে লিখবো গেলো ডিসেম্বরে বাবা এসেছিলেন আমার এখানে, থেকেছিলেন ১৫দিন। তো একদিন বিকেলে বাবাকে একটি গুরুবন্দনা গেয়ে শুনালাম। বাবা তো মহাখুশি। তারপর আমার গানের ডাইরি, স্বরলিপির বই, খাতা, সব দেখতে লাগলেন। তার মাঝেই দেখলেন, একটি হিন্দি গানের স্বরলিপির বই রয়েছে। আমি তো গাইতে পারিনা, একটু একটু গাই ভুলকরা স্বরলিপিতে। বাবা জিজ্ঞেস করলেন, হিন্দি গানের বই দিয়ে আমি কি করি ?
হায়! আমি তো লজ্জায় পড়ে গেলাম।
বললাম __ বাবা, আমি তো অন্ধ, হিন্দি পড়তে পারিনা, একজন নেপালি ডাক্তার আমাকে বইটি গিফট দিয়েছেন। গিফটের জিনিস, তাই খুব যত্নে রেখেছি। বাবা বললেন, ” তোর পছন্দের গানগুলো দাগ দিয়ে দে; আমি নিয়ে যাই বইটি, দু’চারটা গান বাংলা স্বরলিপি করে দেবো।”
বাবা বইটি নিয়ে গেছেন, অবসরে সেই কাজ করেন। এই হলো বাবাদের ভালোবাসা। বাবা-মায়ের মন ভরে না দিয়ে, তারা এইভাবেই দিয়ে যান অবিরাম, অফুরান …

আমিও বাবা হব

— আমির আসহাব

আকাশের কোণে উদাসী মেঘে একদিন রাত আসত
একদিন স্বপ্ন আসত
একদিন আকাঙ্ক্ষা আসত তামাম আয়োজন হয়ে।

অসম্ভবের অদ্ভূদ নেশায় চেয়েছিলাম কুয়াশার রং হতে
খেজুরের রস হতে,
মাতাল মাদল হতে।

সবুজ ঘাসের বুকে ফড়িংগুলো সবুজ হয়
লাল সূর্যে নীলিমা হয়ে ওঠে লাল,
একদিন বাবাই বলেছিল আমিও বাবা হব।

এখন আমি বাবা;
রাতের আকাশে দেশ খুঁজি
বড্ড বেখেয়ালের মানে বুঝি।

পরম বাবা

—জাফর পাঠান

শৈশবের প্রারম্ভে যখন আমি – বুঝতে শিখেছি
স্মরণের পাতায় স্মৃতি জমা করতে সবে শুরু করেছি,
বাবা সেই সময়ের কথা বলছি
হতবাকে তোমায় ভালোবেসেছি।
বাবা, আমি দেখেছি!

তুমি আমার জন্মদাতা পিতা, ধরার আশ্রয়দাতা
ধরণীর সমস্ত বৃক্ষরাজি মিলে যেথা হয়েছে বৃথা,
সেথায় সর্বেসর্বা তোমার পিতৃছায়া
কেমনে ভুলবো তোমারি মায়া।
বাবা, আমি দেখেছি!

পরিশ্রান্ত দেহ নিয়ে কর্মক্ষেত্র থেকে যখন ফিরতে
শত ক্লান্তিতেও তুমি ক্লান্তিহীন-সেই ভাব ধরতে,
দু’হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নিতে
ভরিয়ে দিতে গাল শত চুমুতে।
বাবা, আমি দেখেছি!

তুমি যখন খেতে বসতে আমাদের সাথে পাশে
আমাদের চাহিদা পুষাতে-দেখতে ঘাটতি কিসে,
সেরাটি দিতে আমাদের পাতে
কত ইনিয়ে বিনিয়ে খাওয়াতে।
বাবা, আমি দেখেছি!

কষ্টার্জিত স্বল্প আয়ের ভিতর কেটেছে তোমার জীবন
শত চড়াই-উতড়াই পেরিয়েও-জ্বেলে রেখেছো উনুন,
বুঝতে দাওনি তোমার বিষণ্ণ মন
আগলিয়ে রেখেছ বুকের ধন।
বাবা, আমি দেখেছি!

মন রক্ষায় কত আবদারের পরিপূরক হয়েছো তুমি
নিজকে বিলিয়ে যুগিয়েছো তা, বুঝতে পারিনি আমি,
অবুঝ মনের ঐ অত্যাচার
সয়েছো তবু করোনি বিচার।
বাবা, আমি দেখেছি!

জীবন নিংড়ানো নির্যাস ঢেলেছো সবটুকু-রাখোনি কিছু,
যৌবন পেরিয়ে তুমি এখন অক্ষম, হয়েছো ছোট্ট শিশু,
নিজের জীবন দিয়েছো বিলিয়ে
ত্যাগের সাথে বুকে বুক মিলিয়ে।
বাবা, আমি দেখেছি!

বাবা-শিশুতে যখন ছিলাম অসহায় তুমি ছিলে সহায়
ভয় নেই বাবা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে করবো তোমায়,
তোমার আখিঁ হতে দিবোনা সিক্ত
তোমার সেবায় থাকবোনা রিক্ত।

ভেবোনা বাবা, এখনও যে বেঁচে আছি আমি।

( কাব্যগ্রন্থ : দ্রোহের দহন )

বাবার চোখ

—শেখর দেব

গ্লানির জল ঝরেছে চোখে। রক্তের প্রবাহকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে গড়েছে বাগান; তেপান্তরের মাঠ মনে বেঁধে ফুটেছে ফুল। প্রজাপতিরা হেসেছে । এসেছে সুনিবিড় সুন্দর। বসন্তের খোঁজে কোকিল আর প্রজাপতি করেছে সভা।

বোশেখের এলোতুলি শেষমেশ রাখেনি অবশেষ। মিছে মায়ায় রক্তকে ভালোবেসে গিয়েছে প্রজাপতির কাছে। প্রজাপতি এখন আবেগী বাগান চিনে না। চোখ দুঃস্বপ্নের আলো নিয়ে ছুটছে সুদূর।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ