,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ইউয়ান মিই-এর কবিতা : অনূদিত আবুল কাইয়ুম

লাইক এবং শেয়ার করুন

(ইউয়ান মিই (১৭১৬-১৭৯৭) চীনের কিং রাজবংশের (Qing dynasty) আমলের অন্যতম সেরা কবি। অভিজাত ও সামন্ত হওয়া সত্ত্বেও উদারনৈতিক আদর্শ, গভীর নিসর্গপ্রেম ও সহজ-সরল কবিত্বের জন্য তিনি পাঠকনন্দিত হন। তিনি সুই গার্ডেন নামে বিশাল বাগানবাড়ি সমেত একটি তালুক কিনে সেখানে বসবাস করেন। এই সুই গার্ডেনে চীনের কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের সমাবেশ ও জমজমাট আড্ডা হতো।)
——————————————————————-

বা লিং-এর পথে
========
দংতিং হ্রদ দিয়ে যাত্রা পশ্চিমের দিকে-
গন্তব্য ঈশ্বরীর মন্দির,
যেখানে ক্লান্ত পান্থজনকে চাঙ্গা করতে
রঞ্জিত ভ্রু নিয়ে অপ্সরীরা অপেক্ষমান।
সেই পার্বত্য শহর এই সময়ে যাপন করে থাকে নীরবতা,
সন্ধ্যে হতে না হতেই গুটানো দোকানপাট,
দুর্গ-চূঁড়োতে জ্বলে না কোনো বাতি,-
নেৌকো ভিড়াতে আমাদের হয়ে গেছে একটু দেরি।
এখানকার ভাষার ছাইভস্মও বুঝিনা, বলা তো দূর,
দোভাষী ছাড়া রক্ষে নেই।
কিন্তু এ জায়গার পাখিরা অদ্ভুত সুন্দর,
অচেনা পাখিদের কন্ঠের কাছে আমার ছন্দ-গীত লজ্জ্বিত।
আজও আর বেলাবেলি পেৌঁছুনো গেলো না,
এমন মাঝি পেলাম না যে আমার হৃদয় বোঝে।
প্রতিবারই নেৌকোর কেবিন থেকে জানালা খুলি,
দেখা যায় তীরের ফুল-শাখা, কিন্তু পেৌঁছুতে পারি না।

সুই গার্ডেনে বিবিধ অনুভূতি
=============

১.
বাহ্যিক ব্যাপার-স্যাপার কারণ নয় আনন্দ ও ক্রোধের:
কেবল মনের মাঝেই তারা জাগে।

শুধু ভাগ্যের কারণে হয় না উত্থান-পতন,
সবাই তাদের কবলে পড়ে ঘটনাক্রমে।
অধ্যয়নে কিছুই পাই না খুঁজে,
বই ছেড়ে উঠে পড়ি, হাঁটি।
মন চায় বাঁশ বাগানে চলে যেতে
যেখানে শুনতে পাবো বসন্তের জলতরঙ্গ।

২.
আমার পাঠ সাঙ্গ করার জোর উচ্চারণ শোনা মাত্র
চার ধার থেকে ছুটে আসে অপেক্ষমান চাষার দল।
স্বাস্থ্যবান যারা- কাঁধে বয়ে নিয়ে আসে মস্ত নিড়ানি, লাঙল,
আর পলকা বুড়োদের পায়ে থাকে শণের জুতো,
বসার জন্য বাঁশের চাটাই সাথে রাখে যারা সুখি,
ক্লান্ত কাঠুরেরাও এঁটেসেঁটে বোঝাগুলো বেঁধে রেখে আসে ।
তারা আমাকে ঘিরে বসে পড়ে বৃক্ষের ছায়ায়,
আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে হৃদয় মেলে ধরি।
“এ বছর আমাদের কী ভোগান্তিই না হয়েছে বৃষ্টি ও ঝড়ে,
এখনো উৎকৃষ্ট বৃক্ষচারাগুলো রোপন করা গেলো না।
আমরা শুনলাম তুমি বই পড়ছিলে উচ্চ:স্বরে,
হতে পারে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছো”।

আমি ভালোবাসি এইসব মানুষ, তাদের সৎ ও সরল প্রকৃতি
এবং ছোটো ছোটো শিশুর মতো তাদের বলার ধরন।
আমরা প্রত্যেকে এক এক পেয়ালা ধেনোমদ পান করি
এবং শুয়ে পড়ি জলাভূমির ধারে ঘাসের পাঁজায়।

৩.
এই উঁচু স্তম্ভ নির্মাণের জন্য আমার দিকে ঠাট্টা ছুঁড়ো না কেউ;
স্তম্ভ অবশ্য এমন উঁচু হওয়াই দরকার।
তিন মাইল দূর থেকেও যদি আমার মনোযোগ কাড়তে চাও,
আমি ঠিকই এখান থেকে দেখবো তোমাকে।
এখানে যদি আসতে চাও গাড়িতে চড়ে এসো না;
গাড়ির উটকো শব্দে আমার পাখিরা ভয় পাবে।
এখানে যদি আসতে চাও ঘোড়ায় চড়ে এসো না;
ঘোড়ার দাঁতে নিধন হবে আমার ঘাসেরা।
একান্ত যদি আসতেই হয়, দয়া করে প্রভাতে এসো না;
এখানে পাহাড়ি প্রাণীকূল খুব ভোরে জাগতে পারে না।
আর যদি আসোই, গোধূলির আগেভাগে চলে যেও;
তখন বিবর্ণ হয়ে ঝরে যাবে বাগানের সব ফুল।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ