,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

শুদ্ধতার কবি সৈয়দ রনো’র একগুচ্ছ কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

অনুভূতি 

আমি কখনই আমার ছিলাম না
ছিলাম তারুণের উন্মাদনায় কলাবতীর প্রেম
শুভ্রছেনালির চুম্বনে সেদিন
হামাগুড়ি দিয়ে কথা হয়েছিল হৃদয়ে হৃদয়ে
ফুরফুরে দক্ষিণা বাতাস উড়িয়েছে ঘোমটার আঁচল
কলাবতী হেসেছে কেঁদেছে
বেঁধেছে বুক আনন্দের চৌকাঠে

আর আমি
আমার কথা আপনারা নাইবা শুনলেন
অন্ধ ভালোবাসার নদে
কতই না খেলেছি ডুব সাঁতারের খেলা
কলাবতী সেও ভিজিয়ে রেখেছে
অনুভূতির আঙিনায়
আমোদে আহ্লাদে
সূর্যের কিরন হয়ে খেলেছে
চাঁদের সাথে লুকোচুরি

এইযে পৃথিবীটা দেখছেন
দেখছেন মাথার উপর প্রশস্থ আকাশ
এ সবই ছিল আমাদের প্রেমের বিস্তৃত আঙিনা
কামনার নোনাজলে ভিজিয়ে রেখেছি
এক বুক আকাঙ্ক্ষার সুখ
অনুভূতির নীলাভ সন্ধ্যায় ঝরিয়েছি আকুতির মেঘ
সেই আমি তলিয়ে গেলাম
বাস্তবতার কুলভাঙ্গা স্রোতে

সেদিন নিরবে নিভৃতে শুনেছি
কলাবতীর হৃদয় আকাশে এখনও উদিত হয়
এক ফালি চাঁদ
এখনও ঢেউ এর তোরে ভাঙ্গে দেহের জমিন
না পাবার বেদনায় গুমরে গুমরে কাঁদে মনুষ্যবিবেক
আমিও নিলজ্জ যন্ত্রণার সবটুকু কাধে নিয়ে
দাড়িয়ে থাকি কষ্টের চাতালে

না এখন যে আমাকে দেখছেন তা মোটেই আমি নই
আমি এখন সাইক্লোনের ঘূর্ণায়মান চাকায়
দলে পিষে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া মানুষের কঙ্কাল
আমার দেহ রেবনের চশমাপরা চোখ
দামি জুতাপরা পা হাত কিংবা আংটি পরা আঙ্গুল
কিছুই আমার নয়
এগুলো সব বিধাতার বন্ধিসালা থেকে ধারকরে আনা
আমার স্বাধীনতা সেতো জনম জনমের
কলাবতীর প্রেম

আমি কিন্তু আমাকে নিয়ে
কিছু রাজনৈতিক পচনধরা নেতাদের মতো
মোটেই মিথ্যাচার করছি না
কলাবতীর প্রেমে আমি মথুরায় জন্মেছিলাম
সে ছিল আমার ধ্যানের দেবতা
আর মানব জনমের এই পাপাচার মিথ্যাচার
সবই আমার অভিশপ্ত আত্মার
স্বাধীনতাহীন করুন কাহিনী

আমার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে
কিন্তু মোটেই স্বাধীনতা নেই
আমি সময়ে অসময়ে পাখির ডানায় উড়ে
ঘুরে বেড়াতে চাই পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে
পারি না
আমি মেঘ হয়ে ভাসতে চাই আকাশের কোলে
তাও পারি না
আমি সন্ধ্যা তারা হয়ে জ্বলতে চাই
কলাবতীর চোখে
বাস্তবে আমি তাও পারি না
বার্থতার যন্ত্রণা আমাকে খুবলে খুবলে খায়
নিরুপায় আমি ভাবতে থাকি
আমি কি আমার নাকি কলাবতীর প্রেম
আমার মন আর দেহ মোটেই এক স্বত্বা নয়

আমি এখন পৃথিবী নামক জেলখানায় বন্ধী
কিছু স্বার্থবাদী মানুষ আমাকে নিয়ে খেলে তামাশার খেলা
নিরুপায় আমি প্রতীক্ষার প্রহরগুনি
এইতো বুঝি ডাকবে কলাবতী
কাঁদবে লোকালয়
পিছন ফিরে না তাকিয়ে চলে যাব আপন ঠিকানায়
শুধু পড়ে থাকবে আমার স্মৃতি
পড়ে থাকবে এই পৃথিবীর যন্ত্রণা
ভাগাভাগি করে নেয়া কিছু আপন মানুষ
পড়ে থাকবে আমাকে ঘিরে
বেড়েওঠা কিছু আবেগময় মুহূর্ত
কিছু হাসি কান্নার ক্ষতচিহ্ন।

বিবেক বোধের খোলা চিঠি

প্রিয়ন্তিকা,

কষ্টঘেরা শুভেচ্ছা রইল। কেমন আছ কোথায় আছ ? জানি না। আজ এই দুঃসময়ে বড্ড বেশি মনে পড়ছে তোমাকে। মনে আছে কি পৃথিবীর তাবত সৌন্দর্য ছিলো তোমার ঘরবশতি। নান্দনিক আলোর প্রজ্জলনে আমি, আমরা ছিলাম কাব্যবাগানের এক ফুটন্ত কলি। সময় গড়াতে এখন বিরহ জ্বালায় অতিষ্ঠ আমি। ক্ষমতা লিপ্সুদের নৈরাজ্যে আমি অসহায়। সবকিছুই আমার নাগালের বাইরে। প্রিয় জন্মভূমির কোলে পিঠে বেড়ে ওঠা কিছু কৌশলী মানুষের নগ্ন থাবায় অতিষ্ঠ আমি তাই ভিশন জানতে ইচ্ছে করে, আর কত রক্ত ঝড়বে এই বাংলায় ? আর কতো প্রাণের বলিদানে শীতল হবে আমার মা মাটি ?

একজড়াজীর্ণ ছেঁড়েফাঁড়া সময় অতিক্রম করছি আমরা। হাতের তালুতে গজিয়েছে বিষবৃক্ষ। অনুভূতিতে রাসয়নিক বিষক্রিয়ায় পচন ধরা পাকস্থলির দুরগন্ধ, তাইতো চেতনায় দুঃসময়ের ভয়াল দহন। প্রতিদিন অন্ধকার গিলে খায় কৈল্লিনের হাসি, লোকালয়ে নেমেছে এক অদ্ভুত আঁধার। বন্ধ্যা নারীর জঠরে কখন জন্মনিবে আলোক প্রভাত। একবুক প্রতীক্ষায় তাকিয়ে থাকি চাতক পাখির চোখে। ভোরের প্রতীক্ষার ক্লান্তিতে চারপাশে খেলা করে রাতের নিরবতা। শত দুঃখেও ভুলতে পারি না আমার অস্তিত্ব। প্রিয় জন্মভূমির এক দুরভাগা সন্তান আমি। প্রিয়ন্তিকা, কেউ আমার চিঠি পড়ুক আর নাই পড়ুক দুঃখ নেই। শুধু তুমি পড়লেই আমি আশ্বস্তে বুক বাধবো এই নির্মমশহরে। ভিশন জানতে ইচ্ছে করে তুমি কি ভাবে এই কাঠখুট্টা শহরের বিধবা মাটি আগলে আছো ?

উদভ্রান্ত পথিকের মতো ছুটতে ছুটতে আমি ভিশন অবসন্ন। শরীর দিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে ক্লান্তির ঘাম, যেখানে মিশে নিরগত হয় রক্তকনিকা। আমি অতি কষ্টে ঘুমিয়ে আছি অদ্ভুত এক তামাশার কফিনে। কবরের ঘুটঘুটে অন্ধকার, শুনশান নিরবতা আজ আমার নিত্যসাথী। এই সমাজ ব্যবস্থা, এই রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রের নির্মম সরকার, মাথায় পচনধরা কিছু শাষক প্রতিদিন আমাকে তাড়াকরে ফিরে। মিথ্যে চাটুকার কিছু আমলা, দুর্নিতীর জড়াগ্রস্থ প্রশাসনের সাথে মোটেই খাপ খাইয়ে নিতে পারছি না আমি। প্রিয়ন্তিকা, বিবেক পোড়া গন্ধে উম্মাতাল আমি। যখন দেখি ভিনদেশীদের ফতোয়ায় চলছে আমার স্বদেশ, তখন নিজেকে নিজের মধ্যে লুকাই আবার কখনো মাতাল হই। সেদিন তোমার দেয়া চিঠি পড়ে নির্বাক হয়েছি আমি। আমি ভিক্ষুক নই, নই কোন কর্মক্ষোম মানুষ।

তুমি বলেছ একচিলতে হাসির জন্যও টেক্স বসাবে এইদেশ। শত দুঃখ কষ্ট ভুলে থাকার জন্য প্রাণ খুলে হাসি তাও যদি এই মহান সংসদ টেক্সের আওতায় আনে তাহলে কি নিয়ে বাচব আমি ? এই দেশ আমাকে কিছুই দেয়নি, কেড়ে নিয়েছে যৌবনের বেশ কয়েকটি বছর। প্রিয়ন্তিকা, ভাবতে অবাক লাগে মানবীক মূল্যাবোধ এখানে নিলামে ওঠেছে। বেলেল্লাপনায় সিদ্ধহস্ত অত্যাচারী কিছু দাড়কাক আমাকে ঠুকরে ঠুকরে খায়। আমি এঘর ওঘরে ফেরিকরি মানবতা। না কোথাও মানবতা নেই, দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা এখন মানুষের মমিকরা কঙ্কাল। ভিন্নমত দমনের স্বার্থকতায় সে এক ভয়ঙ্কর পাথর মানব। প্রিয়ন্তিকা, দুঃখ আর মানবিক কষ্টের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে আমি, মুল্যবোধ দেখার জন্য নিরুপায় ও বাধ্য হয়ে যাদুঘরে গিয়ে ছিলাম, সেখানেও পেলাম না। সরকারের বসিয়ে রাখা কিছু মূর্তী, আমাকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো, এ দেশ তোমার বিপন্ন স্বদেশ। এখানে চাটুকারের মস্তকে পরানো হয় রাজ মূকুট।

অনেকদিন হলো নেপলিয়ান বুনাপাট এর কথার সুত্রধরে ভাবছি, কোথায় আমার ভাত আর ভোটের অধিকার। কোথায় আমার গণতন্ত্র ? আব্রাহাম লিংকন কি তাহলে গণতন্ত্র নিয়ে ভুল ব্যখ্যা দিলেন ? হিটলার আর মুসলিনের পেতাত্বা এখন বাংলার ভাগ্যের নির্মাতা। তাহলে দেশাত্ববোধ, সেও কি সত্বায় বিক্রী হয়ে গেল। নাকি পাচার হয়েছে ভিন্নদেশে। প্রিয়ন্তিকা, বরফগলা নদী পারি দিয়ে পাহাড় পর্বত ডিঙ্গিয়ে, স্বপ্তআকাশ ছোঁয়ার মনোবল নিয়ে, আমার পূর্ব পুরুষ মুক্তিযুদ্ধে গেলেন, বুকের তাজারক্ত ঢেলে দিয়ে ছিনিয়ে আনলেন, বাংলার স্বাধীনতা। মায়ের ইজ্জত আর বোনের সমভ্রম হারানোর মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বধীন সর্বভৌম এই রাষ্ট্র। এই মানচিত্র, এই পতাকা, এই স্বাধীন সার্বভোম রাষ্ট্র সেতো আমার, আমাদের, স্বাধীনতাকামী জনতার অর্জন। কেন? আমি মুক্ত আকাশের নিচে দাড়িয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারি না।

কেন আমি মনের গহিন অরন্যে লুকিয়ে রাখা স্বাধীন শব্দ উচ্চারণ করতে পারি না। কেন আমার মৌলিক অধিকার এখন স্বার্থবাদীর দখলে। কেন মধ্যরাতে একদল মাতাল ভাগাভাগি করে নেয় দেশের ক্ষমতা। এ কেমন স্বাধীনতা/ এ কেমন গণতন্ত্র ? / কোথায় আমার মৌলিক অধিকার রক্ষার সংবিধান ? সেতো এখন স্বার্থবাদীর দখলে। আমার ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর কতো রক্তদেব ? আর কতবার মন্দিরে পাঠার বলি হবে, এই লক্ষ কোটি জনতা। উত্তরের প্রতিক্ষায় টগবগ করে আমার মগজ। প্রশ্নবানে জরজড়িত আমার হৃদয়। মোহের বন্ধ দরজায় আটকে আছে শাষক গোষ্ঠির মনুষ্যবিবেক। ক্লেদের আবরনে ঢাকা পড়েছে আমার জন্মভূমি। স্বার্থবাদীর থাবা থেকে মুক্তহোক আমার মা’মাটি।

রাষ্ট্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় ক্রসফায়ারে মানুষকে নির্বিচারে পাখির মতো হত্যা করা হয়। খুঁন রাহাজানি ধর্ষনে আতঙ্ক এ নগরী। অমানবিক দৃশ্য দেখতে দেখতে আমার বিবেক এখন পৃথীবির শ্রেষ্ঠ কনড়েম সেল। বিবেক পোড়া গন্ধে অসহ্য নরক যন্ত্রনায় আমি কুকিয়ে উঠি। কৌশলী কিছু মানুষের দাবানলে জ্বলে পুড়ে আমি হয়েছি ছাই ভস্মের এক অগ্নিকুণ্ড। আমার শরীরের ক্ষতে যে গনগনে ঘা সেই ঘায়ে লাগা অগ্নিতে জ্বলে পুড়ে আগুনের লেলিহান শিখায় উদিত হোক আগামীদিনের সূর্য। কাংখিত সকাল। যেমনটি চায় আমার জন্মভূমির সিংহভাগ মানুষ।

ভাবের পদাবলী-১

দেশটা নিয়ে হুদাই কেন
করছো তিড়িং বিড়িং
বিদায় করুন ঘন্টা হেসে
বাজছে কিড়িং কিড়িং।

দেশটা নিয়ে তোমরা কেন
দাবার চালে মাতো
দেশ চালাতে পাশফিরে কেন
হাত দু’খানা পাত।

দুঃখ আমার হাসছে শোন
তোমায় দেখে রোজ
এই ক্ষমতা হারিয়ে গেলে
কেউ কি নেবে খোঁজ।

হয়তো তুমি ভাবছো বসে
এই ভাবে দিন যাবে
ভুল ভেবেছো তা হবে না
অন্য জীবন পাবে।

থাকতে সময় হিসাব মিলাও
কোথায় হবে বাস
একটু ভাবো সবাই মানুষ
নয়কো তোমার দাশ।

অহমবোধের চিঠি আসে
স্বৈরাচারি খামে
জোর দখলে আটকে গদি
ফ্যাসিসবাদী নামে।

এই বাংলার সূর্যসেনা
বাঘের থাবায় শুধরে দেনা
নয় ভিতু নয় সেউ
ভুল করে তাই বাঘ সেজেছো
শেষ জামানার ফেউ
আসবে তেড়ে বীর বাঙালী
কাঁদবে তুমি ঘেও।

গণতন্ত্র

গণতন্ত্রের মন্দির এখন স্বার্থবাদীর দখলে
যেখানে রাতের অন্ধকারে চলে
পরশীর পরকিয়া প্রেম
ছেনালী বধুর উলঙ্গ নৃত্য
বন্ধ্যা সময়ের পিঠে সওয়ার হওয়া
ওকি ও জারজ সন্তানের চিৎকার
নাকি পচে যাওয়া সংস্কৃতির জলন্ত দহন
বেসামাল আমি ধুলায় লুটিয়ে পরি

অভাগার ক্রন্দনে দাও দাও করে
জ্বলতে থাকে বিবেক বোধের চিতা
জ্বলন্ত চিতায় পুড়তে পুড়তে আমি
ছাইভস্মের এক প্রজ্বলিত অগ্নিকুন্ড
ঢোল করতাল আর উলোধ্বনিতে মূখরিত চারদিক
আমি আমাতে লুকিয়ে পরি
গুমট হাওয়া কানে কানে ফিস ফিস করে বলে
সেবাদাসির পদপৃষ্ঠে গড়াগড়ি খায় আমার এই দেশ
বাংলার প্রতি ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি
কোকিয়ে কেদে ওঠে
আমিও কেদেছি বৃষ্টির চোখে
অঝর বৃষ্টিস্নানে শীতল হবার প্রতিক্ষায়
এখনও জেগে আছে আমার প্রিয় জন্মভূমি

পরজীবি লম্পটের কলঙ্কমাখা হাসিতে
থর থর করে কেপে ওঠে পৃথিবী
বেলেল্লাপনার বেহুদা মানব সেজদায় আক্রান্ত এ দেশ
মানব ফসিল থেকে জন্মনেয়া
সৌরজগতের তামাম আলো নিভে যায়
গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যায় এই জনমানুষের লোকালয়
গণতন্ত্রকামী বিদ্রোহীদের পাঁজর ভাঙ্গার মর্মমর্ম শব্দে
কেপে ওঠে এই বিশ্বভূমাণ্ড
কচুরি পাতার পানির মতো টলমল করে
টলতে থাকে মানব হৃদয়
অতঃপর সিদরাতুল মুনতাহা
আরশ কুরচির পাড়ামহল্লার
প্রতিটি ঘুমন্ত মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে
তবু নচ্ছারদের নষ্ট ভ্রুনে জন্মনেয়া
প্রতিবেশির নিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল
ছেয়ে ফেলে আমার দেশ
নষ্ট করে আমার গনতন্ত্র
মা মাটির উর্বর ভূমি

চারদিকে শুধু তেলেচমাতির খেলা
মিথ্যের অভয় অরণ্যে হিংস্র জীবযন্ত্রুর
সাথে আমাদের ঘর বসতি
রাজপথের নরঘাতক এখন বেশ্যার দালাল
সেও হতে চায় গঙ্গাজলে ধোয়া
তুলসিপাতার ন্যায় পুতপবিত্র
সে দিনও বেশি দূরে নয়
যেদিন লাখো কোটি কন্ঠে উচ্চারিত হবে
এদেশে রাজা নেই
এদেশে রাজতন্ত্র নেই
ভূল বুঝবার কোন মন্ত্র নেই
এ দেশ আমার
এ দেশ আমাদের
এ দেশ সকলের
এ দেশ ষোল কোটি মানুষের।

নেশার নৈকট্য

রাতের শরীরে জেগে থাকে
বৃষ্টির ছিটেফোঁটা আলিঙ্গন
ভোরের কার্নিশে এক পায়ে দাঁড়িয়ে ভাবে
বৃদ্ধ সকাল
ঠিক তখন গ্যাসের জ্বলন্ত চুলায়
ভিজতে ভিজতে শুকিয়ে যায়
পুয়াতি ভাতের সামান্য যৌবন

শরীরের উত্তাপ মহাধুমধামে
মনের উঠনে বেড়াতে এসে বলে
কখনই তোমরা আমাকে
বুঝতে চাওনি হে বয়স্ক দানব
আমি তখনো ঢুকরে কেদে উঠি
যেমনটি কেদেছিলাম জন্মের পারম্ভে

কাঁদামাটি আর স্যাঁতস্যাঁতে ভিজা দূর্বাঘাস
নবান্নের আন্দনে বুকে বুক মিলিয়ে শুয়ে থাকে ওরা
কিন্তু আমি
আমি বিবেকের কানে মুখ রেখে বলি
এই আমি শেষ বিচারে পৃথিবীর জঞ্জাল
আবার কখনো
মৃত্যুর তৈলাক্ত পাহাড়ে দাড়িয়ে থাকা
বিভস্য কঙ্কাল
আমাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দাও
অতঃপর আমাকে নিবৃত করো
আমাকে মুক্ত করো শুদ্ধ করো
নেশার নৈকট্য লাভে ঢেলে দাও অমৃত সুধা ।

অসমাপ্ত কবিতার খসড়া // ২ খণ্ড

পঞ্চপাণ্ডব ঘুমিয়ে আছে
স্বরলিপির সেই কোলে
ডাকদিয়ে যায় সোহেল রশিদ
শব্দ নতুন এই বোলে ।

বিহারী লাল চক্রবর্তী
হাসান রাউফুন নিজ আলো
জালাল খান ইউসুফির পুঁথি
ছন্দ গুণে খুব ভালো ।

কাহ্ন পা এর চর্যাপদ
মাত্রাগুনে নয় ছড়া
মালেক মাহমুদ ছড়া লিখেন
অন্তমিলে বেশ কড়া ।

সেক্স পিয়ার আর দান্তে ফোটান
দেশ মাতৃকার নিজছবি
জামসেদ ওয়াজেদ সনেট লিখে
হবেন একদিন জাতকবি ।

সক্রে ট্রিক্স এর স্বপ্ন ছিল
হোমার কিন্তু অন্ধ নয়
সরকার মাহবুব কাব্যলিখে
করবে একদিন বিশ্বজয় ।

মধুসুধন দত্ত বাবু
আধুনিকের মুল কবি
মনিরুজ্জামান পলাশ আঁকেন
মাতৃভূমির নিজ ছবি ।

সুধিন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন
ভাব সাগরের অথৈজল
আহসান কবীর হাসি ইকবাল
ছন্দে নতুন শব্দে বল ।

লালন সাইজির ভাবধারাতে
মাত্রা জ্ঞানে টুপুল ভাই
কাব্যপ্রেমে ছুটেন তিনি
ভাবনা রসে সিদ্ধ তাই ।

ফররুখ আহমেদ ঘুমিয়ে আছে
মীর ইয়াছির গাইছে গান
সুকান্ত যেই ডাক দিয়েছেন
সুশান্ত হালদার বাচায় মান ।

ঈশ্বর গুপ্তের বুকের মাঝে
আধুনিকের আবাদ হয়
অর্ণব সুমন রুদ্র আমিন
করবে তারা হৃদয় জয় ।

ঢেন ঢন পা এর সুপ্ত বিবেক
জাফর পাঠান গুনছে দিন
আসিফুজ্জামান হাসান কামরুল
শোধরে দিবে দেশের ঋণ ।

চণ্ডী দাশ আর রজকিনী
তাদের প্রেমের জুড়ি নাই
উপন্যাসে হারুন অর রশিদ
কবিতা এখন লিখছে ভাই ।

( অসমাপ্ত- চলবে )

চান্দু মিয়া ল্যাং মেরেছে

হর্ষবর্ধন করছে মর্দন
ঘি এর মাগ্যে তেল
তেল বিহনে শুস্ক মাথা
ভাংছে মাথায় বেল।

চান্দু মিয়া ল্যাং মেরেছে
পিরিত চানের পায়
ঘুইরে বলে আবে হালা
ঠুয়া মারুম গায়।

দেহস না রে রাষ্ট্রনীতির
মুল কথাটাই ভুল
সুখ শান্তি বন্দি রেখে
ছিড়ছে মাথার চুল।

শাগের মাগ্যে ঘি এর বাঘার
কান্দে বিড়াল ম্যাও
পাহাড় চুড়ায় কুকুর ওঠে
ডাকছে শুধু ঘ্যাও।

পাছায় মেখে চুতরা পাতা
লাফায় নেতার ছাও
ভোটের নামে তেলেচমাতি
পুড়ায় সোনার গাঁও।

নেতা বলেন ছাড়বো না ভাই
জোর দখলের গদি
ছাড়লে গদি কষ্ট পাবেন
প্রাণের প্রিয় মোদি।

পরজীবি সেই নেতার ক্ষুধায়
রাধতে হবে ভাত
জ্বালাও আগুন পুড়ুক এবার
পঙ্গ পালের জাত।

ভাবের পদাবলী

দিনের আলোর সঙ্গছেড়ে
অন্ধকারে ফেরা
এই পৃথিবীর ভেতর বাহির
মায়ার জ্বালে ঘেরা।

আমি ছিলাম অন্ধকারে
ভাবনা ছিলো ভালো
সুখ সোহাগের এই পৃথিবী
লাগছে বেজায় কালো।

আমার রাজ্যের রাজা আমি
প্রজাও আমি নিজে
দুঃখ জয়ের মন্ত্রপড়ে
আনন্দ পাই কি যে।

আলোর ঝলক হারিয়ে খুজি
অন্ধকারের গায়
মাটির দেহ এখন আমায়
আপন করে চায়।

ভাব ভাষাতে যাই লিখেছি
মুল কথাটি বলি
এই পৃথিবী কাঁদবে যেদিন
ফোটবে ফুলের কলি।

চলার পথে রাস্তা হারাই
রাত্রে কিংবা দিনে
লজ্জা লালে জন্ম কাদে
ভাউতা বাজির ঋনে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ