,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

দেলোয়ার হোসাইন – এর একগুচ্ছ কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

চাই

রেডিয়ামের আলোয় গোধুলী রঙের একটা মোটর বাইক চাই,
যার পেছনে বসে তুমি শঙ্খচিলের মত আমায় জড়িয়ে ধরবে আর-
ঘাসের কারুকার্যের বুনা তোমার ঐ সবুজ ওড়নার আঁচল উড়তে থাকবে বাতাসে।
এ দৃষ্য দেখে যেনো শহরের সব প্রেমিকগন রেডিয়ামের আলোকে সাথি করে নেয় প্রণয়ের!

একটা স্বপ্নে গড়া অমৃত নবান্ন মন চাই,
যার কেন্দ্রস্থলের কালো বৃত্তে কেবল আমার ই যাতায়াত হবে অহঃরহ।

একটা সংবিধান চাই,
যেখানে ১৫৪ নং অনুচ্ছেদ টাতেও তোমার উপর আমার অধিকরের কথা উল্লেখ থাকবে।

গলীর মাঝে তে একটা টি স্টল চাই,
যাত প্রতিটি কাপে যেনো তোমার আর আমার ঠোটের পদাচরণ হবে অবিনশ্বর।

বাড়ি ফেরা

গেলো বৈশাখের রাতে বাড়ি ফিরিনি বলে-
অভিযোগের পত্র লিখেছো জানি!
তোমার ধূসর বাদামী রঙের ডাইরিটার গোলাপ রাখা পৃষ্টার তলে-
ভিজেছিল পাতাটি তোমার চোখেরি জলে।

পত্র লিখেছো বেশ ভাল!
কিন্তু, অভিমানের ফেডারেল ব্যাংকে
আমার জন্য অভিমান জমিয়ে রাখোনি তো?

সেদিন ঈশ্বর আমায় বাড়ি ফিরতে নিষেধ করেছিলো।
কারণ তিনি জানতেন,
আমি ঐ রাতে বাড়ি ফিরলেই তোমায় ছুঁয়ে দিতাম।
তুমি উঠে দাড়াতে পারতেনা।
আর,
নিস্তব্ধ অন্ধকারে ঢের তুমি চুরি হয়ে যেতে।
তাইতো আমি ফিরিনি ঘরে।

শিশিরের শব্দ

বৃষ্টি নামার সাথে সাথেই এখানে অন্ধকার নেমে
আরো ভেঁজা হয়ে যাই আদ্রতায়।
ভিজে যায় গৃহবধূ’র কনকনে হাতের কাঁকন।
মাটিতে লেপ্টে থাকা বিংশ শতাব্দীর  খরের গন্ধ আস নাকে।
শিশির দেখিনা অনেকদিন হল,
মাঝে মাঝে মাঝ রাতে শিশিরের শব্দ শুনতে পাই।
নক্ষত্রের মস্ত বড় আকাশ ডানা মেলে-
নীহারিকাদের মতন।
বিশাল আকাশ! নক্ষত্রে ভরা! 
চারদিকে ছড়ানো নীহারিকা!

তোমাকে আমার প্রয়োজন

বিকেল বেলায় তোমাকে আমার খুব প্রয়োজনে
সূর্য ডুবন্ত অবস্থায় সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা নারীর মতন।
পান্ডুলিপি আলো দেয়ার প্রাক্কালে লাল জামায় শিশিরের স্নিগ্ধ প্রলোভনে-
তোমায় আমার বড় প্রয়োজন।
আমার খুব ইচ্ছে করে
সিংহল থেকে ভেসে আসা সমুদ্রের গর্জনে-
খুব ইচ্ছে করে দূরের ঐ ধোয়াছে নৌকা নিয়ে ভেসে যেতে সমুদ্রের নীল জলে।

তোমার সামনে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর সব আলোয় সংমিশ্রণ ঘটিয়ে
দূরবীণে তোমাকে দেখবার।

খোঁজ

আজকাল কোন খোঁজ নেয়া হচ্ছেনা।
ভুলে গেছো বোধয়,  ভুলে যাবার ই তো কথা!
ব্যস্ততার এই নগরে নিজেকে খুব বেশি ব্যস্ত রাখো।
আগের মত আর, মাঝরাতে ফোন দিয়ে জানতে চাওনা
কিরে ফড়িং; কেমন আছিস?
ঘুমাস নি এখনো? নাকি আমার মত বাউন্ডুলে হয়ে রাত জাগিস?
হ্যাঁ ঠিকই ধরেছো- আমি এখনো জেগে থাকি অহঃরহ!
নিজেকে খুব বেশিবার বাউন্ডুলে বলতে তুমি
ছন্নছাড়া দের তালিকায় ও রেখেছো বেশ কয়েকবার।
এখন আর এসব শোনা হয়না তোমার মুখে।
ভাবি ভারাক্রান্ত কণ্ঠে
দুঃখের ওই কথা গুলো বলবে কেনো?
আমিতো তোমার প্রেমিক ছিলাম না।
প্রেমেও পরিনি কখনো।
তবে মনে হয় একবার-
তোমার ঐ লম্বাবতী দীঘল কালো কেশের প্রেমে পরেছিলাম।
ইশ! কী লম্বা চুল ছিল তোমার।
ঠিক যেনো দেবী  মৃনালীনির চুল
কিংবা কবি জীবনানন্দের নাটরের সেই বনলতা সেন।
চুম তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা!
চুলতো আর মানুষ না যে আমার প্রেমে প্রেমবতী হবে
তাই হয়তো
আমার সেই প্রেমেটা একতরফা প্রেম ছিল।

স্বর্ণলতা

তুমি একদিন আমায় হরিৎ বৃক্ষলতা দেখিয়ে বলেছিলে-
এর নাম স্বর্ণলতা, লজ্জায় মায়াবিনী!
আমি জানতে চেয়েছিলাম-
সে লজ্জাবতী বুঝি?
তোমার মত, তরুণীর মত, অবুঝ কিশোরী-
কিংবা পাড়া গায়ের সদ্য বিবাহিত লাজে মরা যাওয়া নববঁধূর মতন?
তুমি একদিন আমার জন্য স্বর্ণলতার পাতা ছিড়তে গিয়েছিলে-
একটু অসতর্কতায় কাঁটা ফুঁটেছিলো হাতে।
রক্ত বের হয়, লাল হয় হাত, চুড়ি, নখ-
ইশ কি রঙিন!
তোমার শুভ্র শীতল নগ্ন নির্জন হাত
এ যেনো কৃষ্ণচুড়ার নীল সাঁজ!

 

ঠিকানাঃ

দেলোয়ার হোসেন
কুমিল্লা।
ইমেইল- delowar75@gmail.com


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ