,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

প্রহেলিকা (আমিন মোহাম্মদ)-এর একগুচ্ছ কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

জল পতনের খসড়া

মাথার উপর নগ্ন ক্যানভাসে থোকা থোকা
কিছু কদর্য মেঘ ছাড়া কি’বা আর ছিলো!
অদৃশ্য থেকে উঠে আসা,
অবাধ্য কিছু মেছোপ্রেমী ছায়ার জঞ্জাল-
দখলে নিয়েছিল জলজ বুকের সবটা উঠোন।
বিবর্ণ বালিয়াড়িতে নেই বলে গাঢ় সুষমা
এসে এসে ফিরে গেছে রাতপাখিরা।

সূর্যরাগে, তৃষ্ণা তাবৎ বুনে দিয়ে
কাঁচ নিরবে যখন কেটে যেত প্রতিটি মাতাল প্রহর,
পুরনো শ্যাওলাগুলো ক্রমশঃ ব্যথা হয়ে ফোঁটে-
বর্ষাভেলায় যখন ছুটে আসতো নীলের আবাদে,
তখন হঠাৎ জলকেলি বিকেল পেরিয়ে
কাম বাসনার মতো পুষে রাখা গোপন মায়ায়,
সেদিন কে যেন এসে সামনে দাঁড়ালো!

বিজন সন্ধ্যায় মুখ দেখিনি, দেখেছি কেবল
তার পায়ের নূপুরে ধূর্ত বাতাসের অদ্ভুত সমর্পণ
শরীর থেকে একে একে খসে পড়া অজস্র শব্দসুর,
অবাক বিস্ময়ে কিভাবে ফিরে আসে চঞ্চলতা
ছায়ার সুগন্ধ সেঁটে যায় রাতের সুবর্ণ অক্ষরে!

অবশেষে তার ফেরার পথে বলি,
হে মানবী, একবার ছুঁয়ে দিবে জলের আস্তর?
বেনামী হাসি গাঁথা ঠোঁট নেড়ে বলে,
ধুর বোকা! মেঘ কি কখনো বৃষ্টি ছুঁতে পারে!

জল পতনের খসড়া-১

প্রার্থনা

কার প্রার্থনায় ওই কুয়াশার ভিড় ঠেলে নামে বসন্ত
ফোটে কৃষ্ণচূড়ার নিষিদ্ধ কোরক,
উড়ে উড়ে আসে সুকণ্ঠী কোকিল, প্রজাপতির আবলি,
কুড়ানো ফুল-পতনে সাজে খোপার মন্দির
চিতায় পোড়া আগুনের হলুদ মিশে যায় হোলিতে!

প্রার্থনায় থরথর করে কাঁপি, দৃশ্যায়ন থামে না,
কতটুকু আর জানি রাতের গোপন
শূন্য পালঙ্কে নুনের প্রসবণ,
দিন খুলে দিলে গায়ে পেঁচানো সোনালী শাড়ি
সফেদ পোশাকে নেমে পড়ি আলোকিত আঁধারে।

নিষিদ্ধ ভ্রমণ

হা-মুখো সন্ধ্যার গহ্বরে অনায়াসে ঢুকে গেছে দিন,
স্তব্ধ এখন শব্দভূগোল, ঘুমিয়েছে দেবতা।

মধ্যরাতের নির্জন পথে,
মনিবভক্ত কুকুরকতক ধমকে বলে
“ফিরে যাও এখানে প্রবেশ নিষেধ”!

পা কি কখনো আদব জানে?
হেঁটে চলে সাদা কাফনে মোড়ানো চাঁদ আলোতে
না জেনে পোড়াতন্ত্র সুখ।

শরীরে পোড়াগন্ধ, বায়ুগুলো উড়ে উড়ে বেড়ায়
আর সারিবদ্ধ পারফিউমের দোকানে দোকানে-
ঝুলে থাকে মূল্যছাড়ের বিশাল ব্যানার।

উনুন বিলাস

রাত্রির শেষ প্রহরেই ছুটে গিয়েছিলাম-
মাইগ্রেনের ব্যাথা বুক পকেটে রেখে নির্জনতার কোলে।
বৈশাখী কাব্যের শব্দফুল কুড়াতে কুড়াতে-
বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম আমি নই রজনীকান্ত কিংবা
নই কোনো অভিনেতা স্থিত রুপালি পর্দার।
হিরো নয়! সৌহার্দ্যের ভঙ্গিতে মুচকি হেসে নতশিরে
পাড়ি দিতে হবে উন্মুক্ত বক্ষের দাবিতে সুদীর্ঘ মানব বন্ধন।
আঁধারের প্রহসনে ভুলে গিয়েছিলাম, এই কালবেলাতে
জেগে উঠে সুউচ্চ দালানে পালিত মাতাল কুকুরেরা।
গাম্ভীর্য পবনে আত্মভোলা হয়ে দৃষ্টি চলে যায়
নৈশব্দের মাঝে ভেসে আশা গুন্জনরেখার শেষ বিন্দুতে।
নবোঢ়ার ঘোমটার আড়ালে সম্মোহিত নয়নে দেখি
আভিজাত্য মোড়ানো ছারপোকাদের উনুন বিলাস।

শেষ কবিতায় প্রহেলিকা

প্রিয় প্রতিটি শব্দের কসম,
রাজপথে শুয়ে থাকা ঝিম ধরা আলোতে
লিখে যাবো আরো একটি কবিতা, শিরোনামহীন-
শেষ কবিতা, পঙ্ক্তির কোষে কোষে
অনয়াসে লিখে যাবো পেন্সিলে আঁকা সুখের গল্প,
লিখে যাবো ইট কাঁকরের দেয়ালে থোকা থোকা লেগে থাকা
প্রাচীন চিহ্নগুলো কিভাবে ময়ূরের মতো পাখা মেলে।

লিখে যাবো ব্যথার অনুবাদ, আহত প্রতিটি উচ্চারণ,
আড়ষ্ট আঙ্গুলে কিভাবে উঠে আসে নীল সমগ্র
হৃদয়ের বাকল খুলে দেখে নিবো সেই পথের সরল।
আকাশ ছুঁতে নেমে যাবো সাগরে, গভীরে পৌঁছে
দেখে নিবো জল চাঁদরের নীচে ঝিনুকের আবাদ
কাদামাটির বুকে শুয়ে নীল ধরে রাখার গোপন সূত্র।

লিখে যাবো, কোন কান্নার মিছিল ভিড়েছে জোনাক কোরাসে,
দেহের আড়ালে অন্তর ঢেকে
প্রণয়ে কেঁদেছে কোন সন্ধ্যা জলকেলি বিকেলে,
বোনা স্বপ্নের মদির বাতাসে খুন হয়েছে কোন আঁধার,
লিখে যাবো শেষ কবিতা বুনে দিয়ে প্রহেলিকা
রাজপথে শুয়ে থাকা ঝিম ধরা আলোতে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ