,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

চারু মান্নান-এর একগুচ্ছ কবিতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

কবিতার ঐ প্রদ্যুষ বিরহ

ইচ্ছা কেন জাগে?
মনের থরে থরে, নরম ঐ বকের পিঞ্জরে
সদাই চাওয়া।
এমনি এমনি সদাই চাওয়া
হাত উঁচিয়ে, বুক চেতিয়ে,
নত শিরে, ভালোবাসা; ক্ষুধার তরে
বাঁচার খরায় নিত্য নতুন স্বাদ জাগে।
স্বপ্ন স্বাদ, আশার বাঁধ জুড়ে;
কবিতার ঐ প্রদ্যুষ বিরহ
সেখানেও সদাই আশ্ফলন! চেতনায় জাগে,
মৃত্যুর সাদা কফিনে বির্মষ বিদ্রোহ
নন্দন জোনাক জ্বলে;
চাঁদ বিনে বিরহী কালো অমাবস্যার রাতে।
আঁধার রাতেও সদা ইচ্ছা লুট হয়ে যায় নিভৃতে
নক্ষত্রকুঞ্জেও সেই একই মেলা বসে সদাই চাওয়া।
ক্ষণে ক্ষণে পলে পলে সেই ইচ্ছার বান ছুটে
মৌমাছির শ্রমিকের দলের মতো
বন্য চিতার শিকারের পিছে ছুটার মতো
বাঁধ ভাঙা আক্রোশে বিদির্ণ স্রোতের মতো।
আশা হারা, বাঁধান হারা, স্বপ্ন হারা
ইচ্ছাগুলোর কি তাদের ইচ্ছা মৃত্যু হয়?
না আবার ফিরে আসে;
আশা, স্বপ্ন হরণের প্রত্যয়ে সর্বনাশে মেতে উঠে।

১৪২৩/৩১, বৈশাখ/গ্রীষ্মকাল।

তোর জন্যই তো তৃঞ্চাবোনা

মেঘ ধিয়ানে,
তৃঞ্চায় কাতর চাতক চাতকি।
বসন্তের সৌম্য সারথি, ভালোবাসা! আবার ফিরে গেল
তপ্তধ্যানে মগ্ন রৌদ্র খোরা শরীরে চেপে
মৌনতা ধিয়ানে
স্বপ্ন পুনঃজন্মে; প্রেম ভিক্ষা চেয়ে
দাঁড়িয়ে সমুখে, বেবাগি অচেনা পথিক।
কি চাও তুমি? এমন রৌদ্রপোড়া বোশেখে
চন্দন জোছনা গুলে; চুঁয়ে পরে রাতভর
মেইয়ে যায়, নেতিয়ে পরে জোছনা বিভাস।
কাঙাল হাওয়া,
সেও মেঘের জন্য হ্যাপিত্তেস করে
আয়, আয় না দল বেঁধে মাথার উপর জটলা কর!
চন্দন বোশেখে;
তোর নামেই ব্যঙদের বিয়ে বিয়ে খেলা।
তোর জন্যই তো তৃঞ্চাবোনা
অপেক্ষার প্রহর গুনে গুনে পথিক সাঁঝ যায়রে ডুবে
চন্দ্রন কুস্তরী ঘ্রাণ; সে তো তোরই প্রেম বাসনা
ফিরবে ফিরবে বলে মুকুন্দ ফুল ঝরে
কখন যে লজ্জ্বাবতী চুপসে গেছে? একটু খানি ছোঁয়ায়;
ক্ষমা করো প্রেম! প্রবঞ্চনায় স্বপ্ন বাসনা।

১৪২৩/২৯,বৈশাখ/গ্রীষ্মকাল।

স্বপ্নখরা ক্রান্তিকাল

ধ্বংসের মাসুল গুনতে
বিদেহি কাল; কত আর কাঁদবে বল?
যুগের পর যুগ যায়
ভূতলে ধুলার আবিরে ঢাকা পরে,
কালের পরিক্রমায়
বার বার মৃত্যু শুধু ইতিহাসের সাক্ষী;
এমন সবুজ মানব গ্রহে।
বড়ই বেমানান এই যে,
প্রাণীকূলের তুচ্ছ মৃত‌্যু; সভ্যতা যায়
সভ্যতা আসে
জীবন মুক্তির সেই একই দৈন্য দশা!
মুক্তি ফেরেনি কোন কালেই
শুধু স্বপ্ন আর আশার বান,
প্রতি পলে পলে; জীবন দীক্ষার পথে
আলো জ্বলবে বলে।
এমনি স্বপ্নখরা ক্রান্তিকাল জুড়ে
আকাশ পানে, রুপসজ্জা গুলে
ভূতলের কালজয়ী বিধৌত স্বর্ণবিলাসী বিভাস
ক্রান্তিকালের আতুর ঘরে, মুক্তির গান বাজাক।

১৪২৩/২২, বৈশাখ/গ্রীষ্মকাল।

অপেক্ষার এক অসয্য প্রহর

অপেক্ষার এক অসয্য প্রহর
পারি দিতে;
অচেনা পথের প্রান্ত সীমা মনে করে দেয়
প্রচ্ছদ যে, কাঠবিড়ালীর চঞ্চলতার মতো
চমকপ্রদ বটে!
পথিকের সাথে পথ হাঁটা; বাউল বিভাস
গুনগুনিয়ে আপদমস্তক জুড়ে
বৈরিতা ভুলে, স্বস্তির নিঃশ্বাস ছারে।
হাঁটতে হাঁটতে বেলা যে পরে আসে
গলায় তৃঞ্চা বাদ সাধে; সাঁঝের লালিমা চিরল পাতায়
আকাশ প্রান্তে পশ্চিমের গায়ে সনাতন দিগন্ত সাজ।
মেঘে মেঘে মেঘের দল বাঁধে
মেঘের কার্নিশে ঝুলে; সনাতন ঐ সাঁঝ আলো
লালিমা চুমে ফড়িং ডানায় বসে
পুঁই মাচায় বিবর্ণ আধো আলোয়।
সেই প্রহরে তুমি ছিলে
পলে পলে মিছে মিছি দৈত মুখোশের আঁড়ালে
সাঁঝ আঁধারে;
অচেনা টলটলে জলাধারে এ কার জলছবি ভাসে?
আঁজলা ভরা জলে উঠে এলো, সর্ন্তপণে
অপেক্ষার সমাপ্তি টানবে বলে।

১৪২৩/২০ বৈশাখ/গ্রীষ্মকাল।

সনাতন মাটি

রক্ত ভোগী সনাতন সেই মৃত্তিকা আজও
তাজা রক্ত শোষণে সদা তৎপর;
তোর দেহে কত গ্যালন রক্ত ধরের সনাতন মাটি?
তুই না জননী আমাদের সবার;
মা বলেই কি এত সয্য এত র্ধয্য
সব টুকু মুখ বুজে সয়ে যাবি সন্তান হারানো শোক।
যাকে যত্ন আদরে এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখালি
তারই রক্ত তোর বুকে চুষে নিলি র্নিদ্বিধায়;
হাতের আদরে ঘুমপারানি গান গেয়ে
ঘোর অমানিশা আঁধারেও;
তার মুখচুমে ঠিক চিনে ছিলে মেঘের ছায়ার অন্তরালে
পালিয়েছিল রাতভর সভা মিছিলের যন্ত্রণায়।
মৃত্তিকা তার সুবোধ ধূসর রোদে পোড়া ধুলির
কঙ্কালে যখন লেগে থাকে ছোপ ছোপ রক্ত বিড়ম্বনা;
বোশেখ খরায় চৌচির মাটির শরীর
শোকের রক্ত চুষে অনাহারি মাটি তৃঞ্চা মেটায়;
ভোগের রাজ্যে তই বা কিসে কম?
জন্ম মৃত্যুর অন্তরালে, তোর দেহে পঞ্জিভূত বসবাস।

১৪২৩/১৪,বৈশাখ/গ্রীষ্মকাল।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ