,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে
এভাবে প্রতিধিন প্রজনন মৌসুমে মা’ইলিশ বিক্রি করছে এক বিক্রেতা

রাজাপুরে প্রভাবশালীদের মদতে মা’ইলিশ ধরার ধুম পড়েছে।

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ অহিদ সাইফুল # ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ইলিশ প্রজনন মৌসুম (১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত) ইলিশ শিকারের উপড় সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ঝালকাঠির রাজাপুরে বিশখালী নদীতে দায়সারা ভাবে চলছে ‘মা’ ইলিশ রক্ষা অভিযান। উপজেলা মৎস বিভাগের উদাসীনতা আর স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের দায়ত্বিহীনতার কারনেই মূলত এই অভিযান সফলতা পাচ্ছেনা বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। উপজেলার বিভিন্ন মহল থেকে চেকপোষ্ট বসিয়ে মা ইলিশ বহনকারীদের সাজা প্রদানের জোর দাবী উঠলেও অদৃশ্য কারনে তা হচ্ছেনা।

১লা অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এ অভিযান ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও যে সময়টায় নদীতে ‘মা’ ইলিশ বেশি আসে ঠিক সেই সময় হঠাৎ কোন এক প্রভাবশালী মহলের ইশারায় ঝিমিয়ে পরে অভিযান। সরেজমিনে বড়ইয়ার পালট, চল্লিশকাহনিয়া, কাউফলাতলা, মঠবাড়ির মানকিসুন্দর ঘুরে এসব তথ্যে পাওয়া যায়। সূত্রটি জানায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী রাজাপুর উপজেলা মৎস্য অফিসে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার কারনে নদী পাড়ের প্রবাভশালী একটি মহলের সাথে তাদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঐ প্রভাবশালীরা জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে উপজেলা মৎস্য অফিসসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে একদল অসাধু জেলে প্রতিনিয়ত উৎসব করে ‘মা’ ইলিশ শিকার করছে। আবার সেই মাছ ক্রয় করার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে দিন রাত ছুটে আসছেন ক্রেতারা। মাছ ধরা, সংরক্ষন করা ও বিক্রয় করা সবকিছুই ঐ প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রনে। আর তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন ঐ সব প্রভাবশালীদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ইলিশ নেয়ার জন্যে, এ জন্য ব্যাবহার করা হয় মোটরসাইকেল। আর এ করেই প্রভাবশালীরা তাদের পকেট ভারী করছেন। সন্ধ্যার পর থেকেই বড়ইয়ার পালট বিশখালী নদীর তীরে চলে ইলিশ বেচাকেনার ধুম। প্রতি কেজি মাছ বিক্রয় হচ্ছে ২ শত থেকে ৪ শত টাকায়। আর ঐসব প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় রয়েছে চিহ্নিত দালাল সরকারী বেতনভুক্ত আলমগীর চৌকিদার, পালট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী বাদশাসহ আরো অনেকে।

এদিকে মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাদুরতলা কাইচচোরার এলাকার দুলালের ছেলে সুজন বিশখালীতে গড়ে তুলেছে তার বিশেষ নেটওয়ার্ক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, অর্থের বিনিময়ে মৎস্য অফিস ম্যানেজ করে তার নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি নৌকা বিশখালীতে দিন রাত উৎসব করে মা ইলিশ শিকার করছে। আর এর সবকিছুই সম্ভব হচ্ছে মোবাইল ফোনের বদৌলতে। মঠবাড়ী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেলোয়ার মাঝি তার জনপ্রতিনিধিত্বের প্রভাব দেখিয়ে প্রতিদিন তার নিয়ন্ত্রিত জেলেদের নিয়ে বিশখালীতে ‘মা’ ইলিশ নিধনে ব্যাস্থ সময় পার করেন। স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকালে ঢিলেঢালা ভাবে অভিযান পরিচালনা শুরু হয়ে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেষ করে। কিন্তু ২৪ ঘন্টা প্রশাসনের অভিযান না থাকায় ঐসকল সিন্ডিকেটের জেলেরা দিনরাত নিবিগ্নে মা ইলিশ নিধন করে। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন মা ইলিশ রক্ষার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ জনকে ভ্রাম্যমান আদালত সাজা দিয়েছে।

ঐসকল সিন্ডিকেটের জেলেদেরকে প্রশাসনের কেউ আসার পূর্বেই মোবাইল ফোনে সতর্ক করে দিচ্ছে সিন্ডিকেট নেতারা। সচেতন ব্যাক্তিরা পালট এলাকায় একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের জোড় দাবি জানিয়েছেন এবং রাস্তায় চেকপোষ্ট বসিয়ে ইলিশ বহন প্রতিরোধ করার দাবী সর্ব মহলের। উপজেলা সিনিয়র কর্মকর্তা মুক্তারানী সরকার সাংবাদিকদের জানায়, তার লোকবল কম। সার্বক্ষনিক অভিযান পরিচালনা করতে যে ব্যয় হবে সে পরিমান অর্থ বরাদ্ধ নেই বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট ট্রেনিং এ থাকার কারনে অভিযানে ভাটা লেগেছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ