,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বৃষ্টি শেষ হলেও জ্বলে না বৈদ্যুতিক বাতি

লাইক এবং শেয়ার করুন

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুেের অস্বাভাবিকহারে লোডশেডিং বেড়ে চলেছে। বৃষ্টি নামলেই লক্ষ্মীপুরে নেমে আসে অন্ধকার। বন্ধ হয়ে যায় বৈদ্যুতিক আলো। বৃষ্টি শেষ হলেও সহজেই জ্বলে না বৈদ্যুতিক বাতি। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ী, চাকরীজীবি, জন-সাধারণ ও শিক্ষার্থীদের। লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতিতে গত কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিকহারে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে যেন আসার খবর থাকে না। এতে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে লোকসানের পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং বাড়ায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জনসাধারণের মাঝে বাড়ছে চরম ক্ষোভ।  

এদিকে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে রাতের বেলা লক্ষ্মীপুর শহরবাসীকে অধিকাংশ সময়ই অন্ধকারে কাটাতে হয়। রাতে শহরের বাড়িগুলোতে ২০ মিনিট আলো জ্বললে দুই ঘন্টা অন্ধকার হয়ে থাকে। দিন দিন যেন এর মাত্রা বেড়েইে চলছে। সম্প্রতি অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী তার ফেইসবুক টাইমলাইনে লেখেন, ‘বিদ্যুৎহীন গভীর রাতে আকাশে সোনালী চাঁদ দেখা সোভাগ্যের’। বছরের এসময় বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা। আলোর অভাবে পরিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সাধারণত শিক্ষার্থীরা রাতেই পোড়াশুনা করার বেশি সুযোগ পায়। কিন্তু অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।

কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে কর্তৃপক্ষ সুষম বন্টন করছে না। লক্ষ্মীপুর পৌরসভা পিডিবি’র আওতায় হলেও বৃষ্টি আসার আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। অনেক সময় বৃষ্টি শেষ হলেও বিদ্যুৎ আসে না। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক মতো দায়িত্ব পালন করছেন না বলেই বৃষ্টি আসার আগেই সব অন্ধকার হয়ে যায়। সময়মতো বিদ্যুৎ দিতেও তারা ভুলে যান।

লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় পিডিবি’র আওতায় প্রায় ২৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। পিক আওয়ারে প্রায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ৭-৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তবে কি কারণে বৃষ্টি নামলে বিদ্যুৎ চলে যায় সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার। পিক আওয়ারে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আছমা আক্তার মুক্তা বলেন, কয়েকদিন থেকে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। যার কারণে অন্ধকারে পড়ালেখা করা যাচ্ছে না। পড়ালেখা বাদ দিয়ে অলস সময় পার করতে হচ্ছে। যার প্রভাব আমাদের পরীক্ষায় প্রভাব ফেলছে। রামগঞ্জ সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, এপ্রিলের ২ তারিখ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টির কারণে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের পড়াশোনার চরম ক্ষতি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপক শাহজাহান কবির জানান, বৃষ্টির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক তাঁরে গাছপালা ভেঙ্গে দুর্ঘটনার আশংকায় বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। অন্যসময় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জালালকে একাধিকবার মুটোফোনে কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ