,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

লাইক এবং শেয়ার করুন

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: সাগরের লঘু চাপে গত চারদিনের প্রবল বর্ষণে লক্ষ্মীপুরে রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে চাষীদের স্বর্প্ন। সয়াবিন, মরিচ, তরমুজ ও বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত ডুবে সব পূজিঁ হারিয়ে বড় ধরনের লোকসান পোহাতে যাচ্ছে জেলার হাজারো কৃষাণ-কৃষাণীরা। বুধবার (১৯ এপ্রিল) থেকে শনিবার (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি কারণে এ ক্ষতির মুখে পড়ে তারা। টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, কমলনগর, রামগতি ও রামগঞ্জসহ জেলার সর্বত্রই রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ সময়ে ফসলি মাঠে সয়াবিন ও মরিচ পাকতে শুরু করেছে। খুব শিগ্রই কৃষক সয়াবিনের ফলন ঘরে তুলবে। অনেক এলাকায় কৃষকরা পাকা মরিচ সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। কৃষকদের মাঝে যখন স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছিল ফলন বিক্রি করে লাভবান হতে। ঠিক তখনই সাগরে লঘুচাপ এবং প্রবল বৃষ্টিতে ডুবে আছে ফসল। ক্ষেতে এখন পানি ৩ ফুটেরও বেশি। প্রথমে সেচ পাম্প দিয়ে ফসলি জমির পানি সরানোর চেষ্টা করা হলেও অল্প কয়েক ঘণ্টা পর আবারো শুরু হয় বৃষ্টি। যার ফলে পানিতে ডুবে যায় পুকুর, ডোবা খাল-বিল। কোন দিকেই পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। জলাবদ্ধতায় সয়াবিন, মরিচ এবং বাদামসহ অন্যান্য ফসল এখনো ডুবে আছে। খালগুলো সব ভরাট, পানি প্রবাহের জন্য নেই ব্যবস্থা। চারদিকের কৃষকদের মুখে এখন শুধু শুনা যাচ্ছে হাহাকার।
চাষীরা জানান, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋন ও কিস্তির টাকা নিয়ে রবি ফসলের চাষ করেছে তারা। এখন সব ফসল বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। তাদের অভিযোগ অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ঘর নির্মান ও খাল সংস্কার না করায়  বৃষ্টির পানি জমে তাদের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। রায়পুরের চরলক্ষী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানিতে তার ফসল তলিয়ে গেছে। টানাবৃষ্টির কারনে  উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে জেলার ৫টি উপজেলায় ৫০ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৯’শ ৫০, রায়পুরে ৭ হাজার ৯’শ ৬০, রামগতিতে ১৮ হাজার ২’শ, কমলনগরে ১৬ হাজার ৩’শ ১০ ও রামগঞ্জে ৮৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, কিছু স্বার্থন্বেষীমহল খাল-বিল জলাশয় দখল করে স্থাপনা ও নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হয়েছে। রায়পুরের ডাকাতিয়া নদী ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। তাই অচিরেই নদী, নালা, খাল-বিল দখল মুক্ত করে জলাবদ্ধাতা থেকে এ জেলার কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ