,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সাতক্ষীরায় গত ৩ বছরে পরিবহন সেক্টর থেকে বিআরটিএ’র রাজস্ব আদায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেল গত ৩ বছরে পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। যা বিগত ৩ বছরের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি। জেলা অফিসে কক্ষ সংকট ও চালকদের ব্যবহারিক পরীক্ষার নির্দিষ্ট কোন মাঠ না থাকাসহ বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্য দিয়েও গত ৩ বছরে সংস্থাটি এই বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায়ে সফলতা অজন করতে সমর্থ হয়।

সাতক্ষীরা বিআরটিএ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩১১টি মোটরযান নিবন্ধন (রেজিষ্ট্রেশন), ১ হাজার ৪০২টি উপযুক্ত সনদপত্র (ফিটনেস সার্টিফিকেট) প্রদান, ৫৪০টি সড়ক চলাচলের অনুমোদন (রুট পারমিট), ২৭ হাজার ৭৬৯টি সড়ক কর টোকেন (ট্যাক্স টোকেন), ১৫ হাজার ৫৭০টি চালক সনদপত্র (ড্রাইভিং লাইসেন্স) প্রদান, চালকদের ২৪ হাজার ৪৮৭টি শিক্ষানবীশ সনদপত্র (লার্নার) ও ৭১০টি মালিকানা সনদপত্র প্রদানের মাধ্যমে ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৫২৪ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬২৬টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আরো তিন লাখ ১৭ হাজার ৯৪০ টাকার রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

অপরদিকে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩ বছরে পাঁচ হাজার ৩৪৩টি মোটরযান নিবন্ধন (রেজিষ্ট্রেশান), ১ হাজার ২৮৩টি উপযুক্ত সনদপত্র (ফিটনেস), ৩৭৪টি সড়ক চলাচলের অনুমোদন (রুট পারমিট), ৬ হাজার ৬২৮টি সড়ক কর টোকেন (ট্যাক্স টোকেন), ৩ হাজার ৯৫১টি চালক সনদপত্র (ড্রাইভিং লাইসেন্স), ৫ হাজার ১২৮টি শিক্ষানবীশ সনদপত্র (লার্নার) ও ১৫১টি মালিকানা সনদ প্রদানের মাধ্যমে মোট ১২ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৪ টাকার রাজস্ব আদায় হয়। এ ছাড়া জেলায়  ৯৮৫ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আরো চার লাখ ৬ হাজার ৮৪০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সাল থেকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ ভবনের মধ্যে তাদের সাতক্ষীরা শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে শহরের পলাশপোল এলাকায় কালেক্টরেট ভবন নির্মিত হওয়ার পর থেকে ওই কার্যালয়টি সেখানে স্থানান্তর করা হয়। প্রথমে একটি কক্ষে কাজ চললেও পরবর্তীতে কাজের সুবিধার্থে আরো একটি কক্ষ বাড়ানো হয়। প্রথমে পুলিশ লাইন স্কুল মাঠে ও পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ মাঠে চালকের ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে ২০১১ সাল থেকে টাইগার প্রজেক্ট আইডি’র মাধ্যমে নাম্বার প্লেট ও (সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে) চালক সনদপত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সাতক্ষীরা সার্কেলের বর্তমানে সহকারি পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তানভির আহম্মেদ, মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে মোঃ আমীর হোসেন, ম্যাকানিকাল এসিসট্যান্ট হিসেবে মোঃ আবু জামাল, অফিস সহকারি কাম মুদ্রাক্ষরিকহিসেবে মোঃ নাসিরউদ্দিন ও ফিল্ড মেকানিক হিসাবে শেখ আমিনুর হোসেন কর্মরত রয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডঃ আব্দুল মজিদ জানান, বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের কার্যালয়ে কক্ষ সংকটের কারণে গ্রাহক পরিসেবা দারুন ভাবে ব্যহত হচ্ছে। এ ছাড়া চালক সনদ পরীক্ষা এবং চালকদের ব্যবহারিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের একটি কক্ষে ও কলেজ মাঠে নেওয়া হয়ে থাকে। এতে ওই কলেজের শিক্ষার্থীদের সমস্যা হওয়া ছাড়াও গাড়ির মালিক ও চালকদের দূর্ভোগের শিকার হতে হয়। এজন্য বিআরটিএ সাতক্ষীরা কার্যালয়ের জন্য শহরের একটি বিশেষ স্থানে নিজস্ব ভবন ও মাঠ দরকার। এ ছাড়া এ কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূর্ণীতির উর্দ্ধে থেকে আরো বেশি সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ফিটনেস বিহীন গাড়ি ও অবৈধ যানবাহন চলাচলে ভ্রাম্যমান আদালতকে আরো বেশি কঠোর হতে হবে। সেজন্য ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারি পরিচালক প্রকৌশলী তানভির আহম্মেদ আমাদের স্টাফ রিপোর্টার কে জানান, ২০১৪ সালে সাতক্ষীরা কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তৎকালিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কাজ কয়েকগুন বেড়ে যায়। সে জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তা কর্মচারিদের হিমশিম খেতে হয়। তবে তাদের কাজের পাশাপাশি সরকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়ায় জনদুর্ভোগ অনেকাংশেই কমেছে। এ ছাড়া মোটরযান সংক্রান্ত পরিসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ভবন ও মাঠ পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই শহরের ৩ টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ