,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

খুলনার সুন্দরবনে কঠোর নিরাপত্তায় মধু আহরণ শুরু

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা বিভাগের সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়েছে। গত ২ দিন আগ থেকে মোয়ালরা মধু সংগ্রহের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে। চলতি মৌসুমে বাঘের আক্রমণের ঝুঁকির পাশাপাশি বনদস্যুদের হামলার ভয় মাথায় নিয়ে তাদের বনে যেতে হচ্ছে। তবে মোয়ালদের জন্য বন বিভাগ থেকে এ বছর নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। যাতে তারা নিবিঘ্নে মধু আহরণ করতে পারে। এ ছাড়া মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে অনেক দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সুন্দরবনের মধু সু-মিষ্টি, এ বনের মধু মহা ওষুধ ও প্রাকৃতিক সম্পদ। মধু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে মোয়ালদের মধু আহরণ করতে গিয়ে বাঘ, সাপ, কুমিরের সাথে জীবন বাজি রেখে এবং ভয়ঙ্কর বন দস্যুদের চাঁদা, মুক্তিপন মাথায় নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে হয়। এ বছর কোন হয়রানী ছাড়াই বন বিভাগ থেকে পাশ পারমিট নিতে পেরেছে বলে জানিয়েছে পেশার সাথে জড়িত মোয়ালরা।

গত (১ এপ্রিল/১৭) থেকে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত মধু আহরণ চলবে। বন বিভাগের বিভিন্ন স্টেশন থেকে মৌয়ালরা পাশ পারমিট নিয়ে বনে যাচ্ছে। খুলনা, সাতক্ষীরা সহ উপকূল এলাকার ১০/১২ টি উপজেলার মৌয়ালরা বিভিন্ন মহাজনের অধিনে মধু সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। এদের দাবি সরকার কিংবা কোন বে সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সুদ ছাড়া লোনের ব্যবস্থা করতে পারলে তাদের পেশায় ভালভাবে টিকে থাকতে পারতো।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পশ্চিম বন বিভাগ থেকে মধু ২২৫০ কুইন্টল ও ৫৫৬ কুইন্টল মোম আহরণের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা রেঞ্জে মধু ৭৫০ কুন্টল ও ১৯০ কুইন্টল মোম এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ১৫০০ কুইন্টল এবং ৩৭৫ কুইন্টল মোম। এ বছর বড় ধরনের কোন বিপর্যয় না হলে লক্ষ মাত্রার চেয়ে বেশি মধু আহরণের আশা করছে বনবিভাগ।

সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের জন্য যে সব বনজীবী মাওয়ালীরা বনে গেছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের জন্য সব থেকে বড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে সুন্দরবনের মুর্তিমান আতঙ্ক বনদস্যু। মোয়ালরা জানায়, সুন্দরবনের বাঘ, কুমিরের মুখ থেকে রেহাই পেলেও রেহাই পাওয়া যায় না মানুষ রুপী ভয়ংকর বনদস্যুদের হাত থেকে। বনদস্যুরা নৌকা প্রতি মোটা অংকের টাকা মৌয়ালদের কাছ থেকে আদায় করে থাকে। মোয়ালরা আরো জানায় তারা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে বনে মধু আহরণের জন্য প্রবেশ করে থাকে। বিভিন্ন স্থানে অর্থ দেওয়ায় কারনে বন থেকে মধু সংগ্রহ শেষে বাড়ি ফিরে এসে হিসাব করে দেখা যায় তাদের আয়ের থেকে খরচ বেশি এমনই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে অনেক মৌয়ালী। তারপরও মোয়ালরা নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করতে যাচ্ছে।

খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) এস এম শোয়াইব খান বলেন, গত (১ এপ্রিল/১৭) থেকে মধুর পারমিট দেওয়া মুরু হয়েছে তা চলবে মে মাস পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন মোয়ালদের নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হবে। সুন্দরবনে বনজীবী মৌয়ালরা মধু আহরণে বনের ভিতর নিবিঘ্নে চলাচল করতে পারে তার জন্য প্রশাসনিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের (ডিএফও) মো. সাইদ আলী বলেন, এ বছর নতুন নিয়মে দুই সপ্তাহের জন্য মধুর পারমিট দেওয়া হয়েছে। যাতে দীর্ঘ দিন কোন মোয়ালী সুন্দরবনে  অবস্থান করে কোন অপরাধ না করতে পারে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ