,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ময়মনসিংহ জঙ্গি সন্দেহে আটক ৭ ‘জঙ্গি’র একজন ছাত্রলীগ নেতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ নগরীতে জঙ্গি সন্দেহে আটক সাতজনের মধ্যে একজন ছাত্রলীগের নেতাও রয়েছেন। তার নাম আল আমিন (২৫)। সে ময়মনসিংহ সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়ন শাখার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আল আমিন ধোবাউড়ার বাঘবেড় ইউনিয়নের মুন্সিরহাট দিঘিরপাড় গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেনের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ধোবাউড়া ছাত্রলীগ, পুলিশ ও স্থানীয়রা। গত সোমবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে আল আমিনসহ সাতজনকে ময়মনসিংহ নগরীর কালীবাড়ী সড়কে আওয়ামী লীগের নেতা মরহুম অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কাদিরের ছেলে অ্যাডভোকেট আসিফ আনোয়ার মুরাদের ১৭০নং বাসা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। 

জানা গেছে, আল আমিন একসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রনির সঙ্গে চলাফেরা করতেন। পরে মুন্সীরহাটে সারের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ছয়-সাত মাস আগে সে ওই ব্যবসা ছেড়ে দেন। ওই সময়ে হঠাৎ তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষণ করা যায়। এসময় আল আমিন দাঁড়ি রাখেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়েন। তার বাবার তেমন জমিজমা নেই। তবে দু-তিন মাস ধরে মাছের হ্যাচারির ব্যবসা করেন। ব্যবসার পুঁজি কীভাবে সংগ্রহ করেছেন তা কারো জানা নেই। জমিজমা বিক্রি করার খবরও কেউ জানেন না। গত ২৪ মার্চের পর তাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। 

আল আমিনের চাচাতো ভাই বাঘবেড় ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকির হোসেন জানান, ‘জঙ্গি সন্দেহে আটক সাতজনের মধ্যে হালুয়াঘাট উপজেলার দরিয়াকান্দা গ্রামের মারফত আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামের (২৮) সঙ্গে দুই বছর আগে আল আমিনের পরিচয় ঘটে। আল আমিন ব্যবসা ছেড়ে দিলে তাকে নিজের ব্যবসায় পার্টনার করে মাছের খাবারের ব্যবসা শুরু করেন দুইজন।’ 

বাঘবেড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ হোসেন মিলন জানান, ‘আল আমিন একজন আওয়ামী পরিবারের ছেলে। তার চাচাতো ভাই জাকির হোসেন ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। চাচা মোফাখখারুল ইসলাম ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আল আমিন সামনের সারিতেই থাকতেন। এই হিসেবে তাকে ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদ দেয়া হয়। তিনি জঙ্গি প্রমাণিত হলে অথবা কোনো খারাপ কাজে জড়িত থাকলে অবশ্যই সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে।’

ধোবাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রনি বলেন, ‘আল আমিন একসময় ছাত্রলীগ করতেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যোগদানও করতেন। তার বর্তমান পরিচয় ছাত্রলীগের আদর্শ পরিপন্থী। মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তার কঠোর শাস্তি ও বিচার দাবি করেন এই ছাত্রলীগ নেতা।’ এ ব্যাপারে ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলম বলেন, ‘আমরা খোঁজ-খবর নিয়েছি, আল আমিন ছাত্রলীগ করতেন। বাবা মাছের হ্যাচারির ব্যবসা করেন। দুই ভাই-বোন রেখে মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। বাবা পরে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর আরো দুই সন্তান হয়। আল আমিন সৎমায়ের ঘরেই বড় হয়েছেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে আল আমিন ছোট, সহোদরা বড় বোন বিবাহিত, একজন স্কুলশিক্ষকা।’ 

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩ এপ্রিল) জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য সন্দেহে সাতজনকে কালিবাড়ী সড়কের ১৭০ নং একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। বাড়িটি থেকে দুইটি কম্পিউটার, একটি মোটরসাইকেল, একটি ব্যাংকের চেকবই ও বেশ কিছু বইও জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন ময়মনসিংহ ধোবাউড়া উপজেলার আল আমিন (২৫), হালুয়াঘাট উপজেলার শহীদুল ইসলাম (২৮) ও আশিকুর রহমান (২৮), নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শাহ আল রোমান শামীম (২৭), মাসুম আহমেদ (৩০) ও রুমান মিয়া (২৭) এবং জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নাসির উদ্দিন (২৭)।

ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, ‘আটকদের কাছ থেকে টাকা-পয়সার একটা হিসাব পাওয়া গেছে। তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের একটি চেক পাওয়া গেছে। টাকা এখান থেকে অন্য কোথাও পাচার করেছে কিনা বিষয়টি পুরোপুরি তদন্ত করে দেখতে একটু সময় লাগবে।’ তিনি আরও জানান, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে পুলিশ ওই বাড়ির বাসিন্দাদের ওপর নজর রাখছিল। তাদের গতিবিধি, আচরণ জেএমবির মতোই।’ 

বাড়িটিতে এখনোও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বাড়িটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী জানান, ‘ঢাকা থেকে পুলিশের এসবির বিশেষ দল ও ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে আটক সাতজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ