,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ইউপি পরিষদে সুবিচার চেয়ে বিপাকে লক্ষ্মীপুরের নিজ মালিকীয় মার্কেট জবরদখলদারের কবলে

লাইক এবং শেয়ার করুন

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর # লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের মিমাংসা চেয়ে মামলা দায়ের করে বিপাকে পড়েছেন আনোয়ার আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তি। সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলাটি করেন তিনি। মামলা বিচার প্রক্রিয়াধিন অবস্থাতেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিচারের রায় এর পূর্বেই পক্ষপাতমূলক একপেশে তদন্ত প্রতিবেদনের জের ধরে বাদির দখলকৃত জমির মূলব্যান স্থাপনা মার্কেট জবরদখল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জবরদখলের অসৎ উদ্দেশ্যে মামলার বিবাদি পক্ষ সম্প্রতী বটতলি মাদ্রাসা সংলগ্ন উক্ত মার্কেটের ১৪ টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে জানা যায়। এ অবস্থায় বিচারের রায় প্রভাবিত হওয়ার আশংকায় সুবিচার পেতে বাদি উক্ত মামলাটি কোর্ট ট্রান্সফার এর জন্য লক্ষ্মীপুর জর্জ কোর্টে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে জর্জ কোর্ট থেকে গ্রাম আদালতে (ইউপিটিআর) নোটিশ প্রেরণ করা হয়। এ অবস্থায় নতুন নাটকের সৃষ্টি হয়।  

অভিযোগে জানা যায়, সদর উপজেলার ১৪০ বটতলী মৌজায় আনোয়ার আহম্মেদ এর সাথে একই এলাকার হেফজুর রহমান গংদের সাথে এম আর আর ৭ নং খতিয়ানে ৫৬২ ও সাবেক ১৫৩ খতিয়ানের ৫৮৩ দাগের মার্কেটসহ জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের মিমাংসা চেয়ে বিগত ২০১৬ ইং সনে স্থানীয় দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আনোয়ার আহম্মেদ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে প্রতিপক্ষের হেফজুর রহমান ও বাবুকে বিবাদী করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারনে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখিত দুই অভিযুক্ত’র একজনের নাম বিধি বহির্ভূতভাবে কর্তন করে তফসিল বৃদ্ধি করে আরো ৫ জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়। পরে গ্রাম আদালতের বিচারক ও ইউপি চেয়ারম্যান আহছানুল কবির রিপনের নির্দেশে উভয়পক্ষের দুইজন পৃথক মনোনীত প্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের মনোনীত একজন প্রতিনিধিসহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির দুই জন বিবাদি পক্ষে প্রভাবিত হয়ে পক্ষপাতমূলক একপেশে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। রিপোর্ট এর উপর আপত্তি আনেন বাদি পক্ষ। এ অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়াধিন উক্ত মামলাটির সুবিচার ব্যাহত হওয়ার আশংকায় বাদি মামলাটি কোর্ট ট্রান্সফারের জন্য লক্ষ্মীপুর জর্জকোর্টে আবেদন করেন। জর্জ কোর্ট থেকে গ্রাম আদালতে একটি নোটিশ প্রেরণ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি একপেশে তদন্ত প্রতিবেদনের জের ধরে বিবাদি পক্ষ সম্প্রতী বাদির দখলকৃত বটতলী মাদ্রাসা সংলগ্ন আলহাফিজ মার্কেটের ১৪ টি দোকানঘর জবরদখলের উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।  

মামলার বাদি মো.আনোয়ার আহম্মেদ জানান, গ্রাম আদালত নিয়ম মোতাবেক সুবিচার না করে বিবাদি পক্ষে প্রভাবিত হয়ে একপেশে ভূমিকা রাখছেন। গ্রাম আদালতের পক্ষ থেকে তাঁকে কোন নোটিশ করা হয়নি বলে জানান তিনি। এছাড়া জমির বিরোধ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি তাঁকে কোন প্রকার জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষের মনোনীত প্রতিনিধির কোন মতামত গ্রহণ ও স্বাক্ষর নেয়া হয়নি। এদিকে বিবাদি পক্ষ জানান, গ্রাম আদালত থেকে তাদের পক্ষে রায় দেয়া হয়েছে। উক্ত রায় এর প্রেক্ষিতে মার্কেটের দখল নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অপরদিকে দত্তপাড়া ইউপি গ্রাম আদালতের বিচারক ও ইউপি চেয়ারম্যান আহছানুল কবির রিপন এর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি কার্যালয়ের সচিব নোটিশ পেয়েছেন মর্মে সত্যতা প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান সাহেব সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি পূর্বের তারিখে আদেশ দিয়ে কোর্টে পাঠাতে পারেন আবার রায় না দিয়েও কোর্টে পাঠাতে পারেন।

এছাড়া মার্কেটের ভাড়াটিয়া ব্যাবসায়ীরা জানান, বিগত ৮-৯ বছর থেকে মাওলানা আব্দুস সহিদ এর মালিকীয় মার্কেটে তাঁরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যাবসা করে আসছেন। এদিন মালিকানা দাবি করে অতির্কতভাবে একপক্ষ দোকানঘর থেকে তাদের বের করে দিয়ে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ অবস্থায় ব্যাবসা বন্ধ হয়ে পড়ায় তারা খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া দোকনে মজুদকৃত তাদের মালামালগুলো নষ্ট হয়ে পড়ার আশংকাও করছেন তারা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ