,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ভালুকায় লেগুনার দাপটে মহাসড়কে দূর্ঘটনায় ঝড়ছে প্রাণ

লাইক এবং শেয়ার করুন

সফিউল্লাহ আনসারী, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর আশা করা হয়েছিলো যাত্রীদের দূর্ভোগ ও দূর্ঘটনা কমবে। কিন্তু সেই আশা এখন গুরেবালী। সেতুমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় দূর্ঘটনা কমাতে মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ আছে। কিন্তু সিএনজি বন্ধ হলেই কি? আছে আরেক বিপদজনক যান, লেগুনা বা পালকী ছারাও মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্র্যাক্টর দিয়ে বানানো লড়ি. নছিমন ও করিমন বাহারী এইসব নামের অনেক যানেই রোডপারমিট নাই, তাছাড়া বিভিন্ন মিল- ফ্যাক্টরির স্টাফ বাস যে গুলো গাড়ি ৩০/৪০বছরের পুরনো যার কোন ফিটনেস রোডপারমিট কোনটিই নেই অন্যদিকে অভিজ্ঞ ড্রাইভারও নাই এসব যানে।

এসব লেগুনা ও লড়ি চালাচ্ছে শিশু চালক আর সহযোগী যাকে হেলপার বলে তাদের বয়স ১০বছরের কম বা কিছু বেশী । পুরোনো লক্কর-ঝক্কর মাইক্রোবাস কেঁটে এবং টাটা কোম্পানীর ভাইরাস মালবাহী মিনি ট্রাকের উপরে কার্পেট লাগিয়ে তৈরী করা হচ্ছে এসব লেগুনা । এসব লেগুনার আনাড়ি চালকের জন্য ঘটছে প্রায়ই দূর্ঘটনা । গত ২৪ শে মার্চ ভালুকার ট্রাক উল্টে ১০জন নিরিহ হতদরিদ্র মানুষের মূত্যৃতে ভালুকা সহ গোটা দেশ বাসী মর্মাহত। আবার কোন বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আগে এসব অবৈধ যানগুলি মহাসড়কে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা সহ নজর দারী বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন অনেকে ।

মহাসড়কের সিএনজি চলাচল নিষেধ থাকায় ওই সব সড়কে এখন লেগুনা চলছে অনায়াসে । ভালুকা বাসট্যান্ড হতে মাওনা পর্যন্ত প্রায় চার শতাধীক লেগুনা চলছে প্রতিদিন । যার মধ্যে বেশীর ভাগই শিশু চালক । কথা হয় এসব লেগুনার এক ড্রাইভার রুবেল (১৫) এর সাথে সে জানায় তার কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। কিছু দিন অন্য একটি লেগুনায় হেলপারী করে এখন সে ড্রাইভার। প্রতিদিন ৪০০টাকা তাকে বেতন দেওয়া হয়। আরেক সহযোগী সোহাগ (১০) জানায়, সে এসব লেগুনায় হেলপারী করে তাকে প্রতিদিন ১৫০/২০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ড্রাইভার ও হেলপার জানায়, এসব লেগুনার মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা । প্রশাসন ও স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের ম্যানেজ করেই এসব লেগুনা ,নসিমন,করিমন, ট্রাক্টর এবং বিভিন্ন ফ্যাক্টরির স্টাফ বাসগুলো সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করেন । যেসব গাড়ী বেশীর ভাগই রোডে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ভালুকা মিনিট্রাক মাইক্রোবাস ও লেগুনা মালিক সমিতির সভাপতি কাঞ্চন মন্ডল এ বিষয়ে বলেন, এসব লেগুনায় শিশু চালকের কথা স্বীকার পূর্বক জানান, ভালো ড্রাইভার পাওয়া যায় না। তবে আমরা মালিকদের নিয়ে বসবো যাতে এসব শিশু চালকের হাতে লেগুনা দেওয়া না হয় । ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাজেন্ট মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, আমরা অতি শীঘ্রই এসব অবৈধ লেগুনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি । আজকেও এসব শিশু চালকদের নিষেধ করে দিয়েছি লেগুনা না চালাতে । কথা না শুনলে আমরা র‌্যাকার লাগিয়ে এসব অবৈধ যানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো । এসব শিশু চালিত লেগুনার ছবি তুলতে গেলে দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং অসাবধানতাবসত: দূর্ঘটনার আশংকাও বাড়ে। স্কুলে যাওয়ার বয়সে এসব শিশু গাড়ী শ্রমিকদের পুর্ণবাসন সময়ের দাবী।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ