,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে
রবিবারের অভিযানের ছবি

সিলেট শিববাড়ির আতিয়া মহলে ছড়িয়ে থাকা আইইডি কী ?

লাইক এবং শেয়ার করুন

সিলেটের শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আইইডি নামের একধরনের বিশেষ বিষ্ফোরক। জঙ্গিরা এসব আইইডি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে। সেনাবাহিনীর অভিযান ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ এর দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান গণমাধ্যমকে এমনটিই বলেছেন।

জঙ্গিদের অস্ত্রের ধরণ সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল বলেন, ‘তাদের কাছে স্মল আর্মস ও আইইডিসহ প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক রয়েছে। সেনা সদস্যরা যখন ভেতরে গ্রেনেড চার্জ করছিলো তখন জঙ্গিরা সেটা উল্টো আমাদের দিকে ছুড়ে মেরেছে। তারা প্রচুর বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং তাদের সবার কাছে সুইসাইডাল ভেস্ট লাগানো আছে। এর মধ্যে ১০-১২টি আইইডির বিস্ফোরণ ও ঘটিয়েছে তারা। সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা সেজন্য কিছুটা সাবধানে এবং ধীরেসুস্থে আগাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা ও ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলের মতো অতীতে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের নাশকতার কাজেও আইইডির ব্যবহার হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি ও দুষ্কৃতকারীরা নাশকতার জন্য আইইডির দিকে ঝুঁকছে। আইইডি বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর বলেন, আইইডি’র পুরো নাম ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। এটি হাতে বানানো এক ধরনের বিস্ফোরক যন্ত্র, যা বিভিন্ন স্থাপনায় বা মেঝেতে স্থাপন করে রাখা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাদের মাধ্যমে, দূরনিয়ন্ত্রিত রিমোট কন্ট্রোল কিংবা মোবাইল ফোনের তরঙ্গের মাধ্যম ব্যবহার করে আইইডি দিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব। এছাড়া ও টাইম সেট করে দিয়ে এটাকে টাইম বোমা বানিয়ে ও বিস্ফোরণ ঘটানো যায়।

জঙ্গি ও দুষ্কৃতিকারীরা কিভাবে এর প্রশিক্ষণ পেয়েছে বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল রশিদ বলেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন জঙ্গি রাষ্ট্র থেকে লোক এসে বাংলাদেশে এদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছে। বাংলাদেশের জঙ্গিদের বিভিন্ন হামলার পর তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করলেও সরকার সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা অস্বীকার করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিদের বিষয়ে আমরা যে গবেষণা ও অনুসন্ধান করছি তাতে আইএস বা আল-কায়েদার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা পাইনি। বাংলাদেশের জঙ্গিরা তাদের এজেন্ট নয়। তবে হ্যাঁ, আইএস এবং আল-কায়েদার প্রভাব আছে। মানে দেশীয় জঙ্গিরা আইএস এবং আল-কায়েদার আদর্শে প্রভাবিত। তিনি মনে করেন আইএস এবং আল-কায়েদার নাম ছাড়ানো হচ্ছে একটি চক্রান্তকারি মহলের চক্রান্ত।

উল্লেখ্য, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত আতিয়া মহল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট সিলেটে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে। এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে পুলিশ চেকপোস্টে দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ