,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ায় মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় দিবস সমূহে চলে ক্লাশ : সরকারী অনুদান পেলেও নেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৪৬ বছরেও বরিশালের আগৈলঝাড়ার সরকারের সকল সুবিধাপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলোতে পালিত হয়নি বাঙ্গালী জাতির ‘জাতীয়’ এই দিবসটি। ফলে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি সহস্রাধিক শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতার বীরত্বগাথা গৌরবোজ্জল ইতিহাস বঞ্চিত হয়ে রয়েছে অন্ধকারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ পালন করতে সরকারী কঠোর নির্দেশনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শতরূপা তালুকদারের সভাপতিত্বে গত ২২ মার্চ এক সভা করেন।

তারপরেও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দিন দিন সকালে উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের আক্তার মোল্লা সড়কে আল হুদা মহিলা মাদ্রাসায় সরকারী নিয়ম নীতি অমান্য করে জাতীয় দিবসের কোন কর্মসূচী পালন না করে যথারীতি শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করায় পুলিশ ওই মাদ্রাসা সুপার পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামের শামসুল হক সরদারের ছেলে সজল ওরফে সুমন সরদারকে আটক করে। পরে তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেয় প্রশাসন। ইউএনও গাজী তারিক সালমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, সুপার তার নিজের দোষ স্বীকার তাকে ভর্ৎসনা করে মুচলেকায় ছাড়া হয়েছে।

উপজেলার মাদ্রসাগুলোতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোন দিবসেও উত্তোলন করা হয়না জাতীয় পতাকা, এমনকি কখনওই সেখানে পরিবেশন করা হয় না জাতীয় সংগীত। মাদ্রাসাগুলোতে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর, ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকার দান-অনুদান ও উন্নয়নমুলক কাজ হলেও সেই মাদ্রাগুলোতে রাষ্ট্রীয় কোন দিবস পালন করছেন না সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। এলাকার মাদ্রাসাগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়না বাঙালীর নিদর্শন ‘শহীদ মিনার’। বিশেষ দিনে ছুটি থাকায় উত্তোলন করা হয়না জাতীয় পতাকা। সচেতন মহলের প্রশ্ন- মাদ্রাসা পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্টরা কি তাহলে দেশ স্বাধীনতার এত বছর পরেও ‘স্বাধীনতা’ মেনে নিতে পারেনি। রাষ্ট্র প্রদত্ত সকল আর্থিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পরেও এরা কি বাঙালী হতে পারেনি? তাহলে এরা করা? একই তিমিরে রয়েছে সরকারী সুবিধাপ্রাপ্ত এতিমখানাগুলোও।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র মতে, গৈলা দাখিল মাদ্রাসা, বারহাজার বরিয়ালী দাখিল মাদ্রাসা ও খাজুরিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসাসহ তিনটি দাখিল মাদ্রাসা ছাড়াও বেলুহার নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা, বাগধা আলিম মাদ্রাসা ও আমবৌলা কেরামতিয়া আলিম মাদ্রাসাসহ মোট ছয়টি মাদ্রাসা রয়েছে উপজেলায়। এরমধ্যে খাজুরিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ছাড়া বাকি পাঁচটি মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত। সকল সময়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথভাবে ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলো যথাযথ ভাবে পালনের জন্য সরকারী প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের চিঠি দেয়ার পরেও সরকারী নির্দেশ পালন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়ার কথা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উল্লেখিত মাদ্রাসাগুলো স্থাপনের পর থেকে ক্যাম্পাসে আজ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে কোন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। ঘুরে ফিরে এসকল মাদ্রাসায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ক্ষমতার পালাবদলে সভাপতি বদল হলেও রাষ্ট্রিয় দিবস সমূহ পালনে তাদের অনাগ্রহ দেখা গেছে সব সময়। পালাবদলের ধারায় রাজনৈতিক দলের নেতারা এই সকল প্রতিষ্ঠানে পদ দখল করে বিভিন্ন আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন খাত বাস্তবায়ন করলেও সভাপতির পদ দখলকারী আওয়ামীলীগ, বিএনপি বা জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের কোন নেতা বা ওই পন্থী কোন শিক্ষকও মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে নির্মাণ করেনি শহীদ মিনার, এ ক্ষেত্রে তাদের কোন আগ্রহও দেখা যায় না।

উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাদের দপ্তরের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত ও সরকারী ক্যাপিটেশনপ্রাপ্ত এতিমখানা রয়েছে ৯টি। রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও উপজেলায় ছোট বড় অন্তত: ২৫টি এতিমখানা রয়েছে। রেজিস্ট্রেশনভুক্ত ৯টি এতিমখানায় ১শ’ ২৭জন ক্যাপিটেশন সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছাড়াও রয়েছে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। যদিও এরমধ্যে ক্যাপিটেশন দেখানো ছাত্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই ভুয়া। অবস্থা এমন যে, ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। কোন সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি ওই সকল এতিমখানার রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত সকল শিক্ষার্থীদের। সরকারী প্রদত্ত অর্থ উত্তোলন করে কাগজে-কলমে ব্যয় দেখিয়ে ওই অর্থ লুটপাট করে পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমন বিষয়গুলোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জাতীয় দিবসগুলো পালনের জন্য সকল প্রতিষ্ঠানকে সরকারী পত্র দেয়া হয়। তারপরেও তারা তা উপেক্ষা করেছে। তাই তদন্ত করে তাদের চিরুদ্ধে আইনানূগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ