,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি রক্ষা প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ রাজন আমান,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি # কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অবস্থিত রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ী ও তৎসংলগ্ন এলাকা পদ্মার ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য নদী শাসনের কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুরে এ কাজের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম (বীর প্রতীক), কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংক লিঃ এর চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, কাজের ঠিকাদার ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাঃ লিমিটেডেরে কর্ণধার বশির আহমেদ, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিব উল ফেরদৌস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নৈমূল হক, নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেলা আক্তার, কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন, ভ্রাম্যমাণ সাংবাদিক মোহাম্মদ রাহাদ রাজা, ভ্রাম্যমাণ সাংবাদিক মোঃ রাজন আমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজগর আলী আসকর সহ আরো অনেকে।

পরে কুষ্টিয়ার  শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ কাজ সমাপ্ত করা হবে। কুঠিবাড়ি রক্ষার জন্য মূলতঃ পদ্মায় নদী শাসনের এ উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজ শেষ হলে পদ্মার ভাঙনে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী বিলীন হওয়ার আশংকা আর থাকবে না। এছাড়াও এলাকার মানুষ ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরো বলেন, “প্রকল্পটি যাতে মেয়াদের মধ্যে শেষ হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানি সম্পদ রক্ষায় নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি প্রতিটি খাল, বিল ও নদীকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কারনেই এ প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হয়েছে। তাই বর্ষার আগেই এ কাজের অগ্রগতি হবে।”

উক্ত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক, ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংক লিঃ এর চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রউফসহ অনেকে। গত বছর বর্ষায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয় কয়া ও শিলাইদহ ইউনিয়নে। এ বছর দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারলে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি সহ আশেপাশের বহু স্থাপনা।

দেড় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে সব মিলিয়ে ব্যায় হবে ২০৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাঃ লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে। মূল কাজের জন্য ব্যায় হবে ১৭৬ কোটি টাকা টাকা। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি সংলগ্ন পদ্মা নদীতে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শক্ত বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আগামী বছর এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে সকালে মন্ত্রীর বহনকারি হেলিকপ্টারটি সুলতানপুর পুরাতন ইউনিয়ন ভবন মাঠে অবতরণ করেন। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর মন্ত্রী পায়ে হেঁটে পাশেই পদ্মা নদী তীরে প্লান্টের কাজ পরিদর্শন করেন। পরে দলবল নিয়ে ট্রলারে চেপে পদ্মায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে বের হন। দুপুরে তিনি শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি সংলগ্ন পদ্মা ঘাটে যান। এরপর সেখানে কাজের ফলক উন্মোচন করেন। পরে যোগ দেন সুধী সমাবেশে। কাজের ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম বলেন, “কুঠিবাড়ি রক্ষা প্রকল্পের এ কাজ বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছে।”  গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন ও ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করলেন। তিনি কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের বেশি দেরি নেই। আমরাও দ্রুত কাজ শেষ কর্রা চেষ্টা করছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কাজ খুব ধীরে হচ্ছে। এখনো কিছুই হয়নি। বর্ষা মৌসুম তারা শঙ্কায় আছেন। গত বছরের ভাঙ্গনে অনেকে তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন। এছাড়া এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে কুঠিবাড়ি বিলিন হয়ে যাবে। তাই বর্ষা মৌসুম আসার আগেই কাজ শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এ এলাকার মানুষ।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ বলেন, “কাজের মানের ব্যাপারে কোন আপোষ হবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি দেখভাল করছেন। কারণ কাজের সাথে কুঠিবাড়ির অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে। আমি নিজে কাজ তদারকি করছি। আশা করছি যথাসময়ে কাজ শেষ হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সাথে দীর্ঘক্ষন কথা হয়েছে কাজের ব্যাপারে। তিনি নদী পদ্মা খননের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়া আরো অতিরিক্ত ১ কিলোমিটারের বেশি কাজের জন্য নতুন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাব পাশ হলে আরো ভাল কাজ করা সম্ভব হবে।”


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ