,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে শিক্ষার্থী আহত

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ রাজন আমান,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি # কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলাধীন হাজী মনতাজ আলী প্রামানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের পিটুনিতে ঝিলিক নামের এক শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহত শিশু শিক্ষার্থীকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী ঝিলিকসহ তার অভিভাবকেরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুমারখালী শহরের আগ্রাকুন্ডা গ্রামের হাজী মনতাজ আলী প্রামানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গণিত বিষয়ের ক্লাস নেওয়ার সময় ঝিলিক সামান্য  দুষ্টুমি করেছিল। তাই চিকন একটি লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছি। কিন্তু পরে ঝিলিকের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে দু:খ প্রকাশ করেন তিনি এবং ওই ছাত্রীর অভিভাবকসহ সকলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অপরদিকে, শিশু ঝিলিকের পালিত পিতা শাহাবুদ্দিন শাহ বলেন, ঝিলিকের জন্মের মাত্র চল্লিশ দিন পর তার মা এবং এক বছর বয়সে বাবার মৃত্যু হয়। সেই থেকে তিনি অসহায় এই মেয়েটিকে লালন পালন করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঝিলিকের মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শ্রেণীকক্ষে দুষ্টুমি করার দায়ে তাকে পিটিয়ে আহত করায় তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সামছুজ্জোহা বলেন, মেয়েটির (ঝিলিক) শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি এবং অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রথমত ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

অসহায় এতিম একটি শিশুকে পিটিয়ে আহত করার দায়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ । এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আগ্রাকুন্ডা এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান মিলন বলেন, মেয়েটির শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বাভাবিক থাকতে পারছিনা। কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, শিশুদের পিটিয়ে পড়া আদায় কিংবা পড়তে বাধ্য করার সেই নিয়ম এখন আর নেই। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তিনি (শিক্ষক) শিশুটির প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করেছেন। এজন্য তার (শিক্ষক) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ