,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সুনামগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর পোষ্টার আগুনে পুরানো মামলার পুনঃতদন্ত: ২ সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়নি

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি # সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নাশকতার উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পোষ্টার আগুনে পুরানো ও সার্বজনিন কালী মন্দিরের ২টি কালী মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত নাশকতা মামলার পুনঃরায় তদন্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নাশকতার মামলাটি পুনঃরায় তদন্ত করেন সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদ। এদিকে নাশকতার এই মামলাটি দায়েরের ১২দিন পর রাজু মিয়া নামের এক সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও এই জঙ্গি নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী গডফাদার হাবিব সারোয়ার আজাদ ও তার প্রধান সহযোগ আলম শেখকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি পুলিশ। অথচ গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসী রাজু মিয়া পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে,সে এবং তার গডফাদার হাবিব সারোয়ার আজাদ ও আলম শেখ পরিকল্পিত ভাবে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করার জন্য প্রথমে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পোষ্টার আগুন দিয়ে পুরিয়েছে। এরপর মন্দিরের ২টি কালী মূর্তি ভাংচুর করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ২ জঙ্গি সন্ত্রাসী গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকার সর্বস্থরের জনসাধারণ বিরাট আতংকের মধ্যে বসবাস করছে। সেই সাথে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানাযায়,গত ৩০শে জানুয়ারী সোমবার রাত ১০টায় বাদাঘাট বাজারে প্রকাশে ৩ সন্ত্রাসী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও সজিব ওয়াজেদ জয় এর ফটো সংযুক্ত পোষ্টার ও বিলবোর্ড এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে নামিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এসময় বাদাঘাট বাজারের দুই পাহারাদার তাদেরকে বাঁধা দিলে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সংঘবদ্ধ জঙ্গি সন্ত্রাসীরা। এঘটনার প্রেক্ষিতে গত পহেলা ফেব্রুয়ারী রাত ৯টায় জঙ্গি সন্ত্রাসীদের গডফাদার হাবিব সারোয়ার আজাদ,তার একান্ত সহযোগী আলম শেখ ও রাজু মিয়াকে আসামী করে তাহিরপুর থানায় মামলা নং-৫ দায়ের করেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ঝুমুর কৃষ্ণ তালুকদার।

এই মামলাটি দায়েরের কারণে সন্ত্রাসীরা ক্ষেপে গিয়ে গত ২রা ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত ২টায় বাদাঘাট বাজারের পার্শ্ববর্তী পৈলনপুর গ্রামের সার্বজনিন কালি মন্দিরের ২টি কালি মূর্তি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। সেই সাথে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে-বিকাশ ফকির,বাদাঘাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগ,সংবাদ বাদাঘাট,শারমিন চৌধরী,হাবিব সারোয়ার আজাদ,শাহ মোহাম্মদ আজাদ,মনোয়ারা আজাদ,এসকে আলম,অচেনা বন্ধু ও রাহাদ হাসান মুন্নাসহ প্রায় ২০-৩০টি ফেইক আইডি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাদকসেবী,ইয়াবা ব্যবসায়ী,কলকি বাবা বলে উপহাস করাসহ আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগকে কুলাংকারলীগ আখ্যায়িত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৬ই ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত ১০টায় জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ঝুমুর কৃষ্ণ তালুকদার বাদী হয়ে আবার ৩জন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে থানায় জিডি নং-২০৫ দায়ের করেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন,প্রধানমন্ত্রীর পোষ্টার আগুনে পুরানো ও মূর্তি ভাংচুর করার ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। এব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদের সরকারী মোবাইল নাম্বারে বারবার কল করার পর তিনি ফোন রিসিভ করেনি। তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন,এসপি সারের নেতৃত্বে মামলাটির পুনঃরায় তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। হাবিব সারোয়ার আজাদ ও আলম শেখ বর্তমানে পলাতক,তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য,চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাবিব সারোয়ার আজাদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে ৬টি চাঁদাবাজি মামলা,৮টি জিডি এন্টিসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাই বড় ধরনের কোন নাশকতা সৃষ্টি করার আগে সন্ত্রাসী হাবিব সারোয়ার আজাদ ও তার সহযোগী আলম শেখকে গ্রেফতার করে এলাকার নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন তাহিরপুর উপজেলার সর্বস্থরের জনসাধারণ।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ