,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

দিনাজপুরে চালের দাম বাড়াতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ

লাইক এবং শেয়ার করুন

আসাদুর রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধি: শস্য ভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরে উৎপাদন মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে ধানের মূল্য তেমনটি না বাড়লেও চালের দাম বেড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। পাইকারী বাজারে বস্তা প্রতি চালের দাম (৫০ কেজি) ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেলেও খুচরা বাজারে বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে ধানের বাজারে খবর নিয়ে জানা যায, গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের বাজারে শুধুমাত্র গুটি স্বর্ণ ধানের দাম প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ৫০ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সে হিসেবে শুধু গুটি স্বর্ণ চালের দাম বাড়ার কথা। কিন্তু বাজারে সব ধরণের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। তারা নিজেরাই সিন্ডিকেট করে নিয়ন্ত্রন করছে ধান ও চালের বাজার। দিনাজপুরে শুরু করেছেন সিন্ডিকেট ব্যবসা।

দিনাজপুরে বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, বাজারে প্রকারভেদে বিভিন্ন প্রকার চালের দাম বেড়েছে বস্তা  প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। তবে সিদ্ধ কাঠারী ও সিদ্ধ বাসমতি চালের দাম বাড়েনি। ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জানান, গত ২০ দিনের ব্যবধানে মিনিকেট চাল বস্তায় ২ হাজার ২০০ টাকারস্থলে ২ হাজার ৬০ টাকা, আঠাশ চাল বস্তা প্রতি ২ হাজার ১ শ টাকারস্থলে ২ হাজার ৭০ টাকা, স্বর্ণ  ও পায়জাম চাল ১ হাজার ৭ শ টাকারস্থলে ১ হাজার ৮ শত টাকা, গুটি স্বর্ণ ১ হাজার ৬ টাকারস্থলে ১ হাজার ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড চাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছেনা।

খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারী বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরী করে ধান মজুদ করে রেখেছেন। এখন বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে ধান উঠছে না। ফলে সেইসব ব্যবসায়ীরা ধান সংকট দেখিয়ে বেশি মূল্যে চাল বিক্রি করছেন। আর সিন্ডিকেট হওয়ায় সকলেই চালের একই মূল্য হাকাচ্ছেন। এতে করে চাল ব্যবসায়ীদেরকে অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশি মূল্যে চাল ক্রয় করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে চালের দাম।
বিরলের চাল ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২০ দিনে ধানের দাম বৃদ্ধি না পেলেও বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরী করে ধান মজুদ করে রেখে বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে যেসব জাতের চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে, সেসব জাতের ধান বাজারে পাওয়া যায়না। তাহলে ধানের দাম বাড়ার সাথে চালের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে কেন?

চাল ক্রয় করতে আসা মো. লুৎফুর রহমান জানান, বাজারে গিয়ে প্রায় বিব্রত হতে হয়। আজ এক দাম তো কাল আরেক দাম। আজহারুল ইসলাম দুলু নামে চালক্রেতা জানান, আমরা নি¤œ আয়ের মানুষ। সম্ভব হয় না একসাথে অনেক চাল কিনে রাখি। ৫/৭ কেজি করে চাল ক্রয় করি। কয়েকদিন থেকেই চালের বাজার বেড়ে গেছে। আরও বাড়বে। কিন্তু আমাদের আয় তো আর বাড়বে না। মো. পারভেজ নামে এক চাল ব্যবসায়ী জানান, আমরা বেশি মূল্যে চাল ক্রয় করেছি বলেই বেশি মূল্যে বিক্রি করতে হয়। বড় বড় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছে আমাদের কিছু করার নেই।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ