,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সুনামগঞ্জে আজ থেকে ৩দিন ব্যাপী ইজতেমা শুরু

লাইক এবং শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ) # সুনামগঞ্জে ইজতেমা আজ বৃহস্পতিবার (৯র্ফেরুয়ারী) ফজর নামাজের পর থেকে শুরু হয়েছে। ১১ই র্ফেরুয়ারী শনিবার ১১টায় আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে। ইজতেমা সফল করার জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। জেলার সদরের মল্লিকপুরে সুরমা নদীর উপর নির্মিত আব্দুল জহুর সেতুর পাশেই তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে কুতুবপুর মাঠে ১৬লক্ষাধিক স্কায়ারফিটের বিশাল এলাকা জুড়ে আগতদের অবস্থান করার জন্য ময়দানের চারদিকে সীমানা নির্ধারন করে প্যান্ডেল নির্মান করা হয়েছে। ইজতেমার অবস্থান কারী মুসল্লিদের বসার প্যান্ডেলের উপরে আকাশি কালারের পোলিষ্টার কাপড় ও তৃপাল নিচে বিছানো হবে এছাড়াও আগত মুসল্লীদের সাথে যার যার আনা বিছানা পত্র।

জেলায় এবার ইজতেমা অনুষ্টিত হওয়ায় জেলার ১১টি উপজেলার ধর্মপ্রান মুসলমানদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দিপনা বিরাজ করছে। ইজতেমা ময়দানে আগতদের জন্য জেলা প্রশাসন,জেলা পরিষদ,পুলিশ প্রশাসন,র‌্যাব,বিজিবি,জেলা সিভিল সার্জন,ফায়ার সাভির্স,জেলা বিদ্যুৎ বিভাগ,সুনামগঞ্জ পৌরসভা,বাস পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংঘটনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সব ধরনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জানাযায়,ইজতেমা ৯,১০,১১ই র্ফেরুয়ারী পর্যন্ত ৩দিন অনুষ্টিত হবে। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০লক্ষাধিক ধর্মপ্রান মুসল্লিদের আগম ঘটবে। বিদেশী মেহমানদের জন্য ময়দানের পাশেই তৈরী করা হয়েছে আলাদা জায়গা। ইজতেমায় দাওয়াতি কাজে জামাতবন্ধী হবে ১২টি দেশের একাধিক জামাত জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদে মসজিদে দাওয়াতি কাজ করছেন। ইজতেমা মাঠ কে উপজেলা অনুসারে রাখা হয়েছে ১১টি কিত্তায়। প্রতি কিত্তাকে একাধিক ভাগ করা হয়েছে। পুরো মাঠ জুড়ে প্রায় ৩২০০টি খুঁটিতে ভাগ করা হয়েছে। একেক খুঁটিতে প্রায় পাঁচশত লোক প্রতি জামাত খুঁটি অনুযায়ী অবস্থান করবে।

ইজতেমায় আগত মুসিল্লীদের জন্য সীমানার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বার্থে মেইন গেইট সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়ক টোল পয়েন্ট ও বৈটাখালি খেয়াঘাট,তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়ক,সুরমা নদীর পাড়ে সহ ৫টি মূল সড়ক রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের বিদ্যুাতের সমস্যা না হওয়ায় জন্য ইজতেমা ময়দানে ৫টি ট্রান্সফামার বসানো হয়েছে,অজু করার জন্য অস্থায়ী ১হাজারের অধিক অজু খানা,অস্থায়ী ১হাজার শৌচাগার ও ১হাজার টয়লেট,বিশুদ্ধ পানির জন্য ৫টি ডিভটিউবয়েল,৩টি পাওয়ার পাম্প,প্যান্ডেলের ভিতরে রাতে আলোর জন্য ২হাজার লাইট,২শতাধিক মাইক,গোসলের জন্য সুরমা নদীতে বিশেষ ব্যবস্থায় নির্মান করা হয়েছে ও মুসল্লিদের রান্না করা সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়াও মাঠের ভিতরে পাঁচটি চলাচলের রাস্তায় নিদের্শনা মতে যোগাযোগ করবেন জামায়াতবন্ধীরা। একেক জামায়াত দায়িত্ব নিদিষ্ট দায়িত্ব পালনে কাজ করবে অসংখ্য জামাত। মুছুল্লিদের পানি সরবারাহে কাজ করবে পানির জামাত,সাউন্ড ও মাইক সরবারাহে থাকবে মাইক জামাত,বয়ান আমলে কাজ করবে জুরনে ওয়ালি জামাত,ইজতেমা শেষে জামাতবন্ধীদের চিল্লা গঠনে কাজ করবে তাশকিল জামাত,মেহমানদের খেদমতে থাকবে একটি জামাত,পথ নিদের্শনায় কাজ করবে একটি জামাত,ইজতেমা মাঠের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে কাজ করবে একটি জামাত,বোবা বা কালা,বাক প্রতিবন্ধী লোকদের বয়ান শুনতে ও বুজানোর দায়িত্বে থাকবে একটি জামাত। এছাড়াও মাঠের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে সেচ্চা শ্রমের ভিত্তিতে।
নিরাপত্তা:প্যান্ডেলের ভিতরে ও বাহিরে নিরাপত্তার স্বার্থে বসানো হয়েছে ৩০সিসি ক্যামেরা,পথ চারিদের নিবির পর্যবেক্ষনের জন্য বসানো হয়েছে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার,নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পাঁচশত পুলিশ সদস্য। মাঠে পুলিশের দুটি কন্ট্রোল রুম। পুলিশ প্রশাসন,র‌্যাব,বিজিবি ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দ সংস্থার অসংখ্য সদস্য মোতায়েন থাকবে।

চেকপোষ্ট: আব্দুর জহুর সেতুর সম্মুখে ও বড়ঘাট এলাকায় বসানো হয়েছে দুটি চেকপোষ্ট। ইজতেমার মাঠের পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা না রাখলেও বিসিক শিল্প নগরী মাঠে আগত মুসল্লিদের যানবাহন রাখার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। মেডিকেল টিম:ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবায় থাকবে একদল দক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে তৈরী মেডিকেল টিম। মুসুল্লিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কয়েকটি পয়েন্টে মেডিকেল টিম কাজ করবে। মুসুল্লিরা বেশী অসুস্ত হলে হাসপাতালে দ্রুত নেওয়ার জন্য সার্বক্ষনিক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারী  হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা শয্যা ছাড়াও অতিরিক্ত শয্যা বাড়িয়ে মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইজতেমায় বয়ান পেশ করবেন: আগত দেশী বিদেশী আলেমগনের মধ্য থেকে কোরআন ও হাদিসের আমল ও সওয়াবের উপর ধারাবাহিক বয়ান অনুষ্টিত হবে। তিন দিনের নছিহত বয়ানে বক্তব্য রাখবেন,ফ্রান্স,ইতালি,কুয়েত,আমেরিকা,পাকিস্তান,যুক্তরাজ্য,ভারত,আরব আমিরাত সহ বিভিন্ন দেশের  বিজ্ঞ আলেমগন। এই তাবলীগ জামায়াতে সালাত,জিকির সহ শীর্ষ আলেমদের মুখে ইমান,তাওহীদ,রিসালাত,আমল সহ গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। 

ইজতেমা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন জানান,এখানে সবাই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় স্থানীয় এলাকাবাসী সহ আগত ধর্মপ্রান মুসল্লীরা বিশিষ্ট আলেমগনের গুরুত্বপূর্ন বয়ান মনযোগ দিয়ে শুনবেন। ইজতেমা শেষে ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্ববাসীর কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যাবেন। ইজতেমায় প্রায় ২০লক্ষাধিক সিলেট বিভাগ সহ দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রান মুসলমানগন উপস্থিত হবে আশা করি। এই ইজতেমায় ১১টি উপজেলার ধর্মপ্রান মুসলমানগন নিজ নিজ উদ্যোগে এখানে এসে প্যান্ডেল বানানোর জন্য বাঁশ, অজুখানা, টয়লেট, শৌচাগার নির্মান সহ সব ধরনের কাজ করছেন। আমরা আশা করি মহান আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির আশায় ইজতেমা সফল ও স্বার্থক হবে।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুর নর রশিদ জানান,ইজতেমায় সার্বক্ষনিক পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য বিচ্চক্ষনতার সাথে নিরাপত্তার কাজ করবে। শুরু থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য ইজতেমা মাঠে মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দ সংস্থা,র‌্যাব,বিজিবি সহ অসংখ্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আগত ধর্মপ্রান মুসল্লিদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান,ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেছি ও সব বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে ইজতেমা শরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুশৃংখল ভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃংখলা রক্ষা করা থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ