,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বগুড়ায় টমটম তৈরী করে দুই শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী

লাইক এবং শেয়ার করুন

হাফিজুর রহমান, বগুড়া : শিশুদের পছন্দের প্রচলিত খেলনাগুলোর মধ্যে বাঁশি, রঙিন বেলুন, খেলনা টমটম, পুতুল, শোলার তৈরি পাখি, ডুগডুগি, ছোট্র গাড়ি। জাতীয় দিবস থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে এসব খেলনা তৈরী ও বিক্রয় হয়ে থাকে। বগুড়ায় শিশুদের খেলনা সামগ্রী টমটম তৈরী স্বাবলম্বী হতে চলেছেন দুই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। তবে সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে খেলনা শিল্পটির মাধ্যমে বেকার নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থান গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন কারিগররা। বছরের ১২মাসের মধ্যে ১১মাসই তৈরী হয় এখেলনা সামগ্রী। জেলার দুপচাচিঁয়া উপজেলার বড়ধাপ গ্রামে ও খোলাশ গ্রামের শতশত পরিবার খেলনা শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত।

যুগের সাথে তালমিলিয়ে প্লাস্টিক খেলনার পাশাপাশি বড়ধাপ ও খোলাশ গ্রামে টমটম, ঘিরনি সহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরি হয়। সংসারের কাজের ফাঁকে খেলনা তৈরী করে নারীরাও স্বাবলম্বী হতে চলেছেন। খেলনা তৈরীর কাজ করে অনেকের বেকারত্ব দূর করেছে। সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় খেলনা তৈরীর কারিগর দুপচাচিঁয়ার বড়ধাপ গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে আজাহার প্রামানিকের সাথে। তিনি নিজ বাড়িতে খেলনা টমটম তৈরীর পাশপাশি হাট ও বাজারে পাইকারি ক্রয়-বিক্রয় করে আসছেন প্রায় একযুগ ধরে।

তিনি এপ্রতিবেদককে জানান, বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১শত টাকা থেকে ১২০টাকা দরে তল্লা, বাসনি ও জাওয়া বাঁশ কিনে এনে টমটম তৈরীর জন্য সাইজমত কেটে নেন। এরপর কাটা বাশগুলো থেকে খেলনা টমটমের ফ্রেম তৈরী করে। পরিত্যাক্ত সুতা দিয়ে ফ্রেম বাধাই করে। এতে হালকা রঙেরও ব্যবহার করে সৌন্দর্য্যরে জন্য। ফ্রেম তৈরী শেষে মাটি দিয়ে খুরি বানিয়ে খুরির উপরে আঠা দিয়ে রঙে রকমারি সাধারন কাগজ দেয়া হয়। বাশের ফ্রেমে মাটির খুরি একসাথে জুড়ালেই খেলনা টমটম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়। একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৭শত থেকে ৮শতটি খেলনা টমটম তৈরী করতে পারে। একেকটি বাঁশ দিয়ে প্রায় ৩শত থেকে ৩৫০টি খেলনা টমটম তৈরী করা যায়। পাইকারি দরে ১হাজার টমটম বিক্রয় হয় ৮শত থেকে ৯শত টাকায়। একজন শ্রমিক খেলনা তৈরী করে প্রতিদিন ৩শত টাকা থেকে ৩২০টাকা পর্যন্ত আয় করে।

খেলনা তৈরীর কারিগর আজাহার প্রামানিক আরও বলেন, খেলনা টমটম তৈরী করে বড়ধাপ ও খোলাশ গ্রামের শতশত পরিবারের নারী পুরুষ এখন স্বাবলম্বী। এশিল্পের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান মিলেছে। সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা পেলে এশিল্পের মাধ্যমে দুপচাঁচিয়া উপজেলার বেকারদের বেকারত্ব ঘুচবে ও কর্মসংস্থান মিলবে। খেলনা কারিগর লুৎফর রহমান, দুলাল হোসেন, সামিরুল, দেলোয়ার দিলু ও মোকলেছুর রহমান বলেন, ১হাজারটি খেলনা টমটম তৈরী কাজে ৫শত টাকা থেকে ৫৫০টাকা খরচ হয়। ১হাজারটি টমটম ৮শত টাকা বিক্রয় হয়। হাট ও বাজারে একেকটি টমটম বিক্রিয় করে ৮-১০টাকায়। বছরে ১১মাসই খেলনা তৈরী করেন কারিগররা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ