,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

লক্ষ্মীপুরে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার হিড়িক

লাইক এবং শেয়ার করুন

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে বন বিভাগের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ সাজসে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার হিড়িক পড়েছে। রাস্তার দু’ধারে লাগানো লাখ লাখ টাকার এসব গাছ এখন কেটে নিয়ে যাচ্ছে লুটেরা। সচেতন মহল মনে করছেন এতে করে উজাড় হচ্ছে বনায়ন আর ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। স্থানীয় বন কর্মকর্তা উপকারভোগীদের ওপর দায় চাপিয়ে বললেন স্বাক্ষ্য প্রমান পেলে  লুটেরাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।  

লক্ষ্মীপুর সদর নার্সারী রেঞ্জ অফিস সুত্রে জানা যায়, সামাজিক বনায়ন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সৌন্দর্যে জেলার বিভিন্ন রাস্তার দু’ধারে গাছ লাগিয়েছে বন বিভাগ। আকাশ মনি, নাটাই, করই, অর্জুন, সেগুন, নিম, ঝাউ ও কাঠাল গাছসহ ২৭ জাতের গাছ লাগানো হয়েছে এসব রাস্তার পাশে। এসব গাছ রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য জমির মালিকানাদেরকে নিয়ে সামাজিক উপকারভোগীদের অংশগ্রহণে কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকারও এ গাছগুলো বিক্রির অর্থ ভোগ করে। যা ভাগ করা হয় বন বিভাগ ১০ পার্সেন্ট, ভূমির মালিকানাধীন ২০ পার্সেন্ট, উপকারভোগীরা ৫৫ পার্সেন্ট, ইউনিয়ন পরিষদ ৫ পার্সেন্ট, বৃক্ষ রোপন তহবিলের জন্য ১০ পার্সেন্ট হারে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের পরাশগঞ্জের রাস্তা এটি। ১৯৯৬ সালে  অন্যান্য রাস্তার মতো স্থানীয় তৈয়ব চৌধুরীর পুলের গোড়া থেকে পরাশগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলো মিটার এ রাস্তার দু’ধারে বন বিভাগ কর্তৃক লাগানো হয়েছে বিভিন্ন জাতের গাছ। যা এখন রাতের অন্ধকারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে লুটেরা। ওই রাস্তাসহ আশে পাশের এলাকা থেকে গত ১ বছরে প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার গাছ তারা কেটে নিয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে কে বা কারা এসব গাছ নিচ্ছেন তা জানেনা কেউ। তারা দিনে দেখেন গাছ আছে আর রাত শেষে সকালে গাছের গোড়া পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানান তারা। গাছ রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য গঠন করা স্থানীয় কমিটির সভাপতি উপকার ভোগী সফিউল্লাহ জানান, বন বিভাগের গাছ কারা কেটে নিয়ে যাচ্ছে তা জানেনা তিনি, তবে বন কর্মকর্তাদের জানালেও কোন প্রতিকার হয়না বলে অভিযোগ করেন এই উপকারভোগী। এদিকে এ প্রতিবেদককে নিজের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একই এলাকার এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় আরিফ এবং তার ভাই নোমান কিল্ডার গার্ডেন দেওয়ার জন্য সরকারি কিছু গাছ কেটে নিয়ে গেছে।     

অপরদিকে অভিযুক্ত আরিফ জানালেন গাছ নিয়ে তার আন্তরিকতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা। তিনি জানান, কুশাখালী ইউনিয়নের পরাশগঞ্জ রাস্তার পাশ থেকে  রাতের আধাঁরে এক শ্রেনীর লোক গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে এলাকাবাসী বন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিলে তারা এসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রমানও পেয়েছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে গত দেড় বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় হাজার গাছ কেটে নিয়ে গেছে। আরিফ আরো জানান, এভাবে রাতের আধাঁরে যদি গাছ কর্ত্বন চলতে থাকে তাহলে অচিরে রাস্তার দু’পাশ বৃক্ষ শুন্য হয়ে পড়বে।     

এবিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর নার্সারী রেঞ্জের সহকারি কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, গাছ রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব হচ্ছে উপকারভোগীদের। তারা সুনির্দিষ্টভাবে কারো বিরুদ্ধে প্রমানসহ অভিযোগ করলে লুটেরাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ