,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বখাটেপনার প্রতিবাদ করায় স্কুল গেটে ছাত্র খুন

লাইক এবং শেয়ার করুন

সাইদুর রহমান: ছাত্রী উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বরিশালে এক স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ওই স্কুল ছাত্রের নাম সাইদুর রহমান হৃদয় গাজী। সে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চিংগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী শাহিন গাজীর ছেলে ও বরিশাল রূপাতলী শহীদ আ. রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। গতকাল সকালে বিদ্যালয়ের মাঠে পার্শ্ববর্তী বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র সাঈদ আবেদীন আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা হৃদয়ের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চিত্কার করলে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির আরেক ছাত্র গোলাম সাজিদ রাফিকেও কুপিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। এরপর সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয়কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রাফি চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারী সাঈদ আবেদীন আবদুল্লাহকে আটক করেছে।

পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রূপাতলী শহীদ আ. রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ও খেলার মাঠ এবং বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনের অংশ (পরেশ সাগর মাঠ) একই জায়গায়। টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেকানিক্যাল বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র সাঈদ আবেদীন আবদুল্লাহ প্রায়ই তার বন্ধুদের নিয়ে ওই মাঠে বসে ধূমপান করত এবং আ. রব সেরনিয়াবাত স্কুলের ছাত্রীদের বিরক্ত করত। বিষয়টি নিয়ে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রূপাতলী শহীদ আ. রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদয় গাজীর সঙ্গে সাঈদ আবেদীন আবদুল্লাহর কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় গাজী ও তার বন্ধুরা সাঈদ আবেদীন আবদুল্লাহকে চড়-থাপড় মারে। এর প্রতিশোধ নিতে সাঈদ ও তার সহযোগীরা গতকাল হৃদয় গাজীকে একা পেয়ে স্কুল মাঠেই হামলা চালায়। এসব কথা সাঈদ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

হৃদয় গাজী মা-মনি কোচিং সেন্টারে (আবাসিক) থেকে পড়াশোনা করত। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নজির হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘হৃদয় খুবই শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী ছিল। সে  স্কুলে ক্লাসের বাইরে কখনই সময় ব্যয় করত না। মাসখানেক আগে হৃদয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছিলাম, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাঈদ নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে হৃদয় আমাকে এড়িয়ে যায়। এরপর আমিও ঘটনাটিকে আর গুরুত্ব দিইনি। তবে এখন ধারণা করছি সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে কেউ তার ওপর হামলা চালাতে পারে। ’

আহত গোলাম সাজিদ রাফি বলে, ‘ক্লাস শেষে পৌনে ১০টার সময় সে খাবার খেতে বাইরে বের হয়। তখন স্কুলের প্রবেশদ্বারে (পরেশ সাগর মাঠ) হৃদয়কে বেশ কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে দেখতে পাই। এরপর আমি চিত্কার দিয়ে সেখানে ছুটে গেলে আমার ওপরও হামলা চালানো হয়। তবে ততক্ষণে অন্য সহপাঠীরা ছুটে আসায় হামলাকারীরা তাকে ফেলে চলে যায়। ’ যারা হামলা করেছে তাদের নাম না জানলেও দেখলে চিনবে বলে জানায় রাফি।

হৃদয় গাজীর বাবা শাহিন গাজী জানান, তাঁর ছেলে পাঁচ বছর ধরে বরিশাল মা-মনি কোচিং সেন্টারে আবাসিক ছাত্র হিসেবে লেখাপড়া করছে। সেখানকার নিয়ম হচ্ছে প্রতি শুক্রবার অভিভাবকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারবে শিক্ষার্থীরা। সে অনুসারে সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি তিনি ছেলেকে ফোন করেছিলেন। তখন সে বলেছিল কোচিং থেকে পিকনিকে যাবে। আর এ জন্য টাকা লাগবে। তিনি সময় মতো টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আর কথা হয়নি। গতকাল ফোন দিয়ে তাকে জানানো হয় তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এসে ছেলের লাশ দেখতে পান। শাহিন গাজী বলেন, তাঁর ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। সে লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকত। জেএসসিতে সে গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে বৃত্তিও পেয়েছে।  

রূপাতলী শহীদ আ. রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন বলেন, ‘ওই জায়গায় প্রায়ই ওই স্কুলের ছেলেরা এসে আড্ডা দেয়। আমি তাদের বারণও করেছি। কারণ তারা এখানে ধূমপান করে। এ নিয়ে আমাদের স্কুলের ছেলেদের সঙ্গে ওই স্কুলের ছেলেদের বাগিবতণ্ডা হওয়ার বিষয়টি আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু বিষয়টি যে হত্যাকাণ্ডে গড়াবে তা কল্পনাও করিনি। ’ তিনি বলেন, হৃদয় গাজী খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। শান্তশিষ্ট এমন একটা ছেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো, যা খুবই মর্মান্তিক।

টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মৃধা বলেন, ‘শুনেছি এক ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে আমাদের স্কুলের ছাত্র সাঈদ আবেদীন আবদুল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ। ’ তিনি বলেন, আজ রবিবার একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা করে ওই ছাত্রসহ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ জানান, স্কুল ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেকানিক্যাল বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র সাঈদ আবেদীন আবদুল্লাহকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। পুলিশ সাঈদের সহযোগীদের আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ