,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

চুয়াডাঙ্গায় গমের আবাদে ব্লাস্ট রোগ

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ রাজন আমান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি # দূর থেকে মনে হবে, গমগুলো পেকে গেছে। সময় হয়েছে কাটার। কিন্তু কাছে গেলে? দেখা যাবে গমের পোয়াতি গাছগুলো অকালেই হলুদ হয়ে মরতে বসেছে। এ রোগের নাম কি? এক বছরেই অধিকাংশ কৃষকই যেনে গেছেন ওই রোগের নাম ‘ব্লাস্ট’। গত বছর ভয়াবহ বিপর্যায়ের পর কৃষি সম্প্রসারণ চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ এলাকার ৭টি জেলা এবার গমের আবাদ করতে বারণ করেন। এরপরও যারা গমের আবাদ করেছেন তাদের এবারও গতবারের মতোই দশা। সবুজ থাকতে থাকতেই কেটে ঢালতে হচ্ছে গরুর নান্দায়। গরু মজা পেলেও গমচাষির মাথায় হাত।

গতবছর চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ উপজেলায় মোট গমের আবাদ করা হয়েছিলো ৫ হাজার ৮শ ১০ হেক্টোর জমিতে। এর মধ্যে ব্লাস্টে গ্রাস করেছিলো ২ হাজার ৩শ ৫০ হেক্টোর জমির গম। বাকি গমের আবাদেও নেমেছিলো ভয়াবহ বিপর্যয়। ব্লাস্ট যেহেতু প্রতিরোধ করা কঠিন, সেহেতু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবার গমের আবাদ মরসুম শুরুতেই কৃষকদের বারণ করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। এরপরও এবার চুয়াডাঙ্গায় গমের আবাদ করা হয়েছে ৬শ ১৯ হেক্টোর জমিতে। বারণ শুনে বা না শুনে গমের আবাদ করে গমচাষিদের অধিকাংশকেই গুনতে হচ্ছে লোকসান। তবে লোকসান এড়ানোর চেষ্টা যে করা যাবে না তা নয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা উপ পরিচালকের পক্ষে উপ সহকারী কৃষি অফিসার মো. মুসলে উদ্দীন বলেছেন, গমের আবাদ না করার জন্য নানাভাবেই কৃষকদের অনুরোধ করা হয়। মসজিদের মাইকে প্রচারের জন্যই মাঠপর্যায়ের সহকারী কৃষি অফিসারদের বলা হয়। এরপরও যারা গমের আবাদ করেছেন, তাদের এখন বলা হচ্ছে ৭ থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে তিনবার নাটিভো নামক ওষুধ ফুলধরার সময় গমের ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে। এতে ব্লাস্ট থেকে গমের আবাদ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবার ৬০, দামুড়হুদাহয় ১৩১, আলমডাঙ্গায় ৪০৮ ও জীবননগর উপজেলায় ২০ হেক্টোর জমিতে গমের আবাদ করা হয়েছে। গতবার যখন জেলায় মোট গমের আবাদ করা হয় প্রায় ৬ হাজার সেখানে এবার মাত্র ৬শ হেক্টোর জমিতে আবাদ করার খবর অতোটা হতাশার নয়। তবে গমের আবাদ এবার শূন্যের কোঠায় থাকলে ধরে নেয়া যেত, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতার আলোছড়িয়েছে। অবশ্য জেনেও অনেকে গমের আবাদ করেছেন, তাদের মধ্যে আলমডাঙ্গা খাদিমরপুর ইউনয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামের আহসান হাবিব বিপলু বলেছেন, খাওয়ার জন্য প্রতিবছরই গমের আবাদ করি। এবারও অল্প করে গম বুনি। না, ঠেকানো গেলো না। ওই রোগে গমের সর্বনাশ করে দিচ্ছে দেখে গমগাছ সবুজ থাকতে থাকতেই কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছি। অনেকেই গরুর ঘাষ হিসেবে বাজারে নিয়ে বিক্রিও করছেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ