AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র যাচাই-বাছাই সম্পন্নের নিশ্চয়তা

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি, জামুকার অন্যতম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র সভাপতিত্বে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম গতকাল শনিবার সকালে শুরু হয়েছে। স্থানীয় এমপি’র উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই দাবির প্রেক্ষিতে এমপির উপস্থিতিতেই যাচাই বাছাই করার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছেন সদস্য সচিব।

উপজেলা পরিষদ হলরুমে সকালে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মাণী ভাতা বিতরণ কমিটির সভাপতি, যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আইয়ুব মিয়া, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক হাওলাদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিনিধি আ. রইচ সেরনিয়াবাত, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মো. লিয়াকত আলী হাওলাদার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিনিধি মো. আবু তাহের মিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্যই এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কমিটির সভাপতি, দক্ষিণাঞ্চলীয় মুজিব বাহিনীর প্রধান, সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি জানান, যে সকল বীর সেনা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, অথচ দীর্ঘদিনেও তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুৃক্ত করতে না পেরে সরকারী নির্দেশে অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়াও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণকারী নামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরমধ্যে অনলাইনে আবেদনকারী ২৪৯জন এবং বিশেষভাবে আবেদনকারী ৪৯জনসহ ২৯৮জন তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীসহ অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজপত্র পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই করা হবে।

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমন জানান, প্রথম দিনে ৫০জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। এরমধ্যে অধিকাংশ উপস্থিত থাকলেও ৩১জন আবেদনকারী বাছাই কমিটির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি আরও জানান, অনলাইনে আবেদনের পরেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উপজেলা যাচাই-বাছাই তালিকায় না থাকা লোকজন বাছাই কমিটির সভাপতি বরাবরে আবেদন করতে পারবেন। কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের আবেদন পুন:মূল্যায়ন করতেও পারেন। সদস্য সচিব আরও জানান, বাছাই প্রক্রিয়া প্রতিদিন চলমান রাখার কথা থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে কমিটির সভাপতির নির্দেশে তার উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ইতোমধ্যেই একটি চক্র বাছাই কমিটির সদস্যদের নাম করে বেশ কিছু আবেদনকারীর কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা আদায় করেছে। ওই চক্রটি যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের আর্থিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন। এ ঘটনায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র মতে, উপজেলায় সম্মাণী ভাতাপ্রাপ্ত ১৪ জনের বিরুদ্ধে সম্মাণী ভাতা বন্ধ ও পূর্ণাঙ্গ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইয়ুব মিয়াসহ ৪১জন মুক্তিযোদ্ধা তৎকালীন সম্মাণী ভাতা বিতরণ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।

তাদের অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন- চৌদ্দমেধা গ্রামের জগদীশ মন্ডল, বড় বাশাইল গ্রামের রাবেয়া বেগম, বসুন্ডা গ্রামের আ. আজিজ মোল্লা, পশ্চিম সুজনকাঠি (মোল্লাপাড়া) গ্রামের আইউব আলী মৃধা, চেঙ্গুটিয়া গ্রামের নাসিমা বেগম, বাগধা গ্রামের আ. রহমান মিয়া, নগরবাড়ি গ্রামের জিএম আবু বকর সিদ্দিক, পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের আমিরুন্নেছা বেগম, তালুকদার আ. আজিজ, মমতাজ বেগম, কালুপাড়া গ্রামের আ. সরদার, মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান মৃধা, চেঙ্গুটিয়া গ্রামের আ. খালেক সরদার, ফুল্লশ্রী গ্রামের দাস সঞ্জয় কুমার।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ